চট্টগ্রামের সন্দ্বীপে ছাত্রদল ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীদের মধ্যে হাতাহাতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। গতকাল মঙ্গলবার রাত আনুমানিক ১১টার দিকে উপজেলার সন্তোষপুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সন্তোষপুর আদর্শ মাদ্রাসার কাছে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আহত শিবিরের কর্মীদের দেখতে হাসপাতালে গিয়ে আটক হন আহমেদ সুমন নামের একজন।
আটক সুমন সন্তোষপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ শাহাদতের ভাই। গতকাল রাতে তাঁদের বাড়ির কাছে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।
ইউনিয়ন বিএনপি ও জামায়াতের একাধিক নেতা-কর্মীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গতকাল আনুমানিক রাত ১১টার দিকে ছাত্রশিবিরের কয়েকজন নেতা-কর্মী ওই এলাকায় জড়ো হন। তখন বিএনপি নেতা মোহাম্মদ শাহাদত ওই এলাকার আসার কারণ জানতে চান। এ নিয়ে ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। পরে স্থানীয় ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরাও সেখানে আসেন। এরপর দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি হয়। এ ঘটনায় ছাত্রশিবিরের তিন নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন বলে দাবি জামায়াতের। দিবাগত রাত ১২টার দিকে আহত নেতা-কর্মীদের হাসপাতালে দেখতে গেলে আহমেদ সুমনকে আটক করে পুলিশ।
সন্তোষপুর ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি মো. রহমত উল্লাহ মুক্তকণ্ঠকে বলেন, ছাত্রদলের কয়েকজন নেতা–কর্মী শিবিরের নেতা–কর্মীদের ওপর হামলা করেন। এতে ছাত্রশিবিরের কয়েকজন নেতা–কর্মী আহত হয়েছেন।
সন্তোষপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ শাহাদত বলেন, গভীর রাতে তাঁর বাড়ির কাছে নাশকতার উদ্দেশ্যে বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে শিবিরের নেতা–কর্মীরা এসে জড়ো হচ্ছেন এমন খবরে তিনি সেখানে যান। এরপর জড়ো হওয়ার কারণ জানতে চাইলে তাঁরা (শিবিরের নেতা-কর্মী) হাতাহাতি শুরু করেন।
শাহাদত হোসেন দাবি করেন, তিনি অপ্রীতিকর ঘটনা যাতে না ঘটে, তা নিশ্চিত করতে চেষ্টা করেছেন, কিন্তু শিবিরের কর্মীদের উগ্রতার কারণে উভয় পক্ষ হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়ে।
এদিকে আহত তিনজন প্রথমে সন্দ্বীপ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে গিয়েছিলেন। তবে তাঁদের শরীরের কী ধরনের আঘাত রয়েছে, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। জানতে চাইলে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা হিমাদ্রি সংকর দেবনাথ মুক্তকণ্ঠকে বলেন, রাতে তিন ব্যক্তি চিকিৎসা নিতে এসেছিলেন, কিন্তু তাঁরা হাসপাতালে ভর্তি না হয়ে বেসরকারি হাসপাতালের উদ্দেশে চলে যান।
ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীদের ওপর অতর্কিত হামলা হয়েছে দাবি করে বিক্ষোভ মিছিল করেছে ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামী। তারা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছে। আর না হলে হামলাকারী ব্যক্তিদের যেখানেই পাওয়া যাবে, সেখানেই প্রতিরোধ করা হবে বলে ঘোষণা দিয়েছে তারা। আজ বুধবার বেলা ১১টার দিকে সন্তোষপুর ইউনিয়নের মুনশিরহাটে এ বিক্ষোভ হয়।
জানতে চাইলে সন্দ্বীপ উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব ও বিএনপি প্রার্থীর প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট মো. আলমগীর হোছাইন মুক্তকণ্ঠকে বলেন, ‘মধ্যরাতে বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে শিবিরের নেতারা কেন সেখানে জড়ো হয়েছিল, এটা আমাদের প্রশ্ন। যত দূর জানি, স্থানীয় ছাত্রদলের নেতা–কর্মীরা তাঁদের জড়ো হওয়ার কারণ জানতে চাইলে শিবিরের নেতারা প্রতিক্রিয়া দেখান। তবে এই ঘটনা যাতে অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচনকে প্রভাবিত করতে না পারে, সেদিকে সবার দৃষ্টি রাখা দরকার।’
জানতে চাইলে সন্দ্বীপ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জাহেদ নূর আজ বেলা একটার দিকে মুক্তকণ্ঠকে বলেন, এ ঘটনায় থানায় এখনো মামলা হয়নি, তবে একজনকে আটক করা হয়েছে। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।






