চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলার চরমুকুন্দি বিলে কচুরিপানা পরিষ্কার করার সময় কম্বলে মোড়ানো এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে বিলের ভেতর মরদেহটি প্রথম নজরে আসে। মরদেহটি পচে বিকৃত হয়ে যাওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে ওই নারীর পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।

পুলিশ, প্রত্যক্ষদর্শী এবং স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আজ সকাল ১০টার দিকে স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি জমি আবাদের উদ্দেশ্যে চরমুকুন্দি বিলে কচুরিপানা পরিষ্কার করতে যান। কাজ করার সময় তাঁরা কচুরিপানা থেকে তীব্র দুর্গন্ধ emanating হতে লক্ষ্য করেন। দুর্গন্ধের উৎস খুঁজতে গিয়ে তাঁরা দেখতে পান, কচুরিপানার স্তূপের ভেতরে কম্বলে মোড়ানো একটি বস্তু থেকে এই উৎকট গন্ধ বের হচ্ছে।

দ্রুত বিষয়টি মোবাইলের মাধ্যমে পুলিশকে অবহিত করেন ওই ব্যক্তিরা। খবর পাওয়ার পরপরই মতলব দক্ষিণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুর রহমান পুলিশ সদস্য নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। এরপর কচুরিপানার স্তূপ থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।

ঘটনা প্রসঙ্গে ওসি হাফিজুর রহমান মুক্তকণ্ঠকে বলেন, “অজ্ঞাতনামা নারীর মরদেহটি গলিত ও বিকৃত। তাঁর পরনে সালোয়ার ও কামিজ রয়েছে। ওই নারীর আনুমানিক বয়স ৩০ থেকে ৩৫ হবে বলে ধারণা করছেন। কমপক্ষে তিন থেকে চার দিন বা এরও বেশি দিন আগে ওই নারীকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে।”

পুলিশের এই কর্মকর্তা আরও জানান, ধারণা করা হচ্ছে দুর্বৃত্তরা ওই নারীকে হত্যা করে মরদেহটি ধনাগোদা নদীতে ফেলে দিয়েছিল। সেখান থেকে খালের স্রোতে ভেসে এসে মরদেহটি চরমুকুন্দি বিলের কচুরিপানার স্তূপের ভেতর আটকে যায়। মরদেহটি অত্যন্ত বিকৃত হয়ে যাওয়ায় শরীরের কোথাও আঘাতের চিহ্ন আছে কি না, তা স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে না। ওই নারীর নাম ও পরিচয় এখনো জানা যায়নি, তবে পুলিশ তা শনাক্ত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

ওসি হাফিজুর রহমান জানান, এ ঘটনায় থানায় আপাতত একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, “পরে হত্যা মামলা হতে পারে।” বর্তমানে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।