সবুজ লতার সমারোহে ঢাকা পড়েছে মাঠ। লতার ফাঁকে ফাঁকে ঝুলছে রসালো তরমুজ। যখন এলাকার অধিকাংশ কৃষক ধান ও শীতকালীন সবজি চাষের কাজে ব্যস্ত, ঠিক সেই সময়ে ভিন্নধর্মী এক উদ্যোগের মাধ্যমে অফ-সিজনে তরমুজ চাষ করে অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করেছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার রসুলপুর ইউনিয়নের কৃষক মিজান।

প্রচলিত কৃষি ধারণাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে অসময়ে তরমুজ চাষ করে তিনি ইতোমধ্যে স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক সাড়া ফেলেছেন। তার ক্ষেতে উৎপাদিত তরমুজগুলো যেমন দৃষ্টিনন্দন, তেমনি স্বাদেও অত্যন্ত মিষ্টি ও রসালো। সংশ্লিষ্টদের মতে, এই বিশেষ বৈশিষ্ট্যের কারণে স্থানীয় বাজারে এই তরমুজের ব্যাপক চাহিদা তৈরি হয়েছে।

সম্প্রতি মিজানের তরমুজ ক্ষেতে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সবুজ লতার আড়ালে সারি সারি তরমুজ শোভা পাচ্ছে। ক্ষেত থেকে সদ্য তোলা একটি তরমুজ কেটে দেখা গেল, এর ভেতরটা টকটকে লাল। স্বাদেও এটি ছিল বেশ মিষ্টি ও রসালো।

নিজের এই অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে কৃষক মিজান বলেন, “অনেকে বলেছিলেন, এই সময়ে তরমুজ চাষ করা সম্ভব নয়। তবে ইউটিউব থেকে বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহের পাশাপাশি কৃষি অফিসের পরামর্শ নিয়ে অফ-সিজনের জাত চাষের উদ্যোগ নিই। আল্লাহর রহমতে ফলন ভালো হয়েছে। বাজারে দামও ভালো পাচ্ছি।”

তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, প্রচলিত সময়ের বাইরে তরমুজ উৎপাদন করায় বাজারে তুলনামূলক বেশি দাম পাওয়া যাচ্ছে। মিজানের মতে, সঠিক জাত নির্বাচন, যথাযথ পরিচর্যা এবং কৃষি বিভাগের দিকনির্দেশনা মেনে চললে অন্যান্য কৃষকরাও এই পদ্ধতিতে লাভবান হতে পারবেন।

স্থানীয় কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, অসময়ে তরমুজ উৎপাদিত হওয়ায় বাজারে এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। মিজানের এই অভাবনীয় সফলতা দেখে এখন এলাকার অনেক কৃষকই অফ-সিজনে তরমুজ চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন।

এই উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ নাজমুল হুদা বলেন, “মিজানের মতো উদ্যোক্তা কৃষকরা কৃষিতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছেন। অফ-সিজন তরমুজ চাষ লাভজনক হতে পারে। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে তাকে প্রয়োজনীয় কারিগরি পরামর্শ ও সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে।”

কৃষকদের চিরাচরিত চিন্তাধারার বাইরে গিয়ে নেওয়া এই সাহসী উদ্যোগ শুধু মিজানের ব্যক্তিগত ভাগ্যই বদলে দিচ্ছে না, বরং চরফ্যাশনের সামগ্রিক কৃষিচিত্রেও অফ-সিজন তরমুজ চাষের এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করছে।