এখন শুধু এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করতে জানলেই হবে না, বরং এআই দিয়ে নিখুঁতভাবে কাজ করিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা থাকতে হবে। যেমন একজন প্রোগ্রামার এখন শুধু নিজে কোড লিখবেন না, বরং এআই দিয়ে লিখিয়ে নিয়ে তা তদারক করবেন। যাঁরা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে সহযোগী হিসেবে ব্যবহার করতে পারবেন, তাঁদের কর্মক্ষেত্রে কদর বাড়বে।

প্রযুক্তির আয়তন যত বাড়ছে, ডিজিটাল তথ্য চুরির ঝুঁকিও তত বাড়ছে। ক্লাউড নিরাপত্তা ও এথিক্যাল হ্যাকিংয়ের (অনুমতি নিয়ে কোনো সিস্টেম বা নেটওয়ার্কের নিরাপত্তার দুর্বলতা পরীক্ষা করে তা ঠিক করার প্রক্রিয়া।) ওপর যাঁদের দখল আছে, এই অস্থির সময়ে তাঁদের চাহিদাও আকাশচুম্বী।

জটিল সব গাণিতিক তথ্য বা ডেটাকে সহজ ভাষায় ব্যবসার উন্নতির জন্য বুঝিয়ে বলতে পারা একটি বড় যোগ্যতা। আপনার বিশ্লেষণ যদি প্রতিষ্ঠানের আয় বাড়াতে বা খরচ কমাতে সরাসরি সাহায্য না করে, তবে সেই তথ্যের কোনো মূল্য নেই।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা অনেক কিছু পারলেও মানুষের মতো আবেগ বুঝতে পারে না। আলোচনা করে সিদ্ধান্তেও আসতে পারবে না। এমনকি নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষমতাও নেই। সহমর্মিতা, সূক্ষ্ম চিন্তা এবং দল পরিচালনা করার ক্ষমতা একজন মানুষকে অপরিহার্য করে তোলে।

পুরো বিশ্বের তথ্য ব্যবস্থাপনা এখন ইন্টারনেটভিত্তিক বা ক্লাউড সিস্টেমে চলে গেছে। যাঁরা গুগল ক্লাউডের মতো সিস্টেমগুলোয় দক্ষ, বড় বড় প্রতিষ্ঠানগুলো তাঁদের সাদরে গ্রহণ করছে।

নির্দিষ্ট একটি বিষয়ে সারা জীবন পার করে দেওয়ার দিন শেষ। এখন আপনাকে দ্রুত নতুন প্রযুক্তি শিখে নিতে হবে। মানসিকতা সেভাবে তৈরি করতে হবে। একটা প্রযুক্তি আসবে, বছরের পর বছর আপনি আগের নিয়মেই পার করে দেবেন; সেই দিন শেষ। বরং চাকরির বাজারে সামনের সারিতে থাকতে হলে আপনাকে সঙ্গে সঙ্গে নতুন প্রযুক্তি শিখে নিতে হবে। নতুন কিছু শেখার আগ্রহই আপনাকে এই প্রতিযোগিতায় টিকিয়ে রাখবে।

কর্মক্ষেত্রের ধরন পাল্টাচ্ছে ঠিকই, কিন্তু সুযোগ শেষ হয়ে যাচ্ছে না। কোম্পানিগুলো এখন এমন চৌকস কর্মী খুঁজছে, যাঁরা একাই অনেক ধরনের কাজ সামলাতে পারবেন। তাই নিজেকে সময়োপযোগী করে গড়ে তুলুন। সমুদ্রের ঢেউকে ভয় না পেয়ে বরং সেই ঢেউয়ের ওপর দিয়ে এগিয়ে যাওয়ার কৌশল শিখুন।

সূত্র: মিডিয়াম