নাটোরের গুরুদাসপুরে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে সার নেওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ায় এলাকায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সার পাচারের অভিযোগে উত্তেজনা বাড়লেও বিষয়টি নিয়ে ডিলার এবং স্থানীয় কিছু ব্যক্তির মধ্যে দ্বন্দ্ব দেখা দিয়েছে।

গতকাল বুধবার ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ওই ভিডিওতে শ্যালোচালিত ভটভটিতে কয়েক বস্তা সার বোঝাই করে সিরাজগঞ্জের তাড়াশের দিকে যাওয়ার দৃশ্য দেখা যায়। ভিডিওতে স্থানীয় লোকজনের কথোপকথনে ৪০ বস্তা সার এবং তাড়াশের সবুজপাড়ায় সার নেওয়ার কথা বলতে শোনা যায়। ভটভটিচালকের বক্তব্যেও ডিলার গিয়াস উদ্দিন প্রামাণিকের নাম শোনা যায়।

এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ পেলেও ডিলার গিয়াস উদ্দিন প্রামাণিক সার পাচারের অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি দাবি করেন, ভিডিওটি ১১ সেপ্টেম্বরের। তাঁর মতে, গুরুদাসপুর উপজেলার মশিন্দা ইউনিয়নের রানীগ্রামের কৃষক শহিদুল ও রাশিদুল তাঁর কাছ থেকে ৮ বস্তা করে মোট ১৬ বস্তা সার স্মারক (মেমো) ও রেজিস্টারে নাম অন্তর্ভুক্ত করে ন্যায্যমূল্যে কিনে নেন। পরে সার নিয়ে যাওয়ার পথে রাঙ্গা মোল্লা নামের স্থানীয় এক ব্যক্তি সারবোঝাই ভটভটি আটকে ২০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন।

ডিলার আরও অভিযোগ করেন, দাবি করা টাকা না দেওয়ায় তাঁর বিরুদ্ধে সার পাচারের ‘নাটক সাজানো’ হয়েছে। পরে রাঙ্গা মোল্লা ১০ হাজার টাকা দাবি করলেও তিনি তা দেননি। এরপরই ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

অন্যদিকে, রাঙ্গা মোল্লা চাঁদাবাজির অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, গুরুদাসপুর উপজেলার ওই ডিলারের মাধ্যমে পাশের তাড়াশ উপজেলায় সার পাচার হচ্ছিল। তিনি তা রোধ করায় ডিলার গিয়াস উদ্দিন তাঁর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ আনছেন। ওই ডিলার দুই কৃষকের নামে সার বিক্রির যে কথা বলছেন, তা সত্য নয় বলে দাবি করেন রাঙ্গা মোল্লা।

বিষয়টি তদন্তের আশ্বাস দিয়েছেন গুরুদাসপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কে এম রাফিউল ইসলাম। তিনি বলেন, "অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। চলতি মৌসুমে সারসংক্রান্ত বিষয়ে সাতটি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়েছে। উপজেলায় সারের কোনো ঘাটতি নেই।"