ঝালকাঠির নলছিটিতে সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে নিষিদ্ধ পদ্ধতিতে ইলিশ শিকার করার দায়ে মো. মিরাজ সিকদার (৩৯) নামের এক জেলেকে ২১ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। এই অভিযানের সময় তার কাছ থেকে এক হাজার মিটার দীর্ঘ কারেন্ট জাল জব্দ করা হয়েছে।
শনিবার (১০ অক্টোবর) সকালে ‘মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান-২০২৬’-এর আওতায় সুগন্ধা নদীতে উপজেলা প্রশাসন এবং উপজেলা মৎস্য দপ্তরের একটি যৌথ অভিযান পরিচালিত হয়। সেই অভিযানের সময় তাকে আটক করা হয়।
প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, অভিযানের সময় অনুরাগের নিকটবর্তী শাকিল ব্রিক ফিল্ড সংলগ্ন নদী এলাকায় সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ইলিশ শিকারের চেষ্টা করছিলেন মিরাজ সিকদার। তাকে জালসহ হাতেনাতে আটক করা হয়। আটক ব্যক্তি নলছিটি উপজেলার দপদপিয়া ইউনিয়নের নরউত্তমপুর (তিমিরকাঠি) গ্রামের মো. লাল মিয়ার ছেলে বলে জানা গেছে।
পরবর্তীতে নলছিটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্রতীক কুমার কুণ্ডুর নেতৃত্বে একটি ভ্রাম্যমাণ আদালত গঠন করা হয়। সেখানে সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ইলিশ শিকারের অপরাধে তাকে ২১ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। দণ্ডপ্রাপ্ত মিরাজ সিকদারকে পরবর্তীতে আইনানুগ প্রক্রিয়ায় নলছিটি থানা পুলিশের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে।
নলছিটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্রতীক কুমার কুণ্ডু মুক্তকণ্ঠকে বলেন, “মা ইলিশের প্রজনন নির্বিঘ্ন রাখতে সরকার ঘোষিত ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে উপজেলা প্রশাসন ও মৎস্য দপ্তরের পক্ষ থেকে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ইলিশ শিকারের দায়ে আটক এক জেলেকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ২১ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। মা ইলিশ সংরক্ষণে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. এনামুল হক মুক্তকণ্ঠকে বলেন, “মা ইলিশের প্রজনন ও বংশবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে সরকার ঘোষিত ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা যথাযথভাবে বাস্তবায়নে মৎস্য বিভাগ কাজ করছে। এ সময় ইলিশ আহরণ, পরিবহন, মজুত ও বিক্রি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। নিষেধাজ্ঞা অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। মা ইলিশ রক্ষায় জেলেদের সচেতন হওয়ার পাশাপাশি সরকারি নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানাচ্ছি। ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধি ও মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।”