সরকারি চাকরিতে কর্মরত থাকা অবস্থায় রাজনৈতিক দলের সাথে সম্পৃক্ততার অভিযোগে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. সফিউল্লাহ জগলুকে। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) চরফ্যাশন উপজেলা কমিটিতে তার নাম অন্তর্ভুক্ত থাকায় এই প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

সোমবার (১২ অক্টোবর) প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক মো. শাহজামান খানের স্বাক্ষরিত একটি অফিস আদেশের মাধ্যমে এই বরখাস্তের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

সংশ্লিষ্ট আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে যে, মো. সফিউল্লাহ জগলু বর্তমানে ভোলার লালমোহন উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতালে উপসহকারী প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা হিসেবে নিযুক্ত। তবে তিনি সংযুক্তিতে চরফ্যাশন উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতালে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।

কর্তৃপক্ষের দাবি, বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের মাধ্যমে এটি সামনে এসেছে যে, সফিউল্লাহ জগলু এনসিপির চরফ্যাশন উপজেলা কমিটিতে সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। আদেশে আরও বলা হয়, “সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা, ১৯৭৯-এর ২৫ (১) বিধিতে সরকারি কর্মচারীদের রাজনৈতিক দলের সদস্য হওয়া এবং রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।” এই বিধির পরিপন্থী কর্মকাণ্ডের কারণে তার বিরুদ্ধে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ এবং সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা, ১৯৭৯-এর ২৫ (১) বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত হয় গত ৫ অক্টোবর, যখন এনসিপির ভোলা জেলা আহ্বায়ক মো. জিয়াউর রহমান এবং সদস্যসচিব শরীফ হাওলাদার সাগরের স্বাক্ষরিত এক ঘোষণায় আগামী ছয় মাসের জন্য দলটির চরফ্যাশন উপজেলা আহ্বায়ক কমিটির আংশিক অনুমোদন দেওয়া হয়। ওই সাত সদস্যের কমিটিতে সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে সফিউল্ল্যাহ জগলুর নাম অন্তর্ভুক্ত ছিল।

এই বিতর্কিত বিষয়ে এনসিপির ভোলা জেলা আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মো. জিয়াউর রহমান জানান, “যাচাই-বাছাইয়ে ভুল ছিল। সরকারি চাকরিজীবীদের রাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার সুযোগ নেই। তাই চরফ্যাশন উপজেলা কমিটি থেকে তার নাম প্রত্যাহার করা হয়েছে।”

অন্যদিকে, এনসিপির চরফ্যাশন উপজেলা কমিটির আহ্বায়ক অহিদ ফয়সাল দাবি করেন, সফিউল্ল্যাহ জগলু একজন সরকারি চাকরিজীবী। ভুলবশত তার নাম ও ফোন নম্বর ওই কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত হয়ে গিয়েছিল।