সরকারি চাকরিতে কর্মরত থাকা অবস্থায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) চরফ্যাশন উপজেলা আহ্বায়ক কমিটিতে পদ গ্রহণ করার অভিযোগে সাময়িক বরখাস্ত হয়েছেন উপসহকারী প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. সফিউল্লাহ জগলু। বরখাস্তের এই আদেশের পর নিজের অবস্থান পরিষ্কার করতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন তিনি। তবে এই ঘটনাটি সরকারি কর্মচারীদের আচরণবিধি মেনে চলার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
গত মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সন্ধ্যায় চরফ্যাশন প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন সফিউল্লাহ জগলু। এর আগে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক মো. শাহজামান খানের স্বাক্ষরিত একটি অফিস আদেশের মাধ্যমে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।
সংশ্লিষ্ট অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে যে, বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের মাধ্যমে জানা গেছে, সফিউল্লাহ জগলু এনসিপির চরফ্যাশন উপজেলা আহ্বায়ক কমিটির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা, ১৯৭৯-এর ২৫(১) বিধিতে সরকারি কর্মচারীদের জন্য কোনো রাজনৈতিক দলের সদস্য হওয়া কিংবা রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণের বিষয়ে কঠোর বিধিনিষেধ রয়েছে। এই বিধিমালার পরিপন্থী কাজের পরিপ্রেক্ষিতেই তার বিরুদ্ধে সাময়িক বরখাস্তের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
সফিউল্লাহ জগলু মূলত ভোলার লালমোহন উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতালে উপসহকারী প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা হিসেবে নিযুক্ত। তবে সংযুক্তিতে তিনি চরফ্যাশন উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতালে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।
বরখাস্ত হওয়ার পর তার এই সংবাদ সম্মেলন করার বিষয়টি সরকারি কর্মচারীদের গণমাধ্যমে বক্তব্য দেওয়ার নিয়মাবলির ক্ষেত্রে প্রশ্ন তুলেছে। সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা, ১৯৭৯-এর ২২ বিধিতে গণমাধ্যমে ব্যক্তিগত মতামত বা বক্তব্য প্রকাশের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট বিধিনিষেধ দেওয়া আছে। এই সংবাদ সম্মেলনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো পূর্ব অনুমতি ছিল কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এই বিষয়ে বরিশাল বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ দপ্তরের পরিচালক মো. মাহফুজুল হক মুক্তকণ্ঠকে বলেন, “ওই কর্মকর্তা সংবাদ সম্মেলন করেছেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে, এটা বিভাগীয় চাকরির অংশ। তবে তিনি সাংবাদিক সম্মেলন করতে পারেন না।”
উল্লেখ্য যে, গত ৫ অক্টোবর এনসিপির ভোলা জেলা আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মো. জিয়াউর রহমান এবং সদস্যসচিব শরীফ হাওলাদার সাগরের স্বাক্ষরিত এক পত্রে ছয় মাসের জন্য চরফ্যাশন উপজেলা আহ্বায়ক কমিটির আংশিক অনুমোদন দেওয়া হয়। সাত সদস্যের ওই কমিটিতে সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে সফিউল্লাহ জগলুর নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল।