বগুড়ায় একটি ঝালাই মেশিন চুরির অভিযোগে রিপন মুর্মু (২৭) নামের এক সাঁওতাল যুবককে পিটিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের প্রেক্ষিতে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে, যেখানে পাঁচজনের নাম নির্দিষ্ট করে উল্লেখ করা হয়েছে এবং আরও চার থেকে পাঁচজন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।
রোববার (১১ অক্টোবর) বিকেলে এই মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইব্রাহিম আলী।
থানা সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, শনিবার রাতে নিহত রিপনের বাবা মোসেজ মুর্মু তার ছেলের মৃত্যুর ঘটনায় এই মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে যে, ঝালাই মেশিন চুরির সন্দেহ করে রিপনকে নির্মমভাবে মারধর করে হত্যা করা হয়েছে।
মামলার এজাহার পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, নাম উল্লেখ করা আসামিদের মধ্যে রয়েছেন চাঁদপাড়া গ্রামের ঝালাই মেশিনের দোকানমালিক রেজাউল করিম এবং একই এলাকার আব্দুর রশিদের ছেলে আবু তালহা সেলিম।
নিহত রিপন মুর্মুর স্থায়ী ঠিকানা দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলার বেলোয়া বামনপাড়ায়। তার পরিবারের সদস্যদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত আট থেকে দশ বছর ধরে তিনি বগুড়া সদর উপজেলার চাঁদপাড়া এলাকায় আক্তার রহমান ডিউকের ইটভাটায় শ্রমিক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পাশাপাশি তিনি সেখানে নৈশপ্রহরীর দায়িত্বও পালন করতেন।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ অনুযায়ী, গত শুক্রবার সকাল ৯টার দিকে রেজাউল করিমের দোকান থেকে একটি ঝালাই মেশিন চুরি হয়েছে বলে সন্দেহ করা হয় এবং সেই অভিযোগে রিপনকে মারধর করা হয়। অভিযোগ রয়েছে যে, রেজাউল করিম ও সেলিম তাকে লাঠি দিয়ে প্রচণ্ড মারধর করেন। সেই সময় তার কাছে ২০ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করা হয় বলে জানা গেছে। পরবর্তীতে ওই দিন সন্ধ্যায় ইটভাটায় রিপনের থাকার ঘর থেকে তার নিথর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
আরও অভিযোগ উঠেছে যে, ঘটনার পর সেলিম একটি অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করে রিপনের মরদেহ তার গ্রামের বাড়িতে পাঠিয়ে দেন। তবে পরবর্তীতে পরিবারের সদস্যরা মরদেহটি পুনরায় বগুড়ায় নিয়ে আসেন।
এ ঘটনার তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্বপ্রাপ্ত বগুড়া সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আনিসুর রহমান জানিয়েছেন, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। তবে পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে।