মা ইলিশের নিরাপদ প্রজনন ও বংশবিস্তার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে চাঁদপুরের বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে প্রায় সাত কোটি টাকার অবৈধ জাল জব্দ করেছে বাংলাদেশ নৌবাহিনী। এই অভিযানের পাশাপাশি নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল ব্যবহার করে মা ইলিশ শিকারের অভিযোগে ১০ জন জেলেকে আটক করা হয়েছে।

রোববার (১১ অক্টোবর) সকাল থেকে চাঁদপুর জেলার আনন্দবাজার, দাশাদি খাল, শহর মালি, লালপুর, ৩ নম্বর কয়লা ঘাট, চাঁদপুর মোহনা, গাজীর টেক, মিয়ার বাজার, কানুদি ও আমিরাবাদসহ একাধিক এলাকায় এই অভিযান চালানো হয়। জব্দ করা জালগুলো পরবর্তীতে স্থানীয় প্রশাসন এবং মৎস্য কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে বিধি মোতাবেক ধ্বংস করা হয়।

নৌবাহিনীর দেওয়া তথ্যানুযায়ী, দায়িত্বপ্রাপ্ত এলাকাগুলোতে পরিচালিত বিভিন্ন অভিযানে এ পর্যন্ত মোট সাত লাখ ১৪ হাজার ৮৭০ মিটার অবৈধ জাল এবং অন্যান্য ২২টি জাল জব্দ করা হয়েছে। জব্দকৃত এসব জালের আনুমানিক বাজারমূল্য ধরা হয়েছে ছয় কোটি ৯৯ লাখ ৮৬ হাজার ৯০০ টাকা।

চাঁদপুর নৌবাহিনী কন্টিনজেন্টের কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কমান্ডার ফায়িজ কাফী জানান, “ইলিশের নির্বিঘ্ন প্রজনন নিশ্চিত করা, অবৈধভাবে মাছ আহরণ প্রতিরোধ এবং দেশের মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণে নৌবাহিনীর অভিযান অব্যাহত রয়েছে। প্রজনন মৌসুমে ইলিশ রক্ষায় সমুদ্র, উপকূলীয় অঞ্চল ও অভ্যন্তরীণ নদনদীতে নৌবাহিনীর সদস্যরা নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছেন।”

উল্লেখ্য যে, গত ৮ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান আগামী ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে। এই নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে ইলিশ আহরণ, পরিবহন, মজুত, ক্রয়-বিক্রয় ও বিনিময় সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে নৌবাহিনী সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতা কামনা করেছে।

অন্যদিকে, চাঁদপুরের মতলব উত্তরে মেঘনা নদীতে নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল দিয়ে মা ইলিশ শিকারের অভিযোগে ১০ জন জেলেকে আটক করেছে নৌপুলিশ।

মতলব উত্তর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা স্বপন চন্দ্র দে জানান, শনিবার রাতে নৌপুলিশ চাঁদপুর অঞ্চলের মোহনপুর নৌপুলিশ ফাঁড়ি ও মতলব উত্তর উপজেলা মৎস্য বিভাগের যৌথ অভিযানে জাল, নৌকা ও মাছ জব্দ এবং জেলেদের আটক করা হয়।

তিনি আরও জানান, মা ইলিশের নিরাপদ প্রজনন ও বংশবিস্তার নিশ্চিত করতে মেঘনা নদীতে এই অভিযান চালানো হয়। এ সময় অবৈধ কারেন্ট জাল ব্যবহার করে মা ইলিশ শিকারের অভিযোগে ১০ জেলেকে আটক করা হয়। তাদের কাছ থেকে দুটি কারেন্ট জাল, দুটি মাছ ধরার নৌকা এবং ৪০ কেজি মা ইলিশ জব্দ করা হয়েছে।

পরবর্তীতে মতলব উত্তর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদা কুলসুম মনি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন। আদালত সাত জেলেকে ২০ দিন করে কারাদণ্ড প্রদান করেন এবং একজনকে দুই হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেন। অপর দুই অপ্রাপ্তবয়স্ক জেলেকে মুচলেকার বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়া হয়।

কারাদণ্ডপ্রাপ্ত জেলেরা হলেন— রাসেল মৃধা, জীবন সরকার, মো. ইমরান, মো. লোকমান, জুয়েল, কাজল ও আবু সাঈদ। তারা মতলব উত্তর উপজেলার মোহনপুর, পাচানিসহ আশপাশের এলাকার বাসিন্দা।

সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা স্বপন চন্দ্র দে আরও জানান, কারাদণ্ডপ্রাপ্ত জেলেদের চাঁদপুর কারাগারে পাঠানো হয়েছে। জব্দ করা কারেন্ট জাল উন্মুক্ত স্থানে আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়েছে এবং জব্দ করা ইলিশ স্থানীয় মাদ্রাসা ও এতিমখানায় বিতরণ করা হয়েছে।