স্বাস্থ্য খাতের বদলি ও পদায়ন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে একটি নতুন অটোমেশন পদ্ধতি চালু করেছে সরকার। এই প্রক্রিয়ার প্রথম ধাপ হিসেবে ৯৫ জন জুনিয়র কনসালট্যান্ট চিকিৎসককে বদলি ও পদায়ন করা হবে। তবে পরিকল্পনা রয়েছে যে, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের আওতাধীন সকল পদের বদলি ও পদায়নকে পর্যায়ক্রমে এই অটোমেশন ব্যবস্থার আওতায় আনা হবে।

আজ বৃহস্পতিবার সরকারি সচিবালয়ে এই অটোমেশন ব্যবস্থার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মোহাম্মদ সাখাওয়াত হোসেন।

এই উদ্যোগটিকে একটি ঐতিহাসিক পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আজকে আমরা উপজেলা লেভেলে ৯৫ জন চিকিৎসককে অটোমেশন পদ্ধতিতে বদলি করতে চাচ্ছি, যেখানে কোনো পক্ষপাতিত্ব থাকবে না।’

চিকিৎসকদের নিজ নিজ উপজেলায় পদায়নের বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, ‘এটা আমরা পরবর্তীতে করব। ডাক্তারদের সেন্টিমেন্ট অনুযায়ী যার যার উপজেলায় দেওয়ার একটা নির্দেশনা আছে। অটোমেশনে যদি অন্য খানে পড়ে, আমরা খুঁজে দেখব কার উপজেলা কোনটা, নিজ নিজ উপজেলায় আমরা দেব।’

স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও জানান, এই প্রক্রিয়ায় প্রথমে ৯৫ জন চিকিৎসকের বদলির ফলাফল পর্যবেক্ষণ করা হবে এবং তার ওপর ভিত্তি করে ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া হবে। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘পুরো মন্ত্রণালয়কে আমরা অটোমেশন পদ্ধতিতে আনতে পারি।’

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত উল্লেখ করেন যে, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই স্বাস্থ্য খাতে ব্যাপক পরিবর্তন, সংস্কার এবং অনিয়ম দূর করে সবকিছু নিয়মের আওতায় আনার জন্য নিরলস প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ নির্দেশনায় বদলি ও পদায়নের এই অটোমেশন ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে বলে তিনি জানান।

স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের উপসচিব ডা. উম্মেহানী বলেন, সরকারি কার্যক্রমের মধ্যে অটোমেশন নিশ্চিত করা এবং প্রশাসনিক প্রক্রিয়াকে আরও আধুনিক, স্বচ্ছ ও গতিশীল করে তোলা সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার।

তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, সম্পূর্ণ ডিজিটাল পদ্ধতিতে মেধা, জ্যেষ্ঠতা এবং স্বচ্ছতার ভিত্তিতে নির্ধারিত মানদণ্ড অনুসরণ করে এখন থেকে বদলি ও পদায়ন কার্যক্রম পরিচালিত হবে।