জমি লিখে না দিলে কবরে মাটি দিতে দেবেন না—এমন গুরুতর হুমকির অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন কৃষক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহদপ্তর সম্পাদক সুলায়মান হোসাইন। তাঁর দাবি, রাজনৈতিক ও সামাজিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার উদ্দেশ্যেই তাঁর বিরুদ্ধে এই ধরনের মিথ্যা অভিযোগ আনা হয়েছে।
আজ রোববার দুপুর একটার দিকে ফরিদপুর প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক ‘প্রতিবাদ সংবাদ সম্মেলনে’ এসব কথা জানান সুলায়মান হোসাইন। তিনি ফরিদপুর সদর উপজেলার গেরদা ইউনিয়নের নিখুরদি গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা।
ঘটনার সূত্রপাত গত বৃহস্পতিবার, যখন একই গ্রামের বাসিন্দা ৮২ বছর বয়সী আলতাফ হোসেন এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে সুলায়মানের বিরুদ্ধে জোরপূর্বক জমি লিখে নেওয়ার চেষ্টা, হয়রানি এবং হুমকির অভিযোগ উত্থাপন করেন। আলতাফ হোসেন তাঁর লিখিত বক্তব্যে দাবি করেছিলেন, “আমার বসতঘর থেকে সুলায়মানের বসতঘরের দূরত্ব ১০ ফুটের মতো। বাড়িতে এসেই রাতের বেলা আমার ঘরে ঢুকে সাদা কাগজে স্বাক্ষর দিতে বলে এবং বলে, “কাগজে সই করে দাও, নইলে মরলে কবরে মাটি দিতে দেব না”।”
এই অভিযোগের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে কৃষক দল নেতা সুলায়মান হোসাইন বলেন, কোনো সাদা কাগজে স্বাক্ষর নেওয়ার চেষ্টা করা হয়নি। তাঁর দাবি, স্থানীয় সালিসের মাধ্যমে সবার সম্মতিতে যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, কেবল সেই সিদ্ধান্তপত্রের ওপর স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে।
লিখিত বক্তব্যের মাধ্যমে সুলায়মান হোসাইন পাল্টা দাবি করেন যে, তাঁর বাবার মৃত্যুর পর পৈতৃক সম্পত্তি কৌশলে দখল করে নিয়েছিলেন প্রতিবেশী আলতাফ হোসেন। পারিবারিক সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, আলতাফ হোসেন ছিলেন তাঁর দাদা ইসমাইল হোসেনের আপন ভাই। পরবর্তীতে তাঁদের ওই জমি থেকে উচ্ছেদ করা হয়। সুলায়মানের দাবি, বিরোধপূর্ণ ওই জমি ১৯৯২ সালের ১১ জানুয়ারি তাঁর দাদা ইসমাইল হোসেন তাঁর বাবা ইয়াকুব আলীকে সাফ কবলামূলে দলিল করে দিয়েছিলেন। এরপরই পৈতৃক সেই জমি বুঝে নিতে গেলে দাদা আলতাফ হোসেনের পরিবারের সঙ্গে বিরোধের সূত্রপাত হয়।
অন্যদিকে, গত বৃহস্পতিবার আলতাফ হোসেনের দেওয়া নথিপত্রে দাবি করা হয়, বিরোধপূর্ণ জমিটি ১৯৯১ সালের ২৪ ডিসেম্বর সুলায়মান হোসেনের দাদা ইসমাইল হোসেন তাঁর কাছে বিক্রি করে দিয়েছিলেন, যার দলিল নম্বর ৬৭৪৫। ২০২৩ সালের ভূমি প্রতিরোধ আইনে দায়ের করা একটি মামলায় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) তদন্তে এই তথ্যের সত্যতা পাওয়া গেছে বলেও দাবি করা হয়।
পাল্টা সংবাদ সম্মেলনে সুলায়মান হোসাইন একটি সালিসের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, “পৈতৃক সম্পত্তি ফিরে পাওয়ার দাবিতে ২০২৫ সালের ২৩ জুন আমার বাড়িতে সংবাদ সম্মেলন করা হয়। ওই সময় সাংবাদিকদের সামনেই আমার এবং আমার পরিবারের ওপর হামলা চালিয়ে আহত করা হয়। পরবর্তীতে বিষয়টি নিয়ে ওই বছরের ১২ জুলাই সালিস মীমাংসা ডাকা হয়। যেখানে তাঁরা স্বেচ্ছায় গিয়েছিলেন এবং সালিসের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আমাকে ১৫ শতক জমি দখল বুঝিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয় এবং উভয় পক্ষই স্বাক্ষর করেন।”
সুলায়মান হোসাইন আরও অভিযোগ করেন, বিরোধপূর্ণ জমি নিয়ে আলতাফ হোসেনের ছেলে পুলিশের সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) ইউসুফ হোসেন নূর পুলিশ প্রশাসন ও আদালত প্রাঙ্গণে প্রভাব খাটিয়ে তাঁর ন্যায়বিচার পাওয়ার পথে বাধা সৃষ্টি করছেন। এছাড়া ভূমি প্রতিরোধ মামলায় পিবিআই তদন্তের সময় প্রভাব খাটিয়ে নিজেদের পক্ষে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) নেওয়া হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে ইউসুফ হোসেন নূর দাবি করেন, ওই সালিসে তাঁদের ধমক দিয়ে এবং ভয়ভীতি দেখিয়ে জোরপূর্বক সাদা কাগজে স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে। এই দাবির সপক্ষে তিনি গোপনে ধারণ করা একটি ভিডিও প্রদর্শন করেন।
উক্ত ভিডিওতে দেখা যায়, সালিস বৈঠকের এক কোণে বসে ছিলেন আলতাফ হোসেন ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা। এক পর্যায়ে তাঁদের সাদা কাগজে স্বাক্ষর করতে বলা হয় এবং বিষয়টি নিয়ে আদালতে যাওয়ার কথা উঠলে বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়। সেই সময় ইউসুফ হোসেন নূরকে এক ব্যক্তি ধমক দিতে থাকেন। ভিডিওর শেষে দেখা যায়, সাদা কাগজে উভয় পক্ষ এবং উপস্থিত ব্যক্তিদের স্বাক্ষর নেওয়া হচ্ছে।