সৌদি আরবের রিয়াদে অবস্থিত আল–আওয়াল পার্কে নিরাপত্তাজনিত চরম উদ্বেগের কারণে নির্ধারিত সময়ে শুরু হয়নি ফুটবল ম্যাচ। হুতি বিদ্রোহীদের পক্ষ থেকে রিয়াদ লক্ষ্য করে ছোড়া একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত ও ধ্বংস করার কথা জানিয়েছে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট। এই উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মুখে সৌদি নাগরিক সুরক্ষা বাহিনী যখন নিরাপত্তা সতর্কবার্তা জারি করে, তখন ম্যাচটি এক ঘণ্টা পিছিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। উল্লেখ্য, গতকাল রাতে রিয়াদে অন্তত তিনটি বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গিয়েছিল।
ম্যাচ শুরুর আগে আল-আওয়াল পার্কের গ্যালারিতে হাতে গোনা অল্প কিছু দর্শক তাঁদের আসনে বসে অপেক্ষা করছিলেন। মাঠের ভেতরেও দুই দলের খেলোয়াড়রা প্রস্তুত হয়ে অপেক্ষা করছিলেন। পরবর্তীতে স্টেডিয়ামের স্পিকারে পরিস্থিতি নিরাপদ বলে ঘোষণা দেওয়ার পর অবশেষে খেলা শুরু হয়। তবে সম্প্রচারকারী টিভি চ্যানেলটি নির্ধারিত সময়ের ১৫ মিনিট আগেই দর্শকদের জানিয়েছিল যে ম্যাচটি এক ঘণ্টা পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে।
বাইরের এই অস্থিরতা এবং নিরাপত্তা ঝুঁকি ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর খেলায় কোনো প্রভাব ফেলতে পারেনি। এশিয়ান চ্যাম্পিয়নস লিগ এলিট টুর্নামেন্টের এই ম্যাচে উজবেকিস্তানের ক্লাব নেফচি ফেরগানার বিপক্ষে ৩–১ গোলের বড় জয় তুলে নিয়েছে আল নাসর। ম্যাচের ৪২ মিনিটে গোল করেন আল নাসর অধিনায়ক রোনালদো।
খেলার প্রথমার্ধে আধা ঘণ্টার মাথায় অ্যাঞ্জেলো গ্যাব্রিয়েলের গোলে লিড নেয় সৌদি ক্লাবটি। এরপর বিরতির ঠিক আগ মুহূর্তে নিজের পেশাদার ক্যারিয়ারের ৯৮১তম গোলটি করেন পর্তুগিজ কিংবদন্তি। ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে আল নাসরে যোগ দেওয়ার পর এটি তাঁর ১৩৪তম গোল।
দ্বিত্রিয়ার্ধে ৫১ মিনিটে একটি গোল করে ব্যবধান কমানোর চেষ্টা করে নেফচি। তবে ৭৮ মিনিটে উজবেক ফুটবলে ছয়বারের চ্যাম্পিয়নরা একটি আত্মঘাতী গোল করে বসলে আল নাসরের জয় নিশ্চিত হয়। গত ১৫ সেপ্টেম্বর টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী ম্যাচে আল আইনের কাছে ৪-০ গোলে হেরেছিল আল নাসর। সেই পরাজয়ের ধাক্কা কাটিয়ে এশিয়ার শীর্ষ ক্লাব প্রতিযোগিতায় আল নাসর এবং দলটির কোচ অ্যাঞ্জ পোস্তেকগ্লুর এটাই প্রথম জয়।
আল আইনের বিপক্ষে সেই হারের পর আন্তর্জাতিক ফুটবলে নাটকীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি করেন ৪১ বছর বয়সী রোনালদো। পর্তুগালের কোচ জর্জ জেসুসের সঙ্গে বিরোধের জেরে উয়েফা নেশনস লিগে জাতীয় দলের ক্যাম্প ছেড়ে আল নাসরে ফিরে যান তিনি। যদিও পরবর্তীতে সতীর্থ ও সমর্থকদের কাছে ক্ষমা চেয়ে নিজের ভুল স্বীকার করেছেন রোনালদো। তবে পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশন (এফপিএফ) গত শনিবার নিশ্চিত করেছে যে, রোনালদোর বিরুদ্ধে শৃঙ্খলাভঙ্গের তদন্ত শুরু হয়েছে এবং বিষয়টি তদন্ত কমিটির কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
জাতীয় দলের এই টানাপোড়েনের মাঝেও বর্তমানে সৌদি আরবে বেশ স্বাচ্ছন্দ্যেই সময় কাটাচ্ছেন রোনালদো। জয়ের পর বেঞ্চে বসে থাকা রোনালদোকে তাঁর ক্লাবের জার্সিতে সৌদি আরবের জাতীয় প্রতীক–সংবলিত লোগোয় চুমু খেতে দেখা যায়। শুধু তা–ই নয়, গ্যালারির দর্শকদের উদ্দেশে সৌদি আরবের স্কার্ফও উঁচিয়ে ধরেন এই কিংবদন্তি। রিয়াদ বিমানবন্দরে হুতিদের সাম্প্রতিক হামলা এবং গতকাল সোমবার রাতে ড্রোন প্রতিহত করার গুঞ্জনে সৌদি আরবে যখন চরম উত্তেজনা বিরাজ করছিল, তখন রোনালদোর এমন অঙ্গভঙ্গি বেশ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।