স্ত্রীর পক্ষ থেকে বিবাহবিচ্ছেদের বা ডিভোর্সের হুমকি পেয়ে চরম পদক্ষেপ নিয়েছেন পুরান ঢাকার এক যুবক। শাহাদত হোসেন (৩২) নামের ওই ব্যক্তি নিজের শরীরে আগুন ধরিয়ে দিয়েছেন বলে জানা গেছে। বর্তমানে তিনি আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

হাসপাতালের চিকিৎসকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আগুনে শাহাদতের শরীরের প্রায় ৯৭ শতাংশ পুড়ে গেছে। শুক্রবার সন্ধ্যায় পুরান ঢাকার লালবাগের পোস্তা এলাকায় এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে।

ঘটনার পর সন্ধ্যায় দুই ব্যক্তি দগ্ধ শাহাদতকে উদ্ধার করে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে নিয়ে আসেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শাহাদত হোসেন মুক্তকণ্ঠকে বলেন, “আমি লালবাগের পোস্তায় শ্বশুরবাড়িতে থাকি। আমার স্ত্রী জেসমিন বেগম আমাকে ডিভোর্স দিতে চান। এ নিয়ে বিরোধের জেরে ক্ষোভে আমি শ্বশুরবাড়ির ভেতরেই নিজের গায়ে আগুন দিয়ে দিই।” এতে তাঁর পুরো শরীর পুড়ে যায়। তবে তিনি আরও একটি গুরুতর অভিযোগ করেন। শাহাদতের দাবি, তাঁর শরীরে আগুন লাগার পর শ্বশুরবাড়ির কোনো সদস্যই তা নেভাতে এগিয়ে আসেননি।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের আবাসিক চিকিৎসক মো. হারুনুর রশিদ মুক্তকণ্ঠকে বলেন, “আগুনে শাহাদতের শরীরের ৯৭ শতাংশ পুড়ে গেছে। তাঁর অবস্থা অত্যন্ত সংকটজনক।”

এদিকে ঘটনার রহস্য উদঘাটনে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। ঢাকা মেডিকেল পুলিশ ক্যাম্পের পরিদর্শক মো. হাবিবুর রহমান জানান, যে দুই ব্যক্তি শাহাদতকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে এসেছিলেন, তাঁরা ওষুধ কেনার কথা বলে বাইরে গিয়ে আর ফিরে আসেননি। বিষয়টি গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখার জন্য ইতিমধ্যে চকবাজার থানাকে অবহিত করা হয়েছে।