নিরাপদ আবাসন নিশ্চিতকরণ এবং নির্ধারিত সময়ে প্রকল্প হস্তান্তরের গুরুত্ব নিয়ে এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে এসইএল-এর প্রতিনিধি তাদের ব্যবসায়িক দর্শন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেছেন।
নিরাপদ আবাসন নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এসইএল কোন বিষয়গুলো প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে মেনে চলছে এবং নির্ধারিত সময়ে প্রকল্প হস্তান্তরের নীতি সম্পর্কে জানতে চাইলে আবদুর রহমান বলেন, “প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই আমরা দুটি বিষয়কে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিই—গুণগত মান ও প্রতিশ্রুতি। আমরা নকশাগত সৌন্দর্যের চেয়ে ভবনের অবকাঠামোগত নিরাপত্তাকে আগে প্রাধান্য দিই; কারণ, জীবনের সুরক্ষায় কোনো আপস হতে পারে না। পাশাপাশি মানসম্মত ইলেকট্রিক্যাল, প্লাম্বিং ও অগ্নিনির্বাপণব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়। নির্ধারিত সময়ে প্রকল্প হস্তান্তর আমাদের ব্যবসার মূল ভিত্তি। সময়মতো ফ্ল্যাট না পেলে ক্রেতা বা জমির মালিক আর্থিক ও মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। আমরা নিজস্ব অর্থায়নে কাজ করি; তাই বিলম্ব হলে আমাদেরও লোকসান হয়। সময়মতো হস্তান্তরের এই নীতি উভয় পক্ষের জন্যই লাভজনক।”
ব্যাংকঋণের উচ্চ সুদের কারণে সাধারণ মানুষের ফ্ল্যাট কেনায় যে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়েছে, সে বিষয়ে সরকারি নীতির প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আবাসন একটি মৌলিক চাহিদা। প্রথমত, সরকার নিজে ২৫ বছর মেয়াদি দীর্ঘমেয়াদি ঋণসুবিধাসহ সাশ্রয়ী মূল্যের আবাসন প্রকল্প গ্রহণ করতে পারে। দ্বিতীয়ত, বেসরকারি খাতে ফ্ল্যাট কেনার ক্ষেত্রে ব্যাংকঋণের সুদের হার সহনীয় করা এবং দীর্ঘ মেয়াদে ঋণ পরিশোধের সুযোগ দেওয়া প্রয়োজন। সরকারের নীতিগত সহায়তা পেলে মধ্যবিত্তের জন্য ফ্ল্যাট কেনা সহজ হবে।”
ভূমিকম্প-সহনশীল ভবন নির্মাণে তাদের পদক্ষেপ সম্পর্কে তিনি জানান, ভূমিকম্প-সহনশীলতার ক্ষেত্রে সঠিক স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং উন্নত মানের নির্মাণসামগ্রীর সমন্বয় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, “ডিজাইন দুর্বল হলে ভালো মালামাল ব্যবহার করেও লাভ হয় না। আমরা ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড মেনে ভালো নকশা ও উপকরণ ব্যবহার করি। এ ছাড়া ভবনের ভেতরে নিরাপদ স্থান রাখা এবং বিপদের সময় দ্রুত বের হওয়ার পথ সুনির্দিষ্ট রাখাও আমরা নিশ্চিত করি।”
ঢাকার ভবিষ্যৎ আবাসনে জলাবদ্ধতা, তাপমাত্রা বৃদ্ধি ও উপযোগ সেবার চাপ মোকাবিলায় তাদের প্রস্তুতি সম্পর্কে আবদুর রহমান জানান, বিধিমালা অনুযায়ী প্লটের একটি অংশ উন্মুক্ত রাখা জরুরি যাতে বৃষ্টির পানি মাটিতে শোষিত হতে পারে। তিনি বলেন, “আমরা বাণিজ্যিক স্বার্থের চেয়ে পরিবেশকে প্রাধান্য দিয়ে অনেক প্রকল্পে অতিরিক্ত পার্কিং না করে মাটি উন্মুক্ত রাখি। বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় সুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (এসটিপি) স্থাপন করছি। ঘরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে ভবন এমনভাবে নকশা করি, যেন পর্যাপ্ত আলো-বাতাস পেলে এসির নির্ভরতা কমে। তা ছাড়া পরিবেশবান্ধব ও তাপপ্রতিরোধী ব্লক ব্যবহার করছি।”
বর্তমানে কোন শ্রেণির মানুষের জন্য ফ্ল্যাট নির্মাণ করা হচ্ছে এবং ক্রেতাদের চাহিদার পরিবর্তন সম্পর্কে তিনি বলেন, একক পরিবারের সংখ্যা বাড়ায় এখন মানুষ কম রক্ষণাবেক্ষণযোগ্য ও কম্প্যাক্ট (৯০০-১২০০ বর্গফুট) ফ্ল্যাট পছন্দ করছেন। তিনি আরও জানান, “ক্রেতারা এখন ওপেন কিচেন, ফ্লেক্সিবল ফার্নিচার এবং ভবনের ভেতরে জিম, রানিং ট্র্যাক ও কমিউনিটি স্পেসের মতো যৌথ সুবিধা চান। আমরা এসব আধুনিক চাহিদাকে প্রাধান্য দিয়ে ফ্ল্যাট নির্মাণ করছি।”
নির্মাণসামগ্রীর উচ্চমূল্যের কারণে ফ্ল্যাটের দাম স্থিতিশীল রাখার চ্যালেঞ্জ এবং বিক্রির ওপর এর প্রভাব প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “মালামালের দাম ১০০ টাকা বাড়লে ফ্ল্যাটের দামে প্রভাব পড়ে ২০০ টাকা; কারণ, জমির মালিকের অংশও ডেভেলপারকে তৈরি করতে হয়। জ্বালানি ও পরিবহন খরচ বাড়ায় ফ্ল্যাটের দাম ক্রেতার নাগালের মধ্যে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে, যা বিক্রয়ে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।”
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে তিনি জানান, তারা পরিবেশবান্ধব ‘গ্রিন বিল্ডিং’ নির্মাণের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন। আবদুর রহমান বলেন, “আমরা পরিবেশবান্ধব ‘গ্রিন বিল্ডিং’ তৈরিতে জোর দিচ্ছি। আইএফসির ‘এজ’ (ইডিজিই) সার্টিফায়েড আবাসন প্রকল্পসহ স্মার্ট প্রযুক্তি, সেন্সর লাইট ও বর্জ্য শোধনব্যবস্থার সমন্বয়ে নতুন প্রকল্প নিয়ে আসছি।”