আবাসন খাতের বর্তমান পরিস্থিতি এবং র্যাংগস প্রপার্টিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে কথা বললেন প্রতিষ্ঠানটির শীর্ষকর্তা কাজী আশিক উর রহমান। দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে মানসম্মত ও শৈল্পিক নকশার আধুনিক আবাসন প্রকল্প বাস্তবায়নের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি জানান, তাদের এই যাত্রার মূলে রয়েছে একটি সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য এবং আধুনিক স্থাপত্যের প্রতি অনুরাগ।

প্রতিষ্ঠানের শুরুর কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, “১৯৯৬ সালে আমাদের প্রয়াত চেয়ারম্যান আবদুর রউফ চৌধুরীর দূরদর্শী চিন্তাধারা থেকেই র্যাংগস প্রপার্টিজের যাত্রা শুরু হয়। আমাদের মূল লক্ষ্য কখনোই কেবল কতগুলো বহুতল ভবন তৈরি করা ছিল না; আমরা চেয়েছিলাম দেশের আবাসন খাতে নন্দনতত্ত্ব ও আধুনিক জীবনধারার এক নতুন মানদণ্ড স্থাপন করতে।”

আধুনিক স্থাপত্যের এই ধারা বজায় রাখার রহস্য হিসেবে তিনি প্রতিষ্ঠানটির ‘ইন-হাউস ইকোসিস্টেম’-এর কথা উল্লেখ করেন। তিনি জানান, তাদের নিজস্ব আর্কিটেকচারাল টিম ‘ইনস্পেস আর্কিটেক্টস’, দক্ষ প্রকৌশলী এবং বিক্রয়–পরবর্তী ব্যবস্থাপনা দল সমন্বিতভাবে কাজ করে। এই যৌথ প্রচেষ্টায় প্রতিটি প্রকল্পকে একটি স্বতন্ত্র শিল্পকর্ম হিসেবে গড়ে তোলা হয়। আড়াই দশকেরও বেশি সময় ধরে এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখার ফলে তাদের নির্মাণগুলো কেবল আবাসন নয়, বরং কালজয়ী ল্যান্ডমার্কে পরিণত হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

প্রকল্প নির্বাচনের ক্ষেত্রে কোন বিষয়গুলোকে প্রাধান্য দেওয়া হয়, সেই প্রশ্নের জবাবে কাজী আশিক উর রহমান জানান, তারা তিনটি বিষয়ে কখনোই আপস করেন না—প্রাইম লোকেশন, কাঠামোগত নিরাপত্তা এবং পরিবেশবান্ধব স্থাপত্য। নতুন প্রজন্মের ক্রেতাদের চাহিদার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বর্তমান সময়ের তরুণ পেশাজীবীরা কেবল চারদেয়ালের ফ্ল্যাট নয়, বরং একটি পরিপূর্ণ লাইফস্টাইল হাব খুঁজছেন। মিনিমালিস্টিক ডিজাইন, পর্যাপ্ত প্রাকৃতিক আলো-বাতাস, কাজ ও বিনোদনের জায়গা এবং উন্নত প্রযুক্তির প্রতি তাদের বিশেষ আগ্রহ রয়েছে। গ্রাহকদের এই চাহিদাকে সম্মান জানিয়ে র্যাংগস প্রপার্টিজ তাদের প্রকল্পগুলোতে বুটিক কনসেপ্ট যুক্ত করছে, যার মধ্যে রয়েছে বারান্দা বাগান, দ্বিতলবিশিষ্ট প্রবেশপথ, বিলাসবহুল লাউঞ্জ এবং ছাদে সুইমিংপুল। এর ফলে ভবনের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি গ্রাহকরা পাচ্ছেন সর্বোচ্চ নিরাপত্তাবেষ্টিত আধুনিক পরিবেশ।

ভবিষ্যৎ ও বর্তমানের আইকনিক প্রকল্পগুলো সম্পর্কে তিনি জানান, গুলশান-২-এর ৭৯ নম্বর সড়কে তাদের আবাসিক খাতের ফ্ল্যাগশিপ প্রকল্প ‘দ্য মোনার্ক’ অবস্থিত। এই প্রকল্পে দুটি ভূগর্ভস্থ পার্কিং, গ্রাউন্ড ও মেজানাইনসহ মোট ১২টি তলা রয়েছে এবং প্রতিটি অ্যাপার্টমেন্টের আয়তন প্রায় ৫ হাজার বর্গফুট। বাণিজ্যিক খাতের কথা বলতে গিয়ে তিনি উল্লেখ করেন, গুলশান সাউথ অ্যাভিনিউয়ে নির্মিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক মানের করপোরেট হাব ‘আর কে স্কয়ার’। এছাড়া ধানমন্ডিতে ব্যবসায়িক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে ‘একে স্কয়ার’, যা আধুনিক স্থাপত্যশৈলী ও করপোরেট সুবিধাসম্পন্ন একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা হয়ে উঠছে।

নির্মাণসামগ্রীর মূল্যবৃদ্ধির ফলে আবাসনের খরচ বেড়ে যাওয়া এবং দাম স্থিতিশীল রাখার চ্যালেঞ্জ নিয়ে তিনি বলেন, “বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের কারণে নির্মাণসামগ্রীর মূল্যবৃদ্ধি। এই বিষয়টি আবাসন খাতের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ।” তবে এই সংকট মোকাবিলায় তারা সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা এবং ইন-হাউস সাপ্লাই চেইন দক্ষতা কাজে লাগাচ্ছেন। সঠিক প্রকল্প ব্যবস্থাপনা এবং আধুনিক প্রকৌশল প্রয়োগের মাধ্যমে অপচয় কমিয়ে নির্মাণসামগ্রীর খরচ কিছুটা হ্রাস করা সম্ভব হয়েছে বলে তিনি জানান। এর ফলে মান অক্ষুণ্ণ রেখে ঠিক মূল্যে প্রকল্প হস্তান্তর করা সম্ভব হচ্ছে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।