পরিবেশবান্ধব আবাসন প্রকল্পের নির্মাণ প্রক্রিয়া এবং এর ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে কথা বলেছেন সিম্পলট্রির কর্ণধার গাজী জাহিদুল ইসলাম। তিনি জানান, সাধারণ আবাসন প্রকল্পের তুলনায় পরিবেশবান্ধব প্রকল্পগুলোর পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ ভিন্ন।

মুক্তকণ্ঠের সাথে আলাপকালে তিনি বলেন, “সিম্পলট্রির কাছে পরিবেশবান্ধব ভবন মানে শুধু গাছ লাগানো বা একটি সনদ অর্জন করা নয়। আমরা প্রকল্পের শুরু থেকেই নকশা, নির্মাণসামগ্রী, জ্বালানি ও পানি ব্যবস্থাপনা, প্রাকৃতিক আলো-বাতাস—সবকিছু একসঙ্গে বিবেচনা করি। পাশাপাশি কার্যকর নকশার ওপরও গুরুত্ব দিই, যাতে ভবনটি সুন্দর হওয়ার পাশাপাশি ব্যবহারিক ও স্বাচ্ছন্দ্যময় হয়।”

সিম্পলট্রির বিশেষত্বের কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, তারা একটি ৩৬০ ডিগ্রি বেজ ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি। এর অর্থ হলো, নকশা থেকে শুরু করে নির্মাণ এবং বাস্তবায়ন পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়াটি তাদের হাতেই থাকে। এমনকি ভবন হস্তান্তরের পর এর ব্যবস্থাপনাও তাদের নিজস্ব দক্ষ টিম ও সমন্বিত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে পরিচালিত হয়।

পরিবেশবান্ধব ভবন নির্মাণে ব্যয়ের বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে গাজী জাহিদুল ইসলাম জানান, এই ধরনের নির্মাণে প্রাথমিক বিনিয়োগ কিছুটা বেশি হতে পারে। তিনি বলেন, “পরিবেশবান্ধব ভবন নির্মাণে কিছু ক্ষেত্রে প্রাথমিক বিনিয়োগ তুলনামূলকভাবে বেশি হতে পারে। উন্নত মানের কাচ, জ্বালানিসাশ্রয়ী ব্যবস্থা, পানি ব্যবস্থাপনা, সবুজায়ন কিংবা পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির ব্যবহারে অতিরিক্ত ব্যয় হতে পারে। তবে খরচ কিছুটা বেশি হলেও পরিবেশবান্ধব ও টেকসই ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে আমরা আমাদের অঙ্গীকার থেকে সরে আসতে চাই না। কারণ, এটি শুধু বর্তমানের জন্য নয়, ভবিষ্যতের জন্যও একটি দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ।”

রাজধানী ঢাকায় এই ধরনের টেকসই প্রকল্প বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে তিনি বলেন, ঘনবসতিপূর্ণ এই শহরে জমির উচ্চমূল্য, নির্মাণ ব্যয় এবং ক্রেতাদের মূল্যসংবেদনশীলতার মতো বিষয়গুলো বড় বাধা। তবে তিনি বিশ্বাস করেন, সঠিক পরিকল্পনা থাকলে এটি সম্ভব। তার মতে, “ঢাকার মতো ঘনবসতিপূর্ণ শহরে পরিবেশবান্ধব ভবন নির্মাণ অবশ্যই চ্যালেঞ্জিং। জমির মূল্য, নির্মাণ ব্যয়, বিদ্যমান অবকাঠামো এবং ক্রেতাদের মূল্যসংবেদনশীলতা—সবকিছু বিবেচনা করতে হয়। তবে চ্যালেঞ্জিং হলেও এটি সম্ভব। আমাদের অভিজ্ঞতা হলো, প্রকল্পের শুরু থেকেই পরিবেশবান্ধব নকশা ও প্রযুক্তিকে পরিকল্পনার অংশ করা গেলে অনেক কিছুই বাস্তবায়ন করা যায়।”

সরকারের ভূমিকা প্রসঙ্গে তিনি পরামর্শ দেন যে, পরিবেশবান্ধব ভবনের জন্য করসুবিধা, কম সুদের ঋণ, দ্রুত অনুমোদন এবং নির্দিষ্ট ফি-তে ছাড়ের মতো প্রণোদনা দেওয়া যেতে পারে। পাশাপাশি সার্টিফিকেশন প্রক্রিয়াকে আরও সহজ ও কার্যকর করার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন তিনি।

ভবনের নান্দনিকতা ও আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্পর্কে তিনি জানান, শুরু থেকেই তাদের লক্ষ্য ছিল সৌন্দর্য এবং ব্যবহারিকতার মধ্যে ভারসাম্য রাখা। তিনি বলেন, “শুরু থেকেই আমাদের লক্ষ্য ছিল এমন ভবন তৈরি করা, যেখানে নান্দনিকতা ও ব্যবহারিকতার মধ্যে একটি ভারসাম্য থাকবে। আমরা মনে করি, একটি ভবন শুধু বাইরে থেকে সুন্দর হলেই যথেষ্ট নয়; এর প্রতিটি স্থান কীভাবে ব্যবহৃত হবে, সেখানে আলো-বাতাস কেমন থাকবে, মানুষের চলাচল কতটা স্বাচ্ছন্দ্যময় হবে—এসবও সমান গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণেই আমাদের নকশায় ফাংশনালিটি, প্রাকৃতিক আলো-বাতাস, খোলা জায়গা এবং উপকরণের নিজস্ব সৌন্দর্যকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। সময়ের সঙ্গে প্রযুক্তি ও মানুষের চাহিদা পরিবর্তিত হয়েছে, আমরাও আমাদের নকশা ও সুযোগ-সুবিধায় সেই পরিবর্তনগুলো গ্রহণ করেছি। আমাদের কাছে বিলাসিতা মানে শুধু বেশি সুযোগ-সুবিধা নয়; বরং ভালো পরিকল্পনা, স্বাচ্ছন্দ্যময় জীবনযাপন, গুণগত মান এবং দীর্ঘমেয়াদি ব্যবহারিক সুবিধার সমন্বয়।”

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে তিনি জানান, বর্তমানে তারা নির্দিষ্ট ক্রেতাশ্রেণির জন্য মানসম্মত আবাসিক ও বাণিজ্যিক প্রকল্প নিয়ে কাজ করছেন। তবে আগামী বছরগুলোতে তারা তাদের কার্যক্রমের পরিধি আরও বিস্তৃত করতে চান, যাতে আরও বৃহত্তর পরিসরে গ্রাহকদের চাহিদা ও জীবনযাপনের প্রয়োজন অনুযায়ী প্রকল্প তৈরি করা সম্ভব হয়।