‘বৃষ্টিকে আমরা হারাতে চাই না’—এই মর্মস্পর্শী শিরোনামের একটি ফেসবুক পোস্ট বর্তমানে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন গ্রুপ এবং শিক্ষার্থীদের সামাজিক যোগাযোগ পাতায় ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। যার কথা বলা হচ্ছে, তার পুরো নাম বৃষ্টি প্রামাণিক। তিনি বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস ও প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের নবম ব্যাচের একজন শিক্ষার্থী ছিলেন।

ক্যাম্পাসের ভেতরে বৃষ্টি ছিলেন অত্যন্ত পরিচিত এবং জনপ্রিয় এক মুখ। কেবল পড়াশোনা বা একাডেমিক কার্যক্রমের মধ্যেই তিনি সীমাবদ্ধ ছিলেন না; বরং তার গঠনমূলক কর্মকাণ্ড এবং বিনয়ী আচরণের কারণে শিক্ষক ও সহপাঠী সবার কাছেই তিনি অত্যন্ত প্রিয় হয়ে উঠেছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির পরপরই তিনি বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় ডিবেট ফোরামে (বিআরইউডিএফ) যুক্ত হয়ে বিতর্ক শুরু করেন। এই সংগঠনের সহসাংস্কৃতিক সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পালনের পর তিনি নির্বাচিত সভাপতি হিসেবে নেতৃত্ব দিয়েছেন। যেকোনো অনুষ্ঠানে তার উপস্থাপনা ছিল অত্যন্ত প্রাণবন্ত ও সাবলীল, যা পুরো অনুষ্ঠানকে প্রাণবন্ত করে তুলত।

মুক্তকণ্ঠ বন্ধুসভার সঙ্গেও বৃষ্টির নিবিড় সম্পর্ক ছিল। তিনি রংপুরের সেই বন্ধুসভার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং সহসভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। লেখক তুহিন ওয়াদুদ উভয় সংগঠনের উপদেষ্টা হিসেবে বৃষ্টির সঙ্গে বিভিন্ন কাজে যোগাযোগ রক্ষা করেছেন। পড়াশোনা শেষ করার পর বৃষ্টি পেশাগত জীবনেও প্রবেশ করেন।

তিনি ব্র্যাক স্বাস্থ্য কর্মসূচিতে জলবায়ু পরিবর্তন ও স্বাস্থ্যবিষয়ক কর্মকর্তা হিসেবে কিছুদিন কাজ করেছেন এবং বর্তমানে যক্ষ্মা কর্মসূচির প্রোগ্রাম কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত আছেন। জীবনের এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে যাচ্ছিল তার। ঠিক হয়ে গিয়েছিল বিয়ের দিনক্ষণ। গত ৭ আগস্ট বিয়ের পূর্ব-আনুষ্ঠানিকতা হিসেবে বাগদান সম্পন্ন হয় এবং আগামী ১৩ ডিসেম্বর তার বিয়ের তারিখ নির্ধারিত ছিল।

কিন্তু যখন বাগদানের পর বিয়ের কেনাকাটা এবং নতুন সংসারের স্বপ্ন ও পরিকল্পনা নিয়ে প্রস্তুতি চলছিল, ঠিক তখনই নেমে আসে চরম বিপর্যয়। জানা যায়, বৃষ্টির শরীরে বাসা বেঁধেছে ভয়ংকর ব্যাধি ক্যানসার। এক উজ্জ্বল ও উচ্ছল জীবনের মাঝে হঠাৎ করেই নেমে আসে করুণ সুর। এখন বিয়ে বা সংসার সব কিছু গৌণ হয়ে গেছে; এখন তার একমাত্র লড়াই বেঁচে থাকার জন্য। সুস্থ হয়ে উঠলেই সব স্বপ্ন পূরণ হবে। তবে এই সুস্থতার জন্য প্রয়োজন উন্নত চিকিৎসা, যা অত্যন্ত ব্যয়বহুল। বৃষ্টির পরিবারের পক্ষে এই বিপুল অর্থ সংস্থানের সামর্থ্য নেই। তাই বন্ধু-বান্ধব ও নিকটজনেরা চিকিৎসার জন্য অর্থ সংগ্রহের চেষ্টা করছেন।

তার পরিচিতজন, শুভাকাঙ্ক্ষী এবং আত্মীয়-স্বজন কেউই তাকে হারাতে রাজি নন। এই সংকটময় মুহূর্তে সবার কাছে সাহায্যের আবেদন জানিয়ে বলা হয়েছে, “আপনারা কি আমাদের বৃষ্টির জন্য হাত বাড়াবেন না? আপনাদের বাড়ানো বলেই বৃষ্টির বেঁচে থাকার সম্ভাবনা। প্লিজ সবাই হাতটা বাড়িয়ে দিন। আপনাদের সহায়তা পেলে আমাদের সবার প্রিয় বৃষ্টি নিশ্চয়ই সুস্থ হয়ে ফিরবে। ফিরবেই।”

বৃষ্টির বর্তমান মানসিক অবস্থা কল্পনা করা কঠিন, তাই তাকে ফোন করার সাহস পাননি লেখক। তবে তিনি বিশ্বাস করেন, আশার আলো এখনো নিভে যায়নি এবং বৃষ্টি নিশ্চয়ই স্বাভাবিক জীবনে ফেরার স্বপ্ন দেখছেন। তার চিকিৎসার জন্য ৩৫ লাখ টাকা প্রয়োজন এবং এই চিকিৎসা হবে ভারতে। মানুষের বিপদে মানুষই পাশে দাঁড়ায়—এই বিশ্বাস থেকেই বৃষ্টির পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানানো হয়েছে। যেন সেই চঞ্চল ও মিষ্টি মেয়ে বৃষ্টি আবারও উজ্জ্বল হাসি নিয়ে ফিরে আসতে পারে।

বৃষ্টি নিজেও ফেসবুকে সেই পোস্টটি শেয়ার করেছেন, যেখানে লেখা ছিল— “বৃষ্টিকে আমরা হারাতে চাই না। আমরা তার পরিচিতজন, শুভাকাঙ্ক্ষী, আত্মীয়-বন্ধু-বান্ধব-স্বজন, কেউই তাকে হারাতে চাই না। আপনারা কি আমাদের বৃষ্টির জন্য হাত বাড়াবেন না? আপনাদের বাড়ানো বলেই বৃষ্টির বেঁচে থাকার সম্ভাবনা। প্লিজ সবাই হাতটা বাড়িয়ে দিন। আপনাদের সহায়তা পেলে আমাদের সবার প্রিয় বৃষ্টি নিশ্চয়ই সুস্থ হয়ে ফিরবে। ফিরবেই।”

সাহায্যের জন্য অর্থ পাঠানোর ঠিকানা নিম্নরূপ:
বিকাশ: ০১৮৬২৭৪৪৫৩৭ (বৃষ্টি প্রামাণিকের মা বীথিকা সরকার)
নগদ (পারসোনাল): ০১৮৬২৭৪৪৫৩৭ (বৃষ্টি প্রামাণিকের মা বীথিকা সরকার)
ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নম্বর: বৃষ্টি প্রামাণিক, অ্যাকাউন্ট নম্বর 0299101002562, পূবালী ব্যাংক লি., রংপুর শাখা, রংপুর, রাউটিং নম্বর: 175851450

এছাড়া donatebristi.xyz লিখে সার্চ করলে বিস্তারিত তথ্য এবং টাকা পাঠানোর ঠিকানা পাওয়া যাবে।

—তুহিন ওয়াদুদ, অধ্যাপক, বাংলা বিভাগ, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়।