মুক্তকণ্ঠ ট্রাস্টের বিশেষ উদ্যোগের আওতায় বিনামূল্যে মাদকবিরোধী পরামর্শ সহায়তা সভার আয়োজন করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক মাদক বিরোধী দিবস উপলক্ষে ২০২৬ সালের ২৫ জুন মুক্তকণ্ঠের কার্যালয়ে ১৭৮তম অনলাইন পরামর্শ সহায়তা সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত সভায় বিশেষজ্ঞ হিসেবে উপস্থিত থেকে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা প্রদান করেন বিশিষ্ট শিশু-কিশোর ও মনোরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. হেলাল আহমেদ। এবারের সভার মূল প্রতিপাদ্য ছিল ‘বিশ্ব মাদক সমস্যা: চলমান সংকট, নতুন চ্যালেঞ্জ এবং উদ্ভাবনী ফলাফল’। এই আলোচনা থেকে একটি বিশেষ পরামর্শ নিচে তুলে ধরা হলো।
বর্তমান সময়ের এক চরম বাস্তবতা হলো, বাবা-মা এবং সন্তান উভয়ের মনোযোগই এখন ডিজিটাল ডিভাইসের দিকে। সন্তান যখন স্ক্রিন স্ক্রল করে সময় কাটাচ্ছে, তখন বাবা-মাও ফোনে ব্যস্ত থাকেন। এই ডিজিটাল যুগে সন্তানদের জন্য একটি সুষম পরিবেশ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে আমরা কি পিছিয়ে পড়ছি? এই প্রশ্নের জবাবে অধ্যাপক ডা. হেলাল আহমেদ বলেন, ‘আমি বলব আমরা পুরোপুরি পিছিয়ে পড়িনি, তবে আমরা সঠিক ব্যবহারের জায়গা থেকে কিছুটা বিচ্যুত হয়েছি । এই ডিজিটাল মিডিয়া, ইন্টারনেট বা আধুনিক প্রযুক্তি কিন্তু আমাদের সন্তানদের বিকাশের জন্য একটি অত্যন্ত বড় সহায়ক শক্তি । অগ্রসরমান এই পৃথিবীতে তাদের এগিয়ে রাখার জন্য এই ডিভাইসগুলোর সাথে তাদের পরিচিত করাতেই হবে । সমস্যাটা প্রযুক্তিতে নয়, সমস্যাটা হলো আমাদের মাইন্ডসেটে এবং এর ব্যবহারে । তারা কি এটিকে ইতিবাচক ও প্রোডাক্টিভ ওয়েতে ব্যবহার করছে, নাকি নেতিবাচকভাবে ব্যবহার করে নিজেদের ক্ষতি করছে— সেটাই দেখার বিষয়।’
প্রযুক্তির ব্যবহারের ধরন ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘আমি বিষয়টিকে সবসময় একটি বিদ্যুতের তারের সাথে তুলনা করি। বিদ্যুৎ না থাকলে আমরা আলো পেতাম না, ফ্যান চলত না, আধুনিক জীবন অচল হয়ে যেত । কিন্তু তাই বলে কি আমরা বিদ্যুতের খোলা তার হাত দিয়ে স্পর্শ করি? অবশ্যই না। আমরা তারটিকে প্লাস্টিক দিয়ে ঢেকে রাখি, বিদ্যুৎ নিয়ন্ত্রণের জন্য একটি রেগুলেটর, সুইচ বা রিমোট ব্যবহার করি । প্রযুক্তির ব্যবহারটাও ঠিক তেমনি বাবা-মাকে একটু একটু করে ‘রেগুলেট’ বা নিয়ন্ত্রণ করতে হবে । সন্তান যদি সারাদিন শুধু অনলাইন গেমের ভেতরে বা স্ক্রিন স্ক্রলে আটকে থাকে, তবে তার সামাজিক বিকাশ ব্যহত হবে । অতিরিক্ত নেতিবাচক ব্যবহারের কারণে বাচ্চাদের ঘুমের সমস্যা হচ্ছে, রাত জাগছে, দিনে ঘুমাচ্ছে, আচরণ উগ্র বা এগ্রেসিভ হয়ে উঠছে এবং রিলস বা শর্টস দেখে রুচির বিকৃতি ঘটছে । তাই প্রযুক্তিকে বৈরী বা শত্রু না ভেবে, এর ইতিবাচক ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।’