গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার জালালাবাদ ইউনিয়নের বড়ফা গ্রামে যৌতুকের দাবিতে পারিবারিক কলহের জেরে এক গৃহবধূকে মারধর করে জোরপূর্বক বিষ পান করানোর অভিযোগ উঠেছে তার স্বামী ও শ্বশুরের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় পুলিশ দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠিয়েছে।
গত ২৭ আগস্ট বৃহস্পতিবার রাতে ওই গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। বিষক্রিয়ায় অচেতন অবস্থায় তাকে প্রথমে গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য গোপালগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও সেখানেই ওই রাতে তার মৃত্যু হয়। পরদিন ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের লোকজনের কাছে লাশ তুলে দিয়ে দাফন করা হয়।
নিহত মুসলিমা খানম (আনুমানিক ৩০) বড়ফা গ্রামের তোবারক মোল্লার মেয়ে। ২০১৪ সালে একই গ্রামের নুরুজ্জামান মোল্লার ছেলে কুরবান মোল্লার সাথে পারিবারিকভাবে তার বিয়ে হয়। পরিবারের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের টাকার জন্য কুরবান তাকে শারীরিক নির্যাতন করত। বিভিন্ন সময়ে মুসলিমার পরিবার প্রায় পাঁচ লাখ টাকা দিয়েছে। ২০২২ সালে মুসলিমার মা মর্জিনা বেগম যৌতুক নিরোধ আইনে কুরবানের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেন। পরে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের হস্তক্ষেপে সালিসের মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসা করে তাকে স্বামীর বাড়িতে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। তবে কিছুদিন পর আবারও টাকার দাবিতে নির্যাতন শুরু হয় বলে পরিবারের দাবি।
গত ২৭ আগস্ট কুরবান ও তার পরিবারের সদস্যরা মুসলিমাকে মারধর করেন। একপর্যায়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়া মুসলিমার মুখে কুরবান ও তার বাবা নুরুজ্জামান জোর করে বিষ ঢেলে দেন। বিষক্রিয়ায় অচেতন হয়ে পড়লে তারা তাকে একটি ভ্যানে করে তার বাবার বাড়ির উঠানে ফেলে রেখে পালানোর চেষ্টা করেন। তাদের দৌড়ানোর সময় স্থানীয় রিকু মোল্লা, কিচমত মোল্লাসহ ১৫ থেকে ২০ জন তাদের আটকান। কেন তারা পালাচ্ছে জানতে চাইলে তারা কোনো যৌক্তিক উত্তর দিতে পারেননি। পরে মুসলিমাকে জোর করে বিষ খাওয়ানোর কথা তারা স্বীকার করেন বলে পরিবারের লোকজনের বক্তব্য।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে কুরবান ও নুরুজ্জামানকে থানায় নিয়ে যায়। এ ঘটনায় মুসলিমার মা মর্জিনা বেগম বাদী হয়ে গোপালগঞ্জ সদর থানায় কুরবান, নুরুজ্জামানসহ চারজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন।
গোপালগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম জানান, মামলাটি তদন্তাধীন। মামলায় কুরবান ও তার বাবা নুরুজ্জামান মোল্লাকে গ্রেপ্তারের পর আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মুসলিমা হত্যার বিচারের দাবিতে আজ শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে জালালাবাদ ইউনিয়নের চন্দ্রদিঘলিয়া-মধুমতি সড়কের বড়ফা নতুন বাজার এলাকায় মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে শতাধিক স্থানীয় বাসিন্দা অংশ নেন। মানববন্ধনে মুসলিমার মা মর্জিনা বেগম, ভাই জুয়েল মোল্লা, প্রতিবেশী কামরুল ইসলাম মোল্লা, ইকরাম সরদারসহ কয়েকজন বক্তব্য রাখেন।