আজ ১৬ অক্টোবর, বিশ্বব্যাপী পালিত হচ্ছে ‘বিশ্ব খাদ্য দিবস’। মূলত ক্ষুধা ও অপুষ্টির অভিশাপ দূর করা, খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং প্রতিটি মানুষের জন্য পুষ্টিকর খাবারের সহজলভ্যতা বৃদ্ধির লক্ষ্য নিয়ে প্রতি বছর এই বিশেষ দিনটি পালন করা হয়।
চলতি বছরের এই দিবসের নির্ধারিত প্রতিপাদ্য হলো ‘আজকের উদ্ভাবন, আগামীর পুষ্টি’। বর্তমান সময়ে বিশ্বের বিশাল এক জনগোষ্ঠী এখনো জীবনধারণের জন্য প্রয়োজনীয় পর্যাপ্ত খাবার এবং পুষ্টির অভাবের সাথে লড়াই করছে। বিশেষ করে খাদ্যের আকাশচুম্বী মূল্য, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব এবং চরম দারিদ্র্য এই সংকটকে দিন দিন আরও প্রকট করে তুলছে। এই প্রতিকূল পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে সারাবিশ্বে একটি টেকসই কৃষিব্যবস্থা গড়ে তোলা, খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি এবং খাদ্যের অপচয় রোধ করার প্রয়োজনীয়তাকে সামনে রেখে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা এই দিনটি পালনের উদ্যোগ নেয়।
উল্লেখ্য যে, ১৯৪৫ সালের ১৬ অক্টোবর জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। সেই প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর স্মৃতিকে অম্লান রাখতে ১৯৮১ সাল থেকে প্রতি বছর এই দিবসটি পালন করা হয়ে আসছে। দিবসটি শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাবার সবার দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ১৯৭৯ সালে হাঙ্গেরির তৎকালীন কৃষি ও খাদ্যমন্ত্রী পল রোমানি প্রথম বিশ্ব খাদ্য দিবস পালনের প্রস্তাবনা পেশ করেন। ওই বছর এফএও’র সম্মেলনে আলোচনার পর ১৬ অক্টোবর দিনটিকে দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এরপর ১৯৮১ সাল থেকে প্রতি বছর নির্দিষ্ট প্রতিপাদ্যের আলোকে বিশ্বজুড়ে এই দিবসটি পালিত হয়ে আসছে। এর মূল উদ্দেশ্য হলো খাদ্যকে মানুষের মৌলিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া এবং বৈশ্বিক উন্নয়নের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে বিবেচনা করার বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া।
এফএও-র দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বর্তমানে বিশ্বে ৬৪৫ মিলিয়ন মানুষ ক্ষুধার সাথে যুদ্ধ করছেন এবং প্রায় ২.৬৯ বিলিয়ন (২৬০ কোটি) মানুষের পুষ্টিকর খাবার কেনার মতো আর্থিক সামর্থ্য নেই। এই তথ্য প্রমাণ করে যে, বিশ্বব্যাপী খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি পেলেও সবার জন্য পর্যাপ্ত ও পুষ্টিকর খাবার নিশ্চিত করা এখনো একটি বিশাল চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে।
তবে কেবল উৎপাদন বাড়ানোই যথেষ্ট নয়, বিশ্বব্যাপী খাদ্যের অপচয় রোধ করাও এই দিবসের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। এর পাশাপাশি কৃষকদের উৎপাদিত ফসলের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করা, আধুনিক ও উন্নত সংরক্ষণব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থার বিদ্যমান দুর্বলতাগুলো দূর করা অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করা হয়।
অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও কৃষি মন্ত্রণালয় ও এফএও’র যৌথ উদ্যোগে বিভিন্ন আলোচনা সভা ও কর্মসূচির মাধ্যমে দিবসটি পালন করা হচ্ছে। এই দিবসটি উপলক্ষে শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সকালে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল মিলনায়তনে একটি বিশেষ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বাংলাদেশ সরকারের কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ।