নীলফামারীতে মাদক মামলার এক আসামিকে পুলিশের হেফাজত থেকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগে মোট ৩৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

রোববার (৪ অক্টোবর) বিকেলে নীলফামারীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) এ বি এম ফয়জুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শনিবার (৩ অক্টোবর) বিকেল ৩টার দিকে ডিমলা থানার মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের একটি মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া সুজন ইসলামকে আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছিল। তাকে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) কার্যালয় থেকে নিয়ে যাওয়ার সময় পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে একদল ব্যক্তি হঠাৎ পুলিশের গাড়ির পথরোধ করেন।

পুলিশের দাবি অনুযায়ী, ওই ব্যক্তিরা সুজন ইসলামকে পুলিশের হেফাজত থেকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন এবং কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যদের সরকারি দায়িত্ব পালনে বাধা প্রদান করেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে তাদের ধস্তাধস্তি হয় এবং এলাকায় চরম উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। ঘটনার পরপরই ২০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এই ঘটনায় নির্দিষ্ট কিছু ব্যক্তির নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ২০০ থেকে ৩০০ জনকে আসামি করে নীলফামারী সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

পুলিশ আরও জানায়, ঘটনার ভিডিও ফুটেজ ও স্থিরচিত্র অত্যন্ত সতর্কতার সাথে বিশ্লেষণ করে আরও কয়েকজনকে শনাক্ত করা হয়। এরপর রোববার রাত ১টা ৫ মিনিট থেকে ৩টা ৪৫ মিনিট পর্যন্ত ডিমলা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে আরও ১৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর ফলে এই মামলায় মোট গ্রেপ্তারের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৪ জনে।

গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিদের তালিকায় রয়েছেন আবু সাঈদ (৩০), শফিকুল ইসলাম ওরফে লেবু (৪৫), নুরুজ্জামান (৫০), আফজাল হোসেন (৪৫), সাইফুল ইসলাম (৩২), হৃদয় ইসলাম (২২), সাকিরা (২০), মিরাজ ইসলাম (১৮), মিলন ইসলাম (১৯), আরিফুল ইসলাম (১৯), সাগর দেবনাথ (২২), নাঈম ইসলাম (১৯), মশিউর আলম (৩৬), নাইমুল ইসলাম (২২), সামিনুর ইসলাম (৪৫), আব্দুস সালাম (২৫), মঞ্জুয়ারা বেগম (৪০), লিপন ইসলাম (১৯), মিম হোসেন (২০), শুভ ইসলাম (১৯), আশিকুল ইসলাম (৩৫), গুলজার রহমান (৪৫), শহিদুল ইসলাম (৪৫), আলাউদ্দিন (৫০), মাহফুজার রহমান (১৯), সোহেল (২১), আনোয়ার হোসেন (১৯), ইসলাম (৬৫), সাগর রহমান (২৩), কবিরুল ইসলাম (২৫), মহিকুল ইসলাম (২৫), নুরবান (৫০), দুলালী বেগম (৩৫) এবং রিমু (৩৫)।

এই পুরো বিষয়টি সম্পর্কে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এ বি এম ফয়জুল ইসলাম বলেন, “গ্রেপ্তার ৩৪ জনকে রোববার আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।”