কুমিল্লার দেবিদ্বারে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের পলাতক সাবেক সংসদ সদস্য আবুল কালাম আজাদের বাবা হাজী নুরুল ইসলাম প্রধান অতিথি হিসেবে মাদকবিরোধী সমাবেশে যোগ দেন। এই অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির অধ্যাপক শহীদুল ইসলাম। পুলিশের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত এই কর্মসূচিতে হাজী নুরুল ইসলামের উপস্থিতি এবং বক্তব্য স্থানীয় রাজনীতিতে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উপজেলার বাতাকুকুরিয়া ঈদগাহ মাঠে আয়োজিত এই সমাবেশে হাজী নুরুল ইসলাম বক্তব্য রাখেন। তিনি দেবিদ্বার উপজেলার ১৫নং বড়কামতা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান। অনুষ্ঠানে দেবিদ্বার থানার এসআই সাদ্দামও উপস্থিত ছিলেন, যা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের অভিযোগ, আওয়ামী লীগের দীর্ঘ শাসনামলে কালাম পরিবার রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে বিএনপির নেতাকর্মীদের হয়রানি ও ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। সম্প্রতি মাদকবিরোধী এই কর্মসূচিতে হাজী নুরুল ইসলামকে পুলিশের পাশে দাঁড়িয়ে মাদক ও অপরাধের বিরুদ্ধে কথা বলতে দেখা যায়।
২০২১ সালের দেবিদ্বার উপজেলা পরিষদের উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের অভিযোগ ওঠে। ধানের শীষের পক্ষে কাজ করায় উপজেলা যুবদলের তৎকালীন যুগ্ম আহ্বায়ক রাকিবকে ধামতী এলাকায় মারধর করা হয়। বর্তমানে রাকিব উপজেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক। ওই ঘটনার পর বিএনপির পক্ষ থেকে মামলা করতে নেতাকর্মীরা ভয় পেয়েছিলেন। বরং আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছিল। ২০২৩ সালের এপ্রিলে তিতাস উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক জামাল হোসেনকে দাউদকান্দির গৌরীপুর এলাকায় বোরকা পরা দুর্বৃত্তরা গুলি করে হত্যা করে। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় সাবেক দেবিদ্বার উপজেলা চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদের ছোট ভাই মাসুদের নাম উঠে আসলেও তারা ক্ষমতার দাপটে পার পেয়ে যায়। এমনই দাবি করছেন স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা।
বিএনপির কর্মী সাইফুল বলেন, '১৭ বছর রাজনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। আমরা মনেপ্রাণে বিএনপি করি। গত ১৭ বছর কালাম পরিবারের রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে আমাদের অনেক ক্ষতি হয়েছিল। আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক প্রভাবের সময় বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা, হামলা ও হয়রানির পরও কিভাবে প্রকাশ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে মিটিং করে।'
এ বিষয়ে হাজী নুরুল ইসলাম মুক্তকণ্ঠকে বলেন, 'জামায়াতের শহীদুল আমাকে দাওয়াত দিছে তাই গেছি। আর আমি আওয়ামী লীগের কোনো দাপট খাটাই না।'
debiদ্বারে মাদকবিরোধী কর্মসূচিতে পুলিশের উপস্থিতির বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে দেবিদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান বলেন, 'তিনি (এসআই সাদ্দাম) নতুন এসেছেন থানায়। অনেকে এ বিষয়ে কল দিয়েছেন। বিষয়টি দেখছি।'