১৪২ রানের লক্ষ্যটি খুব একটা বড় ছিল না। তবে শারজায় ভারতের সাবেক তারকা ক্রিকেটারদের সেই রানটুকুও তুলতে দিলেন না বাংলাদেশের সাবেক ক্রিকেটাররা। এনামুল হক জুনিয়রের অসাধারণ বোলিং নৈপুণ্যের ওপর ভর করে ৩ রানের এক শ্বাসরুদ্ধকর জয় তুলে নিয়েছে বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়নস। এই জয়ের মাধ্যমে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপ অব লিজেন্ডসে প্রথম জয়ের স্বাদ পেল দলটি।
রোববার (১১ অক্টোবর) শারজা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে মাহমুদউল্লাহর নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়নস আগে ব্যাট করে ৯ উইকেটে ১৪১ রান সংগ্রহ করে। জবাবে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৮ উইকেটে ১৩৮ রানেই থেমে যায় যুবরাজ সিংয়ের নেতৃত্বাধীন ভারত চ্যাম্পিয়নস।
রান তাড়ায় শুরু থেকেই বিপর্যয়ের মুখে পড়ে ভারত। প্রথম ওভারেই আম্বাতি রায়ডুকে আউট করে বাংলাদেশকে সাফল্য এনে দেন আবু জায়েদ। নিজের দ্বিতীয় ওভারেই স্টুয়ার্ট বিনিকেও ফিরিয়ে দেন তিনি। এরপর কামরুল ইসলাম রাব্বির বলে কোনো রান না করেই প্যাভিলিয়নে ফেরেন ভারতীয় অধিনায়ক যুবরাজ সিং। ষষ্ঠ ওভারের তৃতীয় বল পর্যন্ত ভারতের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৩ উইকেটে ২৭ রান।
রবিন উথাপ্পা মাত্র ৬ বলে ২ ছক্কায় ১৫ রান করে আক্রমণাত্মক ব্যাটিং শুরু করেছিলেন। তবে তাকে এলবিডব্লিউ করে ভারতের চতুর্থ উইকেটটি তুলে নেন রুবেল হোসেন।
এরপর বল হাতে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজের হাতে নেন এনামুল হক জুনিয়র। দশম ওভারে ইউসুফ পাঠানকে বোল্ড করে তার তাণ্ডব শুরু করেন তিনি। এরপর ১৫তম ওভারে একাই তুলে নেন তিনটি উইকেট। ওই ওভারের দ্বিতীয় বলে রিশি ধাওয়ানকে বোল্ড করেন এনামুল। চতুর্থ বলে একইভাবে ফেরান ইরফান পাঠানকে। ঠিক তার পরের বলেই অভিমন্যু মিঠুনকে ইমরুল কায়েসের ক্যাচে পরিণত করেন এই বাঁহাতি স্পিনার। মাত্র চার বলের ব্যবধানে তিন উইকেট হারিয়ে ৮ উইকেটে ৮৮ রানে নেমে আসে ভারত।
তবে সেখান থেকে ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করেন পবন নেগি ও পীযূষ চাওলা। নবম উইকেটে এই দুজনের অবিচ্ছিন্ন ৫০ রানের জুটিতে আবারও জয়ের আশা দেখতে শুরু করে ভারত। শেষ ওভারে জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ১২ রান।
কিন্তু শেষ ওভারে দুর্দান্ত বোলিং করেন আবু জায়েদ। নেগি ও চাওলাকে মাত্র ৮ রান দিয়ে সীমাবদ্ধ রাখেন তিনি। ফলে ৩ রানের নাটকীয় জয় নিয়ে মাঠ ছাড়েন বাংলাদেশের সাবেক ক্রিকেটাররা।
বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে সফল ছিলেন এনামুল। মাত্র ৩ ওভারে ১২ রান দিয়ে ৪ উইকেট নেন তিনি। আবু জায়েদ ৪ ওভারে একটি মেডেনসহ ২৬ রান দিয়ে নেন ২ উইকেট। এছাড়া রুবেল ও কামরুলের শিকার হয় একটি করে উইকেট।
এর আগে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে ঝোড়ো শুরু করেছিল বাংলাদেশ। রনি তালুকদারের আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে পাওয়ার প্লেতে ৪ উইকেট হারিয়েও ৫৭ রান তোলে দলটি। তবে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট পড়তে থাকায় খুব বড় সংগ্রহের পথে এগোতে পারেনি বাংলাদেশ।
২৫ বলে ৪টি চার ও ২টি ছক্কায় দলের সর্বোচ্চ ৪০ রান করেন রনি। অষ্টম ওভার শেষে ৫ উইকেটে ৬৮ রান হয়ে যাওয়ার পর ষষ্ঠ উইকেটে গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়েন নাসির হোসেন ও আরাফাত সানি। নাসির ২১ বলে ২৪ এবং আরাফাত ৩৮ বলে ৩৭ রান করেন। শেষ দিকে আবু জায়েদের ১০ রানের অবদানে বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়ায় ১৪১ রানে।