ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় অবস্থিত রাধামাধব আখড়া কেন্দ্রীয় মন্দির থেকে চুরি হওয়া সোনা ও রুপার অলংকার উদ্ধার করেছে পুলিশ। পাশাপাশি একটি ভাঙারির দোকান থেকে চুরি হওয়া পিতলের চারটি প্রতিমা উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। এই চুরির ঘটনায় জড়িত সন্দেহে দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
পুলিশ জানিয়েছে, গতকাল সোমবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টা থেকে ১টার মধ্যবর্তী সময়ে উপজেলার পৌর এলাকার বড় বাজার ও মালদারপাড়া এলাকা থেকে এই দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন আখাউড়া পৌর এলাকার বড় বাজারের বাসিন্দা জারু মিয়া ওরফে আকবর হোসেন (৩০) এবং মালদারপাড়ার আকাশ মালদার ওরফে হাসিব (২৮)।
তদন্ত চলাকালীন পুলিশ মসজিদপাড়ায় অবস্থিত নিয়াজ ভূঁইয়ার বাড়ির ভাড়াটিয়া তাজুল ইসলামের (৬২) ভাঙারির দোকান থেকে চুরি হওয়া প্রতিমাগুলো উদ্ধার করে। তাজুল ইসলাম চাঁদপুরের শাহরাস্তির নুনিয়া গ্রামের বাসিন্দা বলে জানা গেছে, তবে তিনি বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে ও মন্দির কর্তৃপক্ষ থেকে জানা যায়, গত রবিবার দিবাগত মধ্যরাতে দুর্বৃত্তরা রাধামাধব আখড়া কেন্দ্রীয় মূল মন্দিরের পেছনের দিকের গ্রিলের একাংশ কেটে ভেতরে প্রবেশ করে। সেখান থেকে তারা সোনা ও রুপার অলংকার, ৬টি পিতলের প্রতিমা এবং প্রণামি বাক্স থেকে প্রায় ১৫-২০ হাজার টাকা লুট করে নিয়ে যায়। ধারণা করা হচ্ছে, চুরি হওয়া স্বর্ণ ও রুপার অলংকারের বাজারমূল্য দুই থেকে আড়াই লাখ টাকা।
পরদিন সকালে মন্দিরের পুরোহিত বিমল চক্রবর্তী সেখানে গিয়ে চুরির বিষয়টি বুঝতে পারেন। খবর পেয়ে সকাল নয়টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। এর আগে পূজা উদ্যাপন পরিষদ এবং আখড়া পরিচালনা কমিটির সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। গতকাল সন্ধ্যায় আখাউড়া থানায় মন্দিরের পক্ষ থেকে একটি মামলা দায়ের করা হয়। এরপরই পুলিশের একাধিক দল উদ্ধার তৎপরতা শুরু করে।
আখাউড়া থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করে পুলিশের বিভিন্ন দল অভিযান চালায়। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় বড় বাজারের বাড়ি থেকে জারু মিয়াকে আটক করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদের মুখে জারু চুরির কথা স্বীকার করেন এবং জানান যে এই ঘটনায় আকাশ মালদারও জড়িত ছিল। এরপরই মালদারপাড়া থেকে আকাশকে গ্রেপ্তার করা হয়।
জারুর বাড়ি থেকে তল্লাশির পর দুই আনা ওজনের এক জোড়া সোনার কানের দুল, চারটি এমিটেশনের মুকুট, রুপার দুটি বাঁশি, একটি চাঁদ এবং একটি হার উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে দুই আসামিকে সাথে নিয়ে অভিযান চালিয়ে পলাতক তাজুল ইসলামের ভাঙারির দোকান থেকে পিতলের একটি বড় রাধার মূর্তি, গৌর-নিতাইয়ের দুটি পিতলের মূর্তি, গোপালের ছোট একটি পিতলের মূর্তি, পিতলের একটি কাঁসা, একটি পিতলের গাছা, পিতলের একটি পঞ্চপ্রদীপ, তিন জোড়া পিতলের করতাল, একটি তামার বাটি, ছোট-বড় দুটি তামার কোসাকুসি, পিতলের একটি প্রদীপদানি এবং একটি শঙ্খ রাখার স্ট্যান্ড উদ্ধার করা হয়।
রাধামাধব আখড়া কেন্দ্রীয় মন্দির পরিচালনা কমিটির সভাপতি দীপক কুমার ঘোষ মুক্তকণ্ঠকে বলেন, ‘মন্দিরের পেছনের দিকের গ্রিল কেটে ও ভেঙে এ চুরির ঘটনা ঘটে। চুরি হওয়া সোনা ও রুপার অলংকারের দাম দুই থেকে আড়াই লাখ টাকা। প্রণামি বাক্সের ১৫-২০ হাজার টাকাও চুরি করে নিয়ে গেছে। পুলিশ গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত সময়ের মধ্যে মন্দির থেকে চুরি হওয়া মালামাল উদ্ধার করেছে।’
আখাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাবেদুল ইসলাম মুক্তকণ্ঠকে বলেন, রোববার দিবাগত রাতে দুজনকে বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। জারুর বাড়ি থেকে কিছু মালামাল এবং ভাঙারির দোকান থেকে প্রতিমাসহ বাকি মালামাল উদ্ধার করা হয়েছে। দুজনকে মন্দিরে চুরির মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।