বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণের অভিজ্ঞতা নিয়ে যাত্রা শুরু করা ট্রপিক্যাল হোমস লিমিটেড বর্তমানে মালিবাগে তাদের আইকনিক প্রকল্প ‘টি এ টাওয়ার’ নির্মাণ করছে। দীর্ঘ ৩১ বছরের এই পথচলায় প্রতিষ্ঠানের বর্তমান অবস্থানে পৌঁছানোর পেছনে বিশেষ কিছু নীতিমালার কথা জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির শীর্ষ নেতৃত্ব।
প্রতিষ্ঠানের অগ্রগতির মূলমন্ত্র সম্পর্কে তানভীর রেজা বলেন, “আমাদের আজকের এই শক্তিশালী অবস্থানে আসার পেছনে মূলত দুটি মূল নীতি কাজ করেছে। প্রথমটি হলো ধারাবাহিকভাবে লেগে থাকা। এটি আমাদের কোম্পানির সাবেক চেয়ারম্যান, আমার বাবার শেখানো নীতি। প্রতিদিন প্রতিটি কাজের নিয়ম মেনে ফলোআপ করা এবং কোনো কাজে হাল না ছাড়ার প্রবৃত্তি আমরা অত্যন্ত কঠোরভাবে মেনে চলি। উনার সুস্পষ্ট শিক্ষা ছিল—সাফল্যের কোনো সহজ শর্টকাট বা সংক্ষিপ্ত পথ নেই। দ্বিতীয় নীতিটি হলো ধীর ও টেকসই অগ্রগতি। রাতারাতি একটি পর্যায়ে পৌঁছানোর জন্য আমরা কখনোই আগ্রাসী বিপণন মনোভাব দেখাইনি। ব্যবসা পরিচালনায় আগ্রাসী অবস্থান এড়িয়ে আমরা ধীরগতিতে একটি সুদৃঢ় ভিত্তি গড়ে তুলেছি। এই শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়েই আমরা মালিবাগের টি এ টাওয়ারের মতো বড় ও সাহসী প্রকল্পগুলো গ্রহণ করার আত্মবিশ্বাস পেয়েছি।”
গত এক দশকে ক্রেতাদের চাহিদার বিবর্তনের কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, গত ৮ থেকে ১০ বছরে ক্রেতাদের রুচি, গুণগত মান এবং নান্দনিক দৃষ্টিভঙ্গিতে বিশাল পরিবর্তন এসেছে। বিশ্বায়ন, সোশ্যাল মিডিয়া এবং বিদেশে ভ্রমণের ফলে ক্রেতারা এখন বিশ্বমানের স্থাপত্য সম্পর্কে অনেক বেশি সচেতন। তানভীর রেজার মতে, “তাঁরা এখন কেবল তিনটি বেডরুম ও ছোট বারান্দার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে চান না। তাঁরা ভবনের বাইরের নান্দনিক রূপ, ভেতরের পরিবেশ, পার্ক, ইনডোর গার্ডেন ও বড় ব্যালকনি চান, যেখানে বসে একটু চা খাওয়া যায়।” বাণিজ্যিক ক্রেতাদের ক্ষেত্রেও এই পরিবর্তন দৃশ্যমান। একজন মানুষ দিনে ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা অফিসে কাটান, তাই গুমোট ঘরের বদলে তাঁরা এখন কাচঘেরা আলো-বাতাসপূর্ণ সুন্দর পরিবেশ এবং ক্যাফেসহ আধুনিক কমার্শিয়াল স্পেস পছন্দ করছেন।
আবাসন খাতে আধুনিক প্রযুক্তির প্রয়োগ নিয়ে তিনি বলেন, “কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিশ্বজুড়ে সব খাতকে বদলে দিচ্ছে। আমরা আমাদের ইআরপি সফটওয়্যারের সঙ্গে এআই প্রযুক্তি যুক্ত করার পরিকল্পনা করছি।” তিনি আরও জানান, নির্মাণসামগ্রী যেমন লিফট, এস্কেলেটর বা সোর্সিংয়ের কাজে আগে যেখানে ৩০ দিন সময় লাগত, এআই প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে তা মাত্র দু-তিন দিনে নামিয়ে আনা সম্ভব। এতে সময় সাশ্রয়ের পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানের সার্বিক কাজের দক্ষতা ও উৎপাদনশীলতা বহুগুণ বাড়বে বলে তিনি মনে করেন।
মালিবাগে নির্মাণাধীন ‘টি এ টাওয়ার’ প্রকল্পের বিশেষত্ব বর্ণনা করতে গিয়ে তানভীর রেজা বলেন, মালিবাগ এলাকাটি মতিঝিল বা গুলশানের মতো বাণিজ্যিক জোন হিসেবে গড়ে না উঠলেও এ এলাকায় বিশ্বমানের ভবনের ঘাটতি ছিল। টি এ টাওয়ার মূলত একটি বহুমুখী ভবন। এখানে আন্তর্জাতিক মানের হাসপাতাল, শপিং সেন্টার ও আধুনিক অফিস স্পেস থাকছে। ভবনের ওপরের অংশে ঢাকা শহরের সুন্দর দৃশ্য দেখার সুবিধাসহ পাঁচ তারকা হোটেল থাকবে। এ ছাড়া সিনেমা হল, জিম, সুইমিংপুল, কিডস জোন, স্নুকার, কনফারেন্স রুম ও রেস্টুরেন্ট রাখা হয়েছে। মালিবাগে ফ্লাইওভার ও এক্সপ্রেসওয়ের কারণে যে নতুন যোগাযোগব্যবস্থা তৈরি হয়েছে, টি এ টাওয়ার সেন্ট্রাল ঢাকায় সেই ইতিবাচক পরিবর্তনে বড় মাত্রা যোগ করবে বলে তিনি আশাবাদী।
আবাসন খাতে ফ্ল্যাট বা বাণিজ্যিক স্পেসের দাম বাড়ার কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, অতিরিক্ত সুবিধা যোগ করলে কিছুটা নির্মাণ খরচ বাড়ে এবং সচেতন ক্রেতারাও তা গ্রহণ করেন। তবে দাম বাড়ার প্রধান কারণ হলো গত সাত-আট বছরে নির্মাণসামগ্রীর অনিয়ন্ত্রিত মূল্যবৃদ্ধি। তিনি উল্লেখ করেন, এই সময়ে জমির দাম মোটামুটি স্থির থাকলেও রড, সিমেন্টসহ কাঁচামালের দাম অতিরিক্ত বাড়ার কারণেই মূলত আবাসন খাতের সার্বিক খরচ বেড়েছে।