জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য জোবায়েদ হোসেন হত্যা মামলায় তিন আসামির জামিনের আবেদন খারিজ করেছেন আদালত। একই সাথে মামলার অভিযোগ গঠনের শুনানির জন্য আগামী ২৮ অক্টোবর তারিখ ধার্য করা হয়েছে।

রোববার ঢাকার ২০তম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারক মাজহারুল ইসলাম এই আদেশ প্রদান করেন। আদালতের সংশ্লিষ্ট বেঞ্চ সহকারী মাজেদুল ইসলাম তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন যে, রোববার মূলত মামলার অভিযোগ গঠনের শুনানির দিন নির্ধারিত ছিল। তবে আসামিপক্ষের আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত সময়ের আবেদন মঞ্জুর করেন। পাশাপাশি কারাগারে বন্দি থাকা তিন আসামির জামিনের আবেদন নাকচ করে দেওয়া হয়।

আদালত কর্তৃক জামিন প্রত্যাখ্যাত তিন আসামি হলেন— নিহত জোবায়েদের ছাত্রী বার্জিস শাবনাম বর্ষা (১৯), বর্ষার প্রেমিক মাহির রহমান (১৯) এবং মাহিরের বন্ধু ফারদীন আহম্মেদ আয়লান (২১)।

মামলার নথি ও দাখিলকৃত অভিযোগপত্র থেকে জানা গেছে, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থী জোবায়েদ হোসেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। গত বছরের ১৯ অক্টোবর পুরান ঢাকার আরমানিটোলার ১৫ নম্বর নূরবক্স লেনের ‘রৌশান ভিলা’ নামক একটি বাসায় এক ছাত্রীকে পড়াতে গিয়ে তিনি নির্মমভাবে খুন হন।

ঘটনার পরদিন নিহত জোবায়েদের বড় ভাই এনায়েত হোসেন সৈকত বাদী হয়ে বংশাল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘ প্রায় ৯ মাস তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনার পর গত ৩০ জুন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বংশাল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আশরাফ হোসেন আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন।

তদন্ত প্রতিবেদনের তথ্যানুযায়ী, এই হত্যাকাণ্ডটি কোনো আকস্মিক ঘটনা ছিল না। বরং প্রায় এক মাস ধরে সুপরিকল্পিতভাবে নজরদারি, ঘটনাস্থল রেকি এবং সঠিক সুযোগের অপেক্ষায় থেকে এই হত্যাকাণ্ডটি ঘটানো হয়। প্রেমের সম্পর্কের জটিলতা এবং অন্তরঙ্গ ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাই এই খুনের মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

তদন্ত কর্মকর্তার দেওয়া তথ্যমতে, এই হত্যাকাণ্ডের মূল হামলাকারী ছিলেন মাহির রহমান, পরিকল্পনাকারী ছিলেন বর্ষা এবং সহযোগী হিসেবে কাজ করেছেন আয়লান। বর্তমানে এই মামলার তিন আসামিই কারাগারে আটক রয়েছেন।