বগুড়ায় ঝালাই মেশিন চুরির অভিযোগ তুলে ২০ হাজার টাকা দাবি এবং নির্মম মারধরের পর রিপন মুর্মু (২৬) নামের এক সাঁওতাল যুবকের মৃত্যু হয়েছে। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পুলিশ একজনকে গ্রেপ্তার করেছে।

সোমবার (১২ অক্টোবর) বিকেল ৩টার দিকে এসআরবি-১২ বগুড়ার কোম্পানি কমান্ডার ফিরোজ আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রোববার (১১ অক্টোবর) রাতে বগুড়া শহরের লতিফপুর কলোনি এলাকা থেকে এনামুল হক (৩৫) নামের ওই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি-১২)। গ্রেপ্তারকৃত এনামুল হক বগুড়া সদর উপজেলার চাঁদপাড়া গ্রামের মৃত আবুবকর সিদ্দিকের ছেলে।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে যে, গত শুক্রবার সকালে বগুড়া সদর উপজেলার চাঁদপাড়া এলাকায় একটি ঝালাই মেশিন চুরির অভিযোগে রিপন মুর্মুকে প্রচণ্ড মারধর করা হয়। সেই সময় তার কাছে ২০ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করা হয়েছিল। ওই দিন সন্ধ্যায় একটি ইটভাটায় তার থাকার ঘর থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত রিপনের বাড়ি দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলার বেলোয়া বামনপাড়ায়। তিনি দীর্ঘ আট থেকে ১০ বছর ধরে বগুড়া সদর উপজেলার চাঁদপাড়া এলাকায় আক্তার রহমান ডিউকের ইটভাটায় শ্রমিক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পাশাপাশি তিনি সেখানে নৈশপ্রহরীর দায়িত্বও পালন করতেন।

এই মর্মান্তিক ঘটনার পর শনিবার রাতে রিপনের বাবা মোসেজ মুর্মু বাদী হয়ে বগুড়া সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় পাঁচজনের নাম নির্দিষ্ট করে উল্লেখ করা হয়েছে এবং আরও চার থেকে পাঁচজন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। এজাহারে অভিযুক্ত হিসেবে চাঁদপাড়া গ্রামের ঝালাই মেশিনের দোকান মালিক রেজাউল করিম, ইটভাটার ব্যবস্থাপক মামুন, নাঈম হোসেন এবং আব্দুর রশিদের ছেলে আবু তালহা সেলিমের নাম রয়েছে।

ঘটনা প্রসঙ্গে কোম্পানি কমান্ডার ফিরোজ আহমেদ বলেন, “ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মামলার অন্যতম প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তাকে বগুড়া সদর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। অপরাধীদের গ্রেপ্তারে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।”