বলিউড সুপারস্টার সালমান খানের ব্যক্তিগত জীবন এবং তাঁর চারপাশের নানা ঘটনা সবসময়ই ভক্তদের কাছে কৌতূহলের বিষয়। সম্প্রতি নিজের শোবার ঘরে এক রহস্যময় ও অদৃশ্য উপস্থিতির কথা জানিয়েছেন এই অভিনেতা। তাঁর দাবি, মুম্বাইয়ের গ্যালাক্সি অ্যাপার্টমেন্টের সেই ঘরে তিনি কখনোই নিজেকে একা মনে করেননি; বরং সবসময় অদৃশ্য কারও অস্তিত্ব অনুভব করতেন। কখনও ঘর থেকে বেরোনোর সময় আলো আপনাআপনি জ্বলে-নিভে উঠত, আবার কখনও without কোনো কারণ ছাড়াই আলমারির দরজা খুলে যেত। এমনকি মিউজিক সিস্টেমও নিজে থেকেই চালু হয়ে যেত বলে জানান তিনি। করণ জোহরের জনপ্রিয় টক শো ‘কফি উইথ করণ’-এর নবম মৌসুমে অতিথি হয়ে এসব অদ্ভুত অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করেন সালমান। তবে এই ঘটনাগুলো তাঁকে খুব একটা আতঙ্কিত করত না বলে উল্লেখ করেন অভিনেতা।

অনুষ্ঠানে সালমান বলেন, ‘কাউকে দেখিনি, শুধু শুনেছি ও অনুভব করেছি’। এই আলোচনার সূত্র ধরে করণ জোহর প্রথমবার সালমানের বাড়িতে যাওয়ার স্মৃতিচারণা করেন। ‘কুছ কুছ হোতা হ্যায়’ সিনেমায় একটি বিশেষ চরিত্রে অভিনয়ের প্রস্তাব দিতে গিয়েছিলেন তিনি। সেই সময়ে সালমান তাঁর বাবা সেলিম খান, মা সালমা খান এবং দুই ভাই আরবাজ ও সোহেল খানের সঙ্গে গ্যালাক্সি অ্যাপার্টমেন্টে বসবাস করতেন।

করণ জানান, সালমানের শোবার ঘরটি দেখে তিনি বেশ অবাক হয়েছিলেন। ঘরটি ছিল আকারে বেশ ছোট, যেখানে ছিল মাত্র একটি বিছানা ও একটি আলমারি। এই প্রসঙ্গেই সালমান তাঁর অদ্ভুত অভিজ্ঞতার কথা বলেন। তাঁর ভাষ্যে, ‘আমি কখনো ওই ঘরে একা থাকিনি। সব সময় আমার সঙ্গে এমন কেউ থাকত, যাকে আমি কখনো দেখিনি। শুধু তার উপস্থিতি অনুভব করেছি, আর পেছন থেকে নানা শব্দ শুনেছি।’

অভিনেতা আরও বিস্তারিত জানান, ‘যখনই ঘর থেকে বের হতাম, আলো জ্বলে-নিভে উঠত। আলমারির দরজা নিজে থেকেই খুলে যেত। মিউজিক সিস্টেমও নিজের থেকে চালু হয়ে যেত। বাথরুমে থাকলেও মনে হতো, বাইরে কেউ আছে এবং আলমারি নিয়ে নাড়াচাড়া করছে।’

সালমানের কথা শুনে করণ জোহর জানতে চান, তিনি কি ঘরটিকে ভুতুড়ে মনে করতেন? উত্তরে অভিনেতা জানান, তিনি বিষয়টিকে সরাসরি ভূতের উপস্থিতি হিসেবে দেখেননি, বরং সেখানে অদৃশ্য কারও অস্তিত্ব অনুভব করতেন। সালমান বলেন, ‘ভুতুড়ে বলব না, তবে একটা উপস্থিতি অনুভব করতাম। যখন গান বাজাতাম, মনে হতো কেউ আমার পেছনে দাঁড়িয়ে আছে। তাই তার জন্য গান বাজিয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে আসতাম।’

ঘরের বাইরে একটি বিলিয়ার্ড টেবিল ছিল বলেও জানান অভিনেতা। সেখানে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে খেলার সময়ও মাঝেমধ্যে তাঁর মনে হতো, ঘরের ভেতরে কেউ একজন রয়েছে। তবে এসব ঘটনায় তিনি কখনো ভয় পাননি। তাঁর কথায়, ‘ওটা আমাকে কখনো ভয় দেখায়নি, কোনো ক্ষতিও করেনি। আমার শুধু একটা অনুরোধ ছিল—তুমি যদি সত্যিই খুব সুন্দরী কোনো নারী হও, তাহলে সামনে এসে দেখা দাও।’

অনুষ্ঠানে করণ জোহর ও সালমান খানের আলোচনায় ১৯৯৮ সালের ব্লকবাস্টার সিনেমা ‘কুছ কুছ হোতা হ্যায়’-এর স্মৃতিও উঠে আসে। শাহরুখ খান, কাজল ও রানি মুখার্জি অভিনীত এই ছবিতে আমান চরিত্রে বিশেষ অভিনয় করেছিলেন সালমান। ছবিতে আমান ছিলেন কাজলের অভিনীত চরিত্রের বাগ্‌দত্তা। করণ জানান, সালমানকে ছবির প্রস্তাব দেওয়ার সময় তিনি চিত্রনাট্যের কেবল প্রথমার্ধ শুনিয়েছিলেন এবং তাতেই অভিনেতা রাজি হয়ে যান। অথচ ছবির দ্বিতীয়ার্ধ তখনো তাঁর শোনা হয়নি।

করণ আরও স্মরণ করেন, সে সময় সালমানের সঙ্গে দেখা করতে এবং নিজেদের সিনেমার গল্প শোনাতে আরও অনেক প্রযোজক ও পরিচালক বাইরে অপেক্ষা করছিলেন। তাঁদের সামনে সালমান এমনভাবে মন্তব্য করেছিলেন, যেন তিনি পুরো চিত্রনাট্যই পড়ে ফেলেছেন। তিনি বলেছিলেন, ‘দ্বিতীয়ার্ধটা কী দারুণ লিখেছ!’

সালমান অনুষ্ঠানে আরও জানান, আমান চরিত্রটির প্রস্তাব প্রথমে ফিরিয়ে দিয়েছিলেন সাইফ আলী খান ও চন্দ্রচূড় সিংয়ের মতো অভিনেতারা। শেষ পর্যন্ত এই চরিত্রটি সালমানের ক্যারিয়ারের অন্যতম স্মরণীয় বিশেষ উপস্থিতিতে পরিণত হয়।

বর্তমানে পেশাগত জীবনে অত্যন্ত ব্যস্ত সময় পার করছেন সালমান খান। তাঁর আগামী সিনেমা ‘মাতৃভূমি’। অপূর্ব লাখিয়ার পরিচালনায় এই ছবিটিতে আরও অভিনয় করছেন চিত্রাঙ্গদা সিং। তবে সিনেমাটির মুক্তির তারিখ এখনো ঘোষণা করা হয়নি।

এছাড়া প্রযোজক দিল রাজুর সঙ্গে তাঁর একটি নতুন প্রকল্পের কথা জানা গেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, সিনেমাটির সম্ভাব্য নাম ‘মনস্টার’। বংশী পৈডিপল্লির পরিচালনায় এই ছবিতে সালমানের বিপরীতে অভিনয় করবেন নয়নতারা। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে, ২০২৭ সালের ঈদে ছবিটি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেতে পারে।