নাটোরের গুরুদাসপুরে চশমা ছাড়াই কোরআন পড়ার বিশেষ ক্ষমতা সম্পন্ন ১২৩ বছর বয়সি প্রবীণ আব্বাস প্রামাণিক মৃত্যুবরণ করেছেন। মৃত্যুকালে তিনি ছয় ছেলে ও দুই মেয়েসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
গত সোমবার (১২ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৬টার দিকে তিনি নিজ বাড়িতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন গুরুদাসপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাহমিদা আফরোজ এবং তার পরিবারের সদস্যরা।
মৃত আব্বাস প্রামাণিক গুরুদাসপুর উপজেলার বিয়াঘাট ইউনিয়নের যোগেন্দ্রনগর গ্রামের প্রয়াত সদর উদ্দিনের পুত্র। পেশাগত জীবনে তিনি স্থানীয় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
আব্বাস প্রামাণিকের নাতি রিপন হোসেন জানান, তার দাদা শারীরিকভাবে বেশ সুস্থ ছিলেন। তবে রোববার হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে বিষয়টি খুবজিপুর প্রবীণ সেবাকেন্দ্র কর্তৃপক্ষকে জানানো হয় এবং তার চিকিৎসার দায়িত্ব নেওয়া হয়। পরবর্তীতে সেবাকেন্দ্র থেকে বাড়িতে চিকিৎসক পাঠিয়ে তাকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা প্রদান করা হয়। তবে সময়ের সাথে সাথে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে এবং একপর্যায়ে তিনি কথা বলার শক্তি হারিয়ে ফেলেন। বাড়িতেই তার চিকিৎসা চলাকালীন সোমবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে তিনি মারা যান।
রিপন হোসেন আরও জানান, তার দাদার জানাজা মঙ্গলবার সকাল ১০টায় দুর্গাপুর স্কুল মাঠে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
প্রবীণ সেবাকেন্দ্রের খুবজিপুর ইউনিটের সাধারণ সম্পাদক ও শিক্ষক আবু সাঈদ সরকার জানান, আব্বাস প্রামাণিক দীর্ঘ সময় ধরে এই সেবাকেন্দ্র থেকে চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করছিলেন। তাঁর অসুস্থতার খবর পাওয়ার পরপরই বাড়িতে চিকিৎসক পাঠানো হয়েছিল এবং সেবাকেন্দ্রের পক্ষ থেকে তাকে নিয়মিত চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছিল। সোমবার সন্ধ্যায় নিজ বাড়িতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
অন্যদিকে, ইউএনও ফাহমিদা আফরোজ জানান, আব্বাস প্রামাণিক ছিলেন উপজেলার অন্যতম প্রবীণ ব্যক্তিত্ব। উপজেলা প্রশাসন নিয়মিতভাবে তার শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর রাখত। তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গেও যোগাযোগ করা হয়েছিল। সোমবার সন্ধ্যায় তার মৃত্যুর সংবাদ পান তিনি। শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের জানানো হয়েছে, যেকোনো প্রয়োজনে উপজেলা প্রশাসন তাদের পাশে থাকবে।