চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে নিখোঁজ হওয়ার মাত্র ১৩ ঘণ্টা পর হালিমা আকতার নামের তিন বছর বয়সী এক শিশুর নিথর দেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল শনিবার রাত নয়টার দিকে হালিমাদের প্রতিবেশী মুহাম্মদ আওয়ালের শোয়ার ঘরের আলনার তাকে কাপড় মোড়ানো অবস্থায় শিশুটির লাশ পাওয়া যায়। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, হালিমাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে।

নিহত শিশু হালিমা আক্তার ফটিকছড়ি উপজেলার ভূজপুর থানার দাঁতমারা ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের নিশ্চিন্তা গ্রামের বাসিন্দা। তিনি নাছির উদ্দিন ও রাশেদা আক্তার দম্পতির কন্যা। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নাছির উদ্দিনের সঙ্গে প্রতিবেশী মুহাম্মদ আওয়ালের দীর্ঘদিনের জমি নিয়ে বিরোধ ছিল। ধারণা করা হচ্ছে, সেই ব্যক্তিগত বিরোধের জের ধরেই এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি ঘটেছে।

এই ঘটনার পর পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মুহাম্মদ আওয়াল, তাঁর স্ত্রী আসমা আকতার এবং ছেলে মুহাম্মদ রবিউলকে গ্রেপ্তার করেছে। আজ রোববার সকালে নিহত শিশু হালিমার ময়নাতদন্তের জন্য লাশ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। পরবর্তীতে দুপুরে নিহত শিশুর বাবা মুহাম্মদ নাসির উদ্দিন বাদী হয়ে গ্রেপ্তার হওয়া তিনজনের বিরুদ্ধে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, শনিবার সকাল ৮টার দিকে বাড়ির উঠান থেকে হালিমা নিখোঁজ হয়। পরিবারের সদস্যরা আশপাশের এলাকা এবং প্রতিবেশীদের বাড়িতে ব্যাপক খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাননি। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে মসজিদের মাইকের মাধ্যমে শিশুটির নিখোঁজের খবর প্রচার করা হয়। অবশেষে বিকেল ৫টার দিকে পরিবারের সদস্যরা জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করে বিষয়টি পুলিশকে অবহিত করেন।

অভিযোগ পাওয়ার পরপরই ভূজপুর থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে তল্লাশি শুরু করে। দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর রাত ৯টার দিকে প্রতিবেশী মুহাম্মদ আওয়ালের শোয়ার কক্ষে কাপড় রাখার আলনার তাকে কাপড় মোড়ানো অবস্থায় হালিমার নিথর দেহটি পড়ে থাকতে দেখে পুলিশ।

সন্তান হারানোর শোকে ভেঙে পড়ে নিহত শিশুর বাবা মোহাম্মদ নাছির উদ্দীন বলেন, ‘সকাল থেকে আমার কলিজার টুকরো মেয়েটাকে কোথাও খুঁজে পাচ্ছিলাম না। চারদিকে কত খুঁজলাম। নিরুপায় হয়ে পুলিশকে জানাই। পুলিশ এসে খোঁজাখুঁজি করে আমার মা-মণির লাশ উদ্ধার করল পামের বাড়ি থেকে কাপড় মোড়ানো অবস্থায়। ও তো কোনো অন্যায় করেনি। কেন ওকে এভাবে মারা হলো।’

ভুজপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বিপুল চন্দ্র দে প্রথম আলোকে বলেন, “এ ঘটনায় শনিবার মামলা হয়েছে। মামলার এজাহারভুক্ত তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।” তিনি আরও জানান, আসামিদের সঙ্গে নিহত শিশুর বাবার জায়গা জমির বিরোধ রয়েছে। এর জেরে ধরে শিশুটিকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয় বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

পুলিশের হাটহাজারী ও ফটিকছড়ি সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এএসপি) মোহাম্মদ তারেক আজিজ প্রথম আলোকে বলেন, “মেয়ে শিশুটিকে কপালে আঘাত করে এবং শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। আসামিরা চেয়েছিল সকালে লাশ সরিয়ে নিতে। কিন্তু পুলিশের তৎপরতার কারণে পারেনি।”