বরিশালের হিজলা উপজেলার মেঘনা নদীতে মা ইলিশ রক্ষার অভিযানে নিয়োজিত কোস্টগার্ড সদস্যদের ওপর হামলা চালানোর অভিযোগ উঠেছে জেলেদের বিরুদ্ধে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে এবং নিয়ন্ত্রণ আনতে কোস্টগার্ডের সদস্যরা ১০টি ফাঁকা গুলি ছোড়েন। এসময় মৎস্য বিভাগের কর্মকর্তাদের বহনকারী স্পিডবোটেও ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হয় বলে জানা গেছে। এই ঘটনায় দুই জেলেকে আটক করা হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটেছে গতকাল শুক্রবার বিকেলে হিজলার মেঘনা নদীর অন্তর্বাম এলাকায়। আটক হওয়া দুই জেলের নাম সালাহউদ্দিন চৌকিদার ও শাহ আলম। তাঁদের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে রাতে শুনানি শেষে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এবং হিজলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইলিয়াস সিকদার এই দণ্ড প্রদান করেন।
অভিযান চলাকালীন ঘটনাস্থল থেকে প্রায় দুই লাখ মিটার কারেন্ট জাল এবং পাঁচ কেজি ইলিশ জব্দ করা হয়। জব্দ করা জালগুলো পরবর্তীতে পুড়িয়ে ফেলা হয়।
হিজলা উপজেলা জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা মাহফুজুর রহমান মুক্তকণ্ঠকে বলেন, “গতকাল দুপুরের পর কয়েকটি ইঞ্জিনচালিত নৌকায় করে জেলেদের মাছ ধরতে দেখা যায়। তাঁদের বিরত রাখতে গেলে কয়েকটি নৌকায় লোকজন জড়ো করে কোস্টগার্ডের সদস্যদের ওপর হামলা চালায়।”
বিকেলে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মাহফুজুর রহমানের নেতৃত্বে নৌ পুলিশের সদস্যরা যখন ঘটনাস্থলে পৌঁছান, তখন পরিস্থিতি আরও জটিল হয়। তিনি জানান, “তখন তাঁদের বহনকারী স্পিডবোট লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছোড়েন জেলেরা। এতে স্পিডবোটটির সামনের কাচ ও হর্ন ক্ষতিগ্রস্ত হয়।” এরপর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কোস্টগার্ডের সদস্যরা ১০টি ফাঁকা গুলি ছোড়েন এবং ধাওয়া করে ইঞ্জিনচালিত নৌকাসহ দুই জেলেকে আটক করেন।
উল্লেখ্য যে, মা ইলিশ রক্ষায় গত বুধবার মধ্যরাত থেকে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়েছে, যা আগামী ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে। এই নির্দিষ্ট সময়ে নদী ও সাগরে ইলিশসহ সব ধরনের মাছ আহরণ, পরিবহন, বাজারজাতকরণ এবং মজুত করা সরকার নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে।
এই পুরো ঘটনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে হিজলার ইউএনও এবং কোস্টগার্ডের দক্ষিণ জোনের আঞ্চলিক কার্যালয়ের গণমাধ্যম বিভাগে বেশ কয়েকবার ফোন করা হলেও তাঁদের কাছ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।