নেত্রকোনায় সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান ফকির আলিফকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় তীব্র নিন্দা প্রকাশ করেছে সাংবাদিকদের বৈশ্বিক সংগঠন দ্য ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব জার্নালিস্টস (আইএফজে)। একই সাথে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের দ্রুত এবং বিস্তারিত তদন্ত করার আহ্বান জানিয়েছে ব্রাসেলসভিত্তিক এই আন্তর্জাতিক সংগঠনটি।
শুক্রবার আইএফজের নিজস্ব ওয়েবসাইটে প্রকাশিত একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই প্রতিক্রিয়া জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয় যে, বাংলাদেশে তাদের সহযোগী সংগঠন বাংলাদেশ মানবাধিকার সাংবাদিক ফোরামের (বিএমএসএফ) সাথে একাত্ম হয়ে লুৎফুজ্জামান ফকির হত্যার নিন্দা জানানো হয়েছে এবং দোষীদের শাস্তির জন্য তদন্তের দাবি তোলা হয়েছে।
আইএফজের মহাসচিব অ্যান্থনি বেলাঙ্গার এই ঘটনার তীব্র সমালোচনা করে বলেন, “সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান ফকির আলিফের এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর সরাসরি ও ভয়াবহ এক আঘাত। দেশে গণতান্ত্রিক উত্তরণ চলছে। এরপরও সাংবাদিকদের ওপর অপরাধের ক্ষেত্রে বিচারহীনতার সংস্কৃতি রয়ে গেছে। ফলে গণমাধ্যমকর্মীদের জন্য বাংলাদেশ এখনো বিপজ্জনক একটি জায়গা।”
আইএফজের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, নিহত লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকির বেসরকারি আইপিটিভি (ইন্টারনেট প্রটোকল টেলিভিশন) চ্যানেল রূপসী বাংলার নেত্রকোনা প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত ছিলেন। গত ১৫ অক্টোবর রাত আটটার দিকে নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার শ্যামগঞ্জ-বিরিশিরি সড়কের উত্তরাইল বাজারে তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি চালায় অজ্ঞাতপরিচয় দুই বন্দুকধারী। হামলার পরপরই মোটরসাইকেলে করে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় হামলাকারীরা। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত আলিফকে উদ্ধার করে উপজেলা হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার শাকের আহমেদ জানিয়েছেন, বন্দুকধারীদের চালানো এই হামলায় আলিফের ঘাড়, মাথা ও বুকে গুলির অন্তত তিনটি ক্ষত পাওয়া গেছে। বর্তমানে বন্দুকধারীদের শনাক্ত করতে এবং এই হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে পুলিশের পক্ষ থেকে তদন্ত কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।
জানা গেছে, আইপিটিভিতে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি আলিফ ‘ডিটেকটিভ আর্টিকেল’ নামে একটি ফেসবুক পেজ পরিচালনা করতেন। ওই পেজে তিনি বিভিন্ন দুর্নীতি, অনিয়ম ও অপরাধসংক্রান্ত সন্দেহভাজন কর্মকাণ্ড নিয়ে নিয়মিত অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করতেন। উল্লেখ্য, আলিফ যে সপ্তাহে হত্যার শিকার হন, সেই সপ্তাহেই তিনি মাদক পাচার ও স্থানীয় চোরাচালান চক্রের বিষয়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ অনুসন্ধানী তথ্য প্রকাশ করেছিলেন।
এর আগে ২০২৫ সালের ১০ নভেম্বর এক ভয়াবহ হামলা থেকে অল্পের জন্য বেঁচে গিয়েছিলেন এই সাংবাদিক। সেদিন দুর্গাপুরে সোমেশ্বরী নদীর তেরীবাজার ঘাটের কাছে তাঁকে ছুরিকাঘাতে জখম করা হয়। তবে সেই ঘটনার হামলাকারীদের পরিচয় এখন পর্যন্ত শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।