হবিগঞ্জ জেলা কারাগারে বন্দী থাকা মাদক মামলার এক আসামির মৃত্যু হয়েছে। মৃত ব্যক্তির নাম এনামুল হাসান (৩২)।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) ভোরে তিনি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। এরপর তাকে হবিগঞ্জের ২০০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, তবে হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তার মৃত্যু ঘটে। অন্যদিকে, নিহতের স্বজনরা এই মৃত্যুর পেছনে ভিন্ন কারণ দাবি করেছেন। তাদের অভিযোগ, কারাগারে তাকে নির্মমভাবে মারধর করে হত্যা করা হয়েছে এবং তার মৃতদেহে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে।
মৃত এনামুল হাসান চুনারুঘাট উপজেলার দেওরগাছ ইউনিয়নের রহমতাবাদ গ্রামের আব্দুর রফিকের ছেলে। কারা কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ জুলাই একটি মাদক মামলায় তাকে হবিগঞ্জ জেলা কারাগারে প্রেরিত হয়।
কারা কর্তৃপক্ষ ঘটনার বিবরণ দিয়ে জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার ভোরে ঘুম থেকে ওঠার পর এনামুল বুকে ব্যথা অনুভব করেন। বিষয়টি জানতে পেরে তাকে দ্রুত কারাগারের নিজস্ব হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করেন। কিন্তু রোগীর অবস্থার অবনতি হতে থাকলে তাকে দ্রুত হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। তবে হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তার মৃত্যু হয় এবং সদর হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এদিকে মৃত্যুর সংবাদ পেয়ে হাসপাতালে ছুটে আসেন এনামুলের মা, ভাইসহ অন্যান্য স্বজনরা। সেখানে তারা অভিযোগ করেন যে, এনামুলকে কারাগারের ভেতরে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে।
নিহতের বড় ভাই কামরুল হাসান বলেন, “আমার ছোট ভাই ভোর ৫টার দিকে মারা গেছে, অথচ আমাদের খবর দেওয়া হয়েছে সকাল ৯টার দিকে। লাশের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে আমাদের ধারণা।” ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনের জন্য তিনি প্রশাসনের কাছে একটি সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানান।
হবিগঞ্জ জেলা কারাগারের জেল সুপার শংকর কুমার মজুমদার জানান, ভোরে বুকে ব্যথা অনুভব করায় এনামুলকে প্রথমে কারা হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হতে দেখে তাকে সদর হাসপাতালে পাঠানো হয় এবং পথেই তার মৃত্যু ঘটে।