যুক্তরাজ্যের ব্রুনেল ইউনিভার্সিটি থেকে প্রকৌশল বিদ্যায় স্নাতক সম্পন্ন করা এক তরুণের স্বপ্ন ছিল এমন একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা, যা স্থাপত্যশৈলী, নির্মাণের মান, গ্রাহকসেবা, অঙ্গীকার রক্ষা এবং নির্ভরযোগ্যতার ক্ষেত্রে ‘উৎকৃষ্ট’ হবে। সেই লক্ষ্য ও স্বপ্নকে সামনে রেখে ১৯৮৪ সালে যাত্রা শুরু করে রিয়েল এস্টেট প্রতিষ্ঠান বিল্ডিং টেকনোলজি অ্যান্ড আইডিয়াজের (বিটিআই)। দীর্ঘ চার দশকের পথচলায় প্রতিষ্ঠানটির সবচেয়ে বড় সাফল্য হিসেবে ধরা হচ্ছে গ্রাহকদের ‘সন্তুষ্টি’ অর্জনকে।

প্রতিষ্ঠার চার দশক পর এখন দেখা যাচ্ছে যে, প্রতিষ্ঠানটির সবচেয়ে বড় অর্জন হলো তাদের প্রকল্পগুলোর সময়মতো হস্তান্তর। তারা তাদের মোট প্রকল্পের ৯৫ শতাংশই নির্ধারিত সময়ের আগে অথবা ঠিক সময়ে গ্রাহকদের কাছে হস্তান্তর করতে সক্ষম হয়েছে।

প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা দাবি করেন, ‘বিটিআইয়ের গ্রাহকেরাই আমাদের সবচেয়ে বড় প্রচারমাধ্যম, চার দশক ধরে তাঁরাই আমাদের কথা বলে আসছেন।’ এই সাফল্যের মূল কারণ হিসেবে তারা উল্লেখ করেন যে, কেবল ফ্ল্যাট হস্তান্তর করেই বিটিআইর কর্মীদের দায়িত্ব শেষ হয় না। বরং বিক্রয়োত্তর সেবার জন্য তাদের দুটি বিশেষ বিভাগ নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। এর মধ্যে গ্রাহক সম্পর্ক বিভাগ (সিআরডি) হস্তান্তরের পর নির্দিষ্ট সেবার ধরন অনুযায়ী পাঁচ বছর পর্যন্ত সেবা প্রদান করে থাকে এবং প্রপার্টি সিকিউরিটি ম্যানেজমেন্ট (পিএসএম) বিভাগ আজীবন গ্রাহকদের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দেয়।

বিটিআই-এর কর্মকর্তারা জানান, মানসম্মত নির্মাণ এবং সময়মতো প্রকল্প হস্তান্তর করাই হলো তাদের ব্র্যান্ড প্রতিশ্রুতি। এই লক্ষ্য অর্জনের পেছনে রয়েছে সুপরিকল্পিত পরিকল্পনা, কারিগরি দক্ষতা, পেশাদারিত্ব, নিয়মিত প্রশিক্ষণ এবং প্রতিটি প্রকল্পের নিবিড় পর্যবেক্ষণ। নির্মাণ সামগ্রীর মান যাচাই থেকে শুরু করে কাজের অগ্রগতির তদারকি পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে কঠোর মানদণ্ড অনুসরণ করা হয়। তাঁদের মতে, সময়ানুবর্তিতা এবং গুণগত মান নিশ্চিত করা গ্রাহকদের প্রতি তাঁদের দায়বদ্ধতারই একটি অংশ।

নিরাপত্তার বিষয়েও প্রতিষ্ঠানটি অত্যন্ত কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছে। রাজউক ও বিএনবিসির নির্দেশনা মেনে প্রতিটি প্রকল্প নির্মাণ করা হয়, যেখানে অগ্নিনিরাপত্তা এবং ভূমিকম্পসহনশীল কাঠামোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। কর্মকর্তারা জানান, নির্মাণকালীন সময়ে শ্রমিক, ভবন, সমাজ এবং পরিবেশ—এই চার স্তরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়।

আবাসন ব্যবসার পাশাপাশি গ্রাহকদের বহুমুখী চাহিদা মেটাতে সেবার পরিধি আরও বিস্তৃত করেছে বিটিআই। বর্তমানে তাদের সেবার তালিকায় যুক্ত হয়েছে প্রপার্টি ব্রোকারেজ, বিটিআই বিল্ডিং প্রোডাক্টস, স্কয়ার ফিট স্টোরি এবং ল্যান্ডস্কেপিং। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি ‘ওয়েলনেস কমিউনিটিতে’ বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে।

বর্তমানে ঢাকার আদাবর, আফতাবনগর, বসুন্ধরা, ধানমন্ডি, গুলশান, নর্থ গুলশান, মিরপুর, বনানী ও উত্তরায় এবং চট্টগ্রামের নর্থ খুলশী, এস এস খালেদ রোড ও জালালাবাদ হাউজিং সোসাইটিতে বিটিআইয়ের বিভিন্ন প্রকল্প চলমান রয়েছে। এছাড়া ৩০০ ফিট এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে সংলগ্ন স্বর্ণালী আবাসনের ছয় বিঘা জমিতে ‘অ্যাকুয়ারেল’ নামে একটি নতুন প্রকল্প শুরু হতে যাচ্ছে। এই প্রকল্পের মূল পরিকল্পনা হলো পুরোনো দিনের উঠানসহ বাড়ির ধারণা এবং সব ঋতুর আমেজ পুনরায় ফিরিয়ে আনা।

বর্তমানের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি ভবিষ্যতের আবাসন ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক ও টেকসই করার লক্ষ্যেই কাজ করে যাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।