বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্‌যাপনের আয়োজন ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট ছয়টি অনুষদের ডিনের মধ্যে তিনজনকে অনুষ্ঠানের আলোচক হিসেবে অন্তর্ভুক্ত না করায় সমালোচনা শুরু হয়েছে। আগামীকাল সোমবার অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই বিশেষ অনুষ্ঠানের আমন্ত্রণপত্র এবং সংশ্লিষ্ট অফিস আদেশে ওই তিন ডিনের নাম অনুপস্থিত।

জানা গেছে, উদ্‌যাপন কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ফেরদৌস রহমান এই অনুষ্ঠানের আমন্ত্রণকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। আমন্ত্রণপত্রের ডিন ক্যাটাগরিতে আলোচক হিসেবে রাখা হয়েছে সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক নজরুল ইসলাম, বিজনেস স্টাডিজ অনুষদের ডিন অধ্যাপক নুর আলম সিদ্দিক এবং জীব ও ভূবিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক সিফাত রুমানাকে।

তবে একই আমন্ত্রণপত্রে কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক নিতাই কুমার ঘোষ, বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক বিজন মোহন চাকী এবং প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদের ডিন অধ্যাপক সুমন কুমার দেবনাথের নাম আলোচক হিসেবে রাখা হয়নি।

অনুষ্ঠানের মূল বা মুখ্য আলোচক হিসেবে মনোনীত হয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাসুরেন্স সেলের (আইকিউএসি) পরিচালক অধ্যাপক তাজুল ইসলাম। দিনব্যাপী এই কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিকেল সাড়ে চারটায় একটি আলোচনা সভা এবং পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের কথা রয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত আইন অনুযায়ী, উপাচার্য, সহ-উপাচার্য ও কোষাধ্যক্ষের পরেই ডিনদের পদমর্যাদা। সাধারণত বিশ্ববিদ্যালয়ের যেকোনো আনুষ্ঠানিক আয়োজনে ডিনদের বিশেষ অতিথি বা আলোচক হিসেবে রাখা হয়। এমতাবস্থায়, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর মতো গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে তিন ডিনকে আলোচক হিসেবে না রাখার সিদ্ধান্তটি শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ও সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।

এই বিষয়ে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক নিতাই কুমার ঘোষ মুঠোফোনে বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক সর্বোচ্চ পদ হচ্ছে ডিন। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আয়োজনে ডিন হিসেবে না রাখাটা অসম্মানজনক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তির জন্যও তা হিতকর নয়।”

অন্যদিকে, বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক বিজন মোহন চাকী এবং প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদের ডিন অধ্যাপক সুমন কুমার দেবনাথ এই বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

বিতর্কের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে উপাচার্য শওকাত আলী মুঠোফোনে জানান, এর আগের একটি অনুষ্ঠানে একজনকে রাখা নিয়ে সমস্যা তৈরি হয়েছিল। সেই কারণে ওই তিনজন ডিন নিজেই প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আমন্ত্রণপত্রে আলোচকের তালিকায় থাকতে চাননি। তবে তিনি জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে থাকায় তিনি নিজেই এই প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে পারছেন না।

উপাচার্যের এই দাবির বিষয়ে পুনরায় জানতে চাওয়া হলে কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক নিতাই কুমার ঘোষ স্পষ্ট করে বলেন, “এমন কোনো প্রস্তাব উদ্‌যাপন কমিটির পক্ষে কেউ দেয়নি। কোনো আলোচনাও হয়নি।”