বগুড়ায় ফল ব্যবসায়ী ওয়াহেদ হোসেন ওরফে নিঝুম (৩৭) হত্যাকাণ্ডের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন আসামি নাজিম উদ্দিন। আজ মঙ্গলবার বগুড়ার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে দেওয়া এই জবানবন্দির পর তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ সূত্র জানায়, পাওনা টাকা চাওয়া নিয়ে বিরোধের জের ধরে ওয়াহেদ হোসেনকে হত্যার পরিকল্পনা করেন তার দুই বন্ধু নাজিম উদ্দিন ও মো. স্বপন। তারা ওয়াহেদকে তাদের কর্মস্থলে ডেকে এনে কফির সাথে বিষ মিশিয়ে পান করান। এরপর লাশটি বস্তায় ভরে বগুড়া শহরের মালগ্রাম এলাকার একটি ধানখেতে ফেলে রেখে যায়। হত্যাকাণ্ডের পর রাতে তারা একই ঘরে থাকে এবং পরদিন সকালে আত্মগোপনে চলে যায়।

নিহত ওয়াহেদ হোসেন বগুড়া নগরের সূত্রাপুর এলাকার রফিকুল ইসলামের ছেলে। তিনি স্টেশন সড়কে বাবার সাথে ফলের আড়ত পরিচালনা করতেন। পাঁচ দিন নিখোঁজ থাকার পর গত ১২ আগস্ট মালগ্রাম মধ্যপাড়া দীঘিপাড় এলাকার একটি ধানখেত থেকে তার বস্তাবন্দী অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ১০ সেপ্টেম্বর তার ভাই সোহেল হোসেন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে বগুড়া সদর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বগুড়া সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শরিফুল ইসলাম জানান, "আসামি নাজিম হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন। তাঁর দেওয়া জবানবন্দিতে স্বপন নামে আরেক ব্যক্তির সম্পৃক্ততার কথাও উঠে এসেছে। স্বপনকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।"

পুলিশ ও পরিবারের সূত্রে জানা গেছে, নাজিম ও স্বপন একটি বেসরকারি সংস্থায় বাবুর্চির কাজ করতেন। সেই সুবাদে তাদের সাথে ওয়াহেদের বন্ধুত্ব হয়। কিছুদিন আগে ওয়াহেদ তার মায়ের নামে ওই সংস্থা থেকে সাত লাখ টাকা ঋণ নেন। ঋণের মধ্যে দুই লাখ টাকা স্বপনকে এবং এক লাখ টাকা নাজিমকে ধার দেন। টাকা ফেরত চাওয়া নিয়ে বিরোধের জের ধরেই হত্যার পরিকল্পনা করা হয়।

জবানবন্দিতে নাজিম জানান, "৭ আগস্ট বেলা পৌনে তিনটার দিকে পরিকল্পনা অনুযায়ী ওয়াহেদকে মালগ্রাম এলাকায় আমাদের কর্মস্থলের একটি বেসরকারি সংস্থার কার্যালয়ে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে সন্ধ্যার দিকে কফির সঙ্গে বিষ মিশিয়ে তাকে পান করানো হয়। ওয়াহেদের মৃত্যু হলে রাতে তার লাশ বস্তায় ভরা হয়। পরে কার্যালয় থেকে কিছুটা দূরে মালগ্রাম মধ্যপাড়া দীঘিপাড় এলাকার একটি ধানখেতে লাশটি ফেলে রাখা হয়। এরপর নাজিম ও স্বপন সেই কার্যালয়েই রাত কাটান। পরদিন ৮ আগস্ট সকালে তারা চাকরি ছেড়ে নিজ নিজ বাড়িতে আত্মগোপনে চলে যান।"

ওয়াহেদ নিখোঁজ হওয়ার পর তার পরিবার বগুড়া সদর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে। নিখোঁজের পাঁচ দিন পর ১২ আগস্ট সকালে মালগ্রাম মধ্যপাড়া দীঘিপাড় এলাকার একটি ধানখেত থেকে বস্তাবন্দী অজ্ঞাতনামা লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। লাশটি অর্ধগলিত অবস্থায় থাকায় প্রথমে পরিচয় শনাক্ত করা যায়নি। পরে বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন করা হয়। এরপর ওয়াহেদের স্বজনরা লাশটি শনাক্ত করেন।