কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাহেদুল আলম জাহাঙ্গীর হত্যা মামলায় আরও দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন উপজেলা ছাত্রদলের বহিষ্কৃত আহ্বায়ক মোকাররম হোসেন খোকা এবং তার ভাতিজা মো. রিয়াজ।
শনিবার (১০ অক্টোবর) মিঠামইন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনোয়ার মোহাম্মদ এই গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার রাতে রাজধানীর মিরপুর-১০ এলাকা থেকে মোকাররম হোসেন খোকাকে আটক করা হয়। অন্যদিকে, নেত্রকোনা শহরের বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে তার ভাতিজা মো. রিয়াজকে গ্রেপ্তার করা হয়। এই গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে উক্ত হত্যা মামলায় মোট গ্রেপ্তারির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৫ জনে।
মিঠামইন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনোয়ার মোহাম্মদ জানান, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
ঘটনার সূত্রপাত গত ১৫ জুলাই। রাত ৯টার দিকে মিঠামইন বাজার থেকে মোটরসাইকেলে করে বাড়ি ফিরছিলেন জাহেদুল আলম জাহাঙ্গীর। তিনি যখন মিঠামইন সদরের বেড়িবাঁধ এলাকায় নিজ বাসভবনের সামনে পৌঁছান, তখন আগে থেকেই সেখানে ওত পেতে থাকা একদল দুর্বৃত্ত তাকে কুপিয়ে জখম করে। এই অতর্কিত হামলায় তার সঙ্গে থাকা বিএনপি কর্মী হাদিস মিয়াও কুপিয়ে আহত হন। গুরুতর আহত অবস্থায় স্বজনরা তাদের উদ্ধার করে মিঠামইন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান শেষে তাদের শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। তবে রাত ১১টার দিকে হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক জাহেদুল আলম জাহাঙ্গীরকে মৃত ঘোষণা করেন।
এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর ১৮ জুলাই নিহতের স্ত্রী তাসলিমা আক্তার চৌধুরী বাদী হয়ে মিঠামইন থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় তিনজনের নাম উল্লেখ করা হয় এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১২ জনকে আসামি করা হয়।
মামলা দায়েরের পর থেকেই পুলিশ তদন্ত শুরু করে এবং জড়িতদের শনাক্ত করতে কাজ করে। তদন্ত চলাকালীন বিভিন্ন তথ্যের ভিত্তিতে সন্দেহভাজনদের শনাক্ত করে অভিযান চালানো হয় এবং এর আগে ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। সর্বশেষ মোকাররম হোসেন খোকা ও তার ভাতিজা মো. রিয়াজকে গ্রেপ্তারের মাধ্যমে মোট ১৫ জন পুলিশি হেফাজতে এসেছেন।
উল্লেখ্য, এই হত্যাকাণ্ডে সম্পৃক্ততার অভিযোগ ওঠার পর মোকাররম হোসেন খোকাকে উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়কের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়। ঘটনার পর থেকেই তিনি আত্মগোপনে ছিলেন। তবে গ্রেপ্তারের আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে মোকাররম হোসেন খোকা এই হত্যাকাণ্ডে তার জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেন। ভিডিওতে তিনি দাবি করেন, একটি চক্র তাকে ফাঁসানোর উদ্দেশ্যে এই হত্যাকাণ্ডে তার নাম জড়িয়েছে।
চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডে ১৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হলেও হত্যার প্রকৃত কারণ এবং এই ঘটনায় কার কী ভূমিকা ছিল, তা এখনো পুরোপুরি স্পষ্ট হয়নি। পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ এবং নিবিড় তদন্তের মাধ্যমে এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটনের চেষ্টা চলছে।