রাজধানীর বনানী বিদ্যানিকেতন স্কুল অ্যান্ড কলেজে সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে শিক্ষার্থীদের সচেতন করতে একটি বিশেষ কর্মশালার আয়োজন করা হয়েছে। এই সচেতনতামূলক কর্মসূচিতে প্রতিষ্ঠানের দুই শতাধিক শিক্ষার্থী সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন।

গত মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকালে বিআরটিএ ঢাকা মেট্রো সার্কেল-১ এর উদ্যোগে এই গুরুত্বপূর্ণ কর্মশালার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে বক্তারা গুরুত্বারোপ করে বলেন, নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করার জন্য শিক্ষার্থীদের অবশ্যই সড়কে প্রচলিত আইন মেনে চলতে হবে। এই লক্ষ্য অর্জনে তাদের ব্যক্তিগত সচেতনতা এবং দায়িত্বশীল আচরণের কোনো বিকল্প নেই।

অনুষ্ঠানে বনানী বিদ্যানিকেতন স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ ড. মো মসিউর রহমান শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, “জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি সড়কে শৃঙ্খলার সঙ্গে নিরাপদে চলাচল করাও শিক্ষার্থীদের দায়িত্ব।”

কর্মশালাটিতে অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য প্রদান করেন বিআরটিএ ঢাকা মেট্রো সার্কেল-১-এর সহকারী পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং) মো. জিয়াউর রহমান এবং সহকারী পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং) আব্দুল্লাহ আল নোমান। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন ঢাকার মিরপুর ট্র্যাফিক বিভাগের পরিদর্শক আশরাফুল আলম, নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক ইনজামুল হক, নিরাপদ সড়ক চাই-এর কেন্দ্রীয় কমিটির কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য মো. কামরুজ্জামান এবং নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের কর্মী সফরা জাহান সেবা। পুরো অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন পরিবহন ব্যবস্থা বিশ্লেষক পার্থ সারথি দাস।

প্রশিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের জন্য বাস্তবভিত্তিক দিকনির্দেশনা প্রদান করেন, যার মধ্যে ছিল নিরাপদে রাস্তা পারাপার হওয়া, ফুটপাত ও জেব্রা ক্রসিংয়ের সঠিক ব্যবহার, ট্র্যাফিক সিগন্যাল মেনে চলা এবং গণপরিবহনে যাত্রী হিসেবে করণীয় বিষয়সমূহ। পাশাপাশি পথচারীদের দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। বিআরটিএ-এর পক্ষ থেকে এই বিষয়গুলোর ওপর ভিত্তি করে বিভিন্ন ভিডিও চিত্র প্রদর্শন করা হয় এবং নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের পক্ষ থেকে সড়কে নিরাপত্তামূলক প্রদর্শনী উপস্থাপন করা হয়।

বিআরটিএ ঢাকা মেট্রো সার্কেল-১-এর সহকারী পরিচালক (ইঞ্জি.) মো. জিয়াউর রহমান ও আব্দুল্লাহ আল নোমান পারাপার হওয়া এবং সড়কে চলাচলের নিয়মাবলির ওপর ভিডিওচিত্র উপস্থাপন করেন। তারা সড়কের নিরাপদ নকশা, ব্যবস্থাপনা, ট্র্যাফিক আইনের যথাযথ বাস্তবায়ন এবং সড়ক ব্যবহারকারীদের পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও সচেতনতার মাধ্যমে দুর্ঘটনা কমানোর বিভিন্ন উপায় নিয়ে আলোচনা করেন।

অনুষ্ঠানে বক্তারা আরও বলেন, নিরাপদ সড়ক আমাদের প্রত্যেকের দায়িত্ব, সচেতনতা ও মানবিক আচরণের সম্মিলিত প্রতিফলন। এই উপলব্ধি শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে হবে। কারণ আজকের সচেতন শিক্ষার্থীই আগামী দিনের দায়িত্বশীল চালক, যাত্রী ও পথচারী।

উল্লেখ্য যে, আগামী ২২ অক্টোবর জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস। এবারের দিবসের প্রতিপাদ্য হলো— ‘নিরাপদ সড়ক সমৃদ্ধ দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’। এই দিবসকে সামনে রেখে বিআরটিএ শিক্ষার্থীদের সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে সচেতন করতে ব্যাপক কর্মসূচি শুরু করেছে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে ট্র্যাফিক আইন মেনে চলার মানসিকতা তৈরি এবং সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে বনানী বিদ্যানিকেতন স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন।