কুমিল্লা-৫ (বুড়িচং–ব্রাহ্মণপাড়া) আসনের সংসদ সদস্য হাজী জসীম উদ্দিন জসিমের ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) মো. মোশাররফ হোসেন সারের ডিলারশিপ লাভ করায় স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। শুধু পিএসই নন, বুড়িচং উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তিরাও সারের ডিলারশিপ পেয়েছেন বলে অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় বিএনপির নেতারা।
গত মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা এই বিষয়ে তাদের তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
কৃষি বিভাগের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, বুড়িচং উপজেলার বাকশিমুল ইউনিয়নে সংসদ সদস্যের ব্যক্তিগত সহকারী মোশাররফ হোসেন সারের ডিলারশিপ পেয়েছেন। এছাড়া বুড়িচং পৌরসভায় উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কবির হোসেনের ভাগনে এবং আওয়ামী লীগ নেতা বাবুল আলম সারের ডিলারশিপ পেয়েছেন বলে জানা গেছে।
স্থানীয় বিএনপির নেতাদের অভিযোগ, একইভাবে রাজাপুর ইউনিয়নে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সার্ভেয়ার বাকিরুল ইসলাম বাহাদুরের ভাই সাদেকুর রহমান, ষোলনল ইউনিয়নে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সদস্য আফজাল বেগ, মোকাম ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের কর্মী নজরুল ইসলাম এবং ভারেল্লা দক্ষিণ ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের কর্মী মাসুদ রানা সারের ডিলারশিপ পেয়েছেন।
সারের ডিলারশিপ বণ্টনের এই প্রক্রিয়ার তীব্র সমালোচনা করে বুড়িচং উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এ কে এম সাইফুল ইসলাম টিপু বলেন, “মোশাররফ হোসেন আগে ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। বর্তমানে তিনি সংসদ সদস্য জসীম উদ্দিন জসিমের ব্যক্তিগত সহকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।” একই সঙ্গে তার সারের ডিলারশিপ পাওয়ার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।
সাইফুল ইসলাম টিপু আরও জানান, মোশাররফ হোসেন একসময় শেখ রাসেল স্মৃতি রক্ষা সংসদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য এবং জেলা পর্যায়ের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে তার একাধিক ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে বলেও তিনি দাবি করেন। তার মতে, সারের ডিলারশিপ দেওয়ার ক্ষেত্রে দলের ত্যাগী এবং দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় নেতাকর্মীদের অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত ছিল।
অন্যদিকে, ভারেল্লা দক্ষিণ ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি বিল্লাল হোসেন সেন্টু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্টের মাধ্যমে তার ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তার ওই পোস্টে দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রামে যুক্ত নেতাকর্মীদের প্রত্যাশা পূরণ না হওয়ায় গভীর হতাশার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
এই অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে সংসদ সদস্য হাজী জসীম উদ্দিন জসিম বলেন, “সে (মোশাররফ হোসেন) দরখাস্ত করেছে কি না, আমি জানি না। আমি এ বিষয়ে কোনো তদবির করিনি।”
এদিকে, সারের ডিলারশিপ পাওয়ার বিষয়ে তার অবস্থান জানতে মো. মোশাররফ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।