বগুড়ায় আমবাগান লিজ নেওয়াকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধের জেরে ফাঁকা গুলির মহড়া ও কুপিয়ে হামলার শিকার মো. মোকছেদুল হাসান (৩৮) মারা গেছেন। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

নিহত মোকছেদুল সদর উপজেলার বারোপুর মৌজায় ন্যাশনাল ফ্যান কোম্পানির মালিকানাধীন ৩২ বিঘার আমবাগান লিজ নেওয়াকে কেন্দ্র করেই এই হামনার শিকার হন। গত শুক্রবার রাত পৌনে ১০টার দিকে মাটিডালী উত্তরপাড়ায় জারা কার হাউসের বিপরীতে বসে থাকা অবস্থায় তার ওপর হামলা চালানো হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ঘটনাস্থলে ১০ থেকে ১৫ জনের একটি দল মোটরসাইকেল ও হাইস গাড়িতে আসে। তাদের কয়েকজন হাতে পিস্তল, রামদা ও হকিস্টিক নিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করেন এবং সাধারণ মানুষকে সরিয়ে দিতে দুই রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়েন। পরে একা পেয়ে মোকছেদুলকে রামদা ও দেশীয় অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়।

গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে সাত দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর তার মৃত্যু ঘটে।

এদিকে, হামলার ঘটনায় গত ৬ সেপ্টেম্বর নিহতের মা মোছা. রেবেকা বেগম বাদী হয়ে বগুড়া সদর থানায় দ্রুত বিচার আইনে মামলা করেন। মামলা হওয়ার পর জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ছায়াতদন্ত শুরু করে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে এজাহারভুক্ত আসামি মো. নাজমুল হুদা রাফিত (২১) ও মো. হাছান আকন্দকে (২৪) গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার রাফিত বগুড়া মহানগরের উত্তর চেলোপাড়ার আজাদ বেপারীর ছেলে এবং হাছান সদর উপজেলার নিশিন্দারা চকরপাড়ার বাদল আকন্দের ছেলে।

ঘটনার পর পুলিশ ও র‍্যাবের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। সেখান থেকে ৭ দশমিক ৬৫ এমএম বোরের পিস্তলের দুটি গুলির খোসা উদ্ধার করা হয়।

বগুড়া সদর থানার অফিসার ইনচার্জ ইব্রাহীম আলী বলেন, "হামলায় আহত মোকছেদুল হাসান চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। তার মৃত্যুর পর মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরসহ আইনগত প্রক্রিয়া নেওয়া হচ্ছে। ঘটনায় জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।"