বর্তমান সময়ে চারপাশের পরিবেশ লক্ষ্য করলে দেখা যায়, ডিভোর্সের এক প্রবল হাওয়া বইছে। কে কাকে ডিভোর্স দিল, কেন দিল কিংবা কে আগে উদ্যোগ নিল—এই সব বিষয় নিয়ে সাধারণ মানুষের কৌতূহলের শেষ নেই। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক খুললেই মনে হয়, বিয়ের পরবর্তী অনিবার্য ধাপটি যেন কেবল ডিভোর্সই!

তবে লেখক দাবি করছেন, বিয়ে না করেও ডিভোর্স দেওয়া সম্ভব। তিনি নিজেই তার এক জ্বলন্ত উদাহরণ। লেখকের ডিভোর্স হয়েছিল তার দীর্ঘদিনের সঙ্গী পড়ালেখার সঙ্গে।

স্মৃতিচারণ করে তিনি জানান, শৈশবে পড়ালেখার সঙ্গে তার সম্পর্কটি বেশ মধুর ছিল। প্রতিদিন তাদের দেখা হতো, দীর্ঘ সময় একসঙ্গে কাটত এবং পরীক্ষার আগের রাতগুলোতে জেগে কথা হতো। এই সম্পর্কের গভীরতা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে, লেখকের বাবা-মা পর্যন্ত এই সম্পর্কের বিষয়ে যথেষ্ট সিরিয়াস ছিলেন। পড়ালেখার সঙ্গে এমন মাখো মাখো প্রেম থাকা সত্ত্বেও এক সময় লেখক এক কঠিন সিদ্ধান্ত নিলেন—আর না! এই সম্পর্কটি তার জন্য নয়।

সেই মুহূর্তে তিনি পড়ালেখাকে সরাসরি বলেছিলেন, ‘তোমার আমার এই সম্পর্কটা আর এগিয়ে নেওয়া যাচ্ছে না।’

বলা হয়ে গেল, কিন্তু পড়ালেখা কোনো কথা বলল না। কেবল চুপচাপ লেখকের সামনে বসে রইল। লেখক ধরে নিলেন, ডিভোর্স হয়ে গেছে।

এরপর তিনি নতুন জীবন শুরু করলেন। প্রথম কয়েক দিন বেশ ভালোই কাটল। মনে হলো, আহা, কী শান্তি! বইয়ের কোনো চাপ নেই, পরীক্ষার কোনো ভয় নেই, আর কেউ এসে জিজ্ঞেস করছে না, ‘আজ কী পড়েছ?’ লেখকের মনে হয়েছিল, অবশেষে তিনি মুক্তি পেলেন।

কিন্তু এখানেই ছিল বড় ভুল। পড়ালেখা মাঝেমধ্যে হঠাৎ পরীক্ষার প্রশ্নপত্রের মতো সামনে এসে দাঁড়ায়। কোনো চাকরির বিজ্ঞপ্তি দেখলেই মনে মনে প্রশ্ন করে, ‘এই যোগ্যতাটা আছে?’ আবার কোনো নতুন কোর্স দেখলেই মনে হয়, ‘এটা শিখবে না?’ লেখকের মতে, এই প্রশ্নটাই সবচেয়ে ভয়ংকর।

তিনি আক্ষেপ করে বলেন, বিয়ের ক্ষেত্রে মানুষ ডিভোর্স দিলে অন্তত প্রাক্তন স্বামী বা স্ত্রীকে ব্লক করা যায়। কিন্তু পড়ালেখাকে ব্লক করা কীভাবে সম্ভব? ফেসবুকে ব্লক করলে গুগল থেকে চলে আসে। গুগল বন্ধ করলে ইউটিউবে দেখা দেয়। আর ইউটিউব বন্ধ করলে চাকরির বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সামনে চলে আসে! লেখক উপলব্ধি করেন, তিনি পড়ালেখাকে ডিভোর্স দিয়ে থাকলেও পড়ালেখা তাকে ডিভোর্স দেয়নি।

তিনি এখন কেবল সেপারেশনে আছেন। সম্পর্কটি এখনো চলছে, তবে এখন দেখা হলেই দুজন দুদিকে তাকিয়ে থাকেন। লেখক যতই এড়িয়ে চলার চেষ্টা করেন, পড়ালেখা ততই তাকে অনুসরণ করে। তার মনে হয়, এই ডিভোর্স হয়তো আদালতে হয়েছে, কিন্তু ডিক্রি এখনো কার্যকর হয়নি।

তবে একটি বিষয়ে তিনি পড়ালেখার প্রশংসা করেন। সাধারণত বিয়ের সম্পর্ক ভেঙে গেলে মানুষ বলে, ‘সব শেষ।’ কিন্তু পড়ালেখার সম্পর্ক ভেঙে গেলেও পড়ালেখা বলে, ‘শেষ বলে কিছু আছে নাকি! আবার শুরু করো!’

সমস্যাটি হলো, লেখক যতবার নতুন করে শুরু করতে যান, পড়ালেখা ততবার তাকে মনে করিয়ে দেয়, ‘এত দিনের বকেয়া সব আগে কড়ায়গন্ডায় শোধ করো, নয়তো কিছুই মিটমাট হবে না!’

পরিশেষে লেখক বুঝতে পেরেছেন, ডিভোর্স হলেও পড়ালেখা আসলে কখনোই প্রাক্তন হয় না। বরং এটি হয়ে দাঁড়ায় আজীবনের এক দায়!