চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির কাঞ্চননগর ইউনিয়নের ধুরুং খালের চরাঞ্চলে গত মঙ্গল ও বুধবার আকস্মিক পাহাড়ি ঢলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এতে প্রায় ১০০ হেক্টর জমিতে চাষ করা আগাম রবি ও শীতকালীন সবজি সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে। ফলে দুই শতাধিক কৃষক বড় ধরনের আর্থিক সংকটে পড়েছেন।
এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে বা নিজস্ব সঞ্চয়ে কৃষকরা ভালো দামের আশায় এই ফসল চাষ করেছিলেন। কিন্তু পাহাড়ি ঢলের তীব্র স্রোতে জমি ভেঙে যাওয়া এবং পলি জমে ফসল নষ্ট হওয়ায় তাদের স্বপ্ন ভেঙেছে। স্থানীয় কৃষক মো. রফিক জানান, তিনি কাঞ্চননগর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের পাল্লানপাড়া চরে ১২০ শতাংশ জমিতে শীতকালীন আগাম সবজি চাষ করেছিলেন। ধুরুং খালের দুপাড়ের এই চরে তার আবাদি জমি পুরোপুরি তলিয়ে গেছে। একইভাবে, ওই চরের কৃষক মখবুল আহমেদও প্রায় ১০০ শতাংশ জমিতে চাষ করা ফসল হারিয়ে বড় আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, মানিকপুর থেকে পাইন্দংয়ের বেড়াজালী পর্যন্ত ধুরুং খালের দুই পাড়ের চরাঞ্চলে এই ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো পরিদর্শন করে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবু সালেক বলেন, "ফটিকছড়ির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কৃষি অঞ্চল কাঞ্চননগর। এ অঞ্চলের কৃষকদের কষ্টে উৎপাদিত ফসল দেশের বিভিন্ন স্থানে সুপরিচিত। গত দুই দিনের ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে কাঞ্চননগরের মানিকপুর থেকে পাইন্দংয়ের বেড়াজালী পর্যন্ত প্রায় ১০০ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কোথাও কোথাও আগাম সবজি ও বিক্রয় উপযোগী ফসল পুরোপুরি বালির নিচে চাপা পড়ে গেছে। অনেক জমিতে ২ থেকে ৩ ফুট পর্যন্ত বালি জমে ফসল নষ্ট হয়েছে। এতে কৃষকেরা ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। প্রাথমিক হিসাবে এ অঞ্চনে কয়েক কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।"
ক্ষেত্র পর্যায়ে দেখা যায়, কোথাও পুরো সবজিখেত পানির নিচে, আবার কোথাও ঢলের স্রোতে জমি ভেঙে গেছে। অনেক জমিতে রোপণ করা চারাগাছের ওপর পুরু করে পলি জমেছে। কিছু খেতে কয়েক ফুট পর্যন্ত পলি জমে পুরো আবাদ চাপা পড়েছে। ফলশ্রুতিতে কৃষকদের মাসের পর মাসের শ্রম ও বিনিয়োগ বাজারজাত করার আগেই নষ্ট হয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক আশিষ দাস, আবু তাহের ও মো. হাসেম জানান, তারা ভালো লাভের আশায় বাড়তি খাজনা দিয়ে জমি লিজ নিয়েছিলেন এবং বড় অঙ্কের টাকা বিনিয়োগ করেছিলেন। ফসল ঘরে তোলার আগেই সব নষ্ট হওয়ায় এখন ঋণের কিস্তি ও জমির মালিককে খাজনা পরিশোধ নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তারা। তারা দ্রুত সরকারি সহায়তা ও প্রণোদনা পেলে ক্ষতি কাটিয়ে আবার চাষাবাদে ফিরতে পারবেন বলে আশা প্রকাশ করেন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবু সালেক আরও জানান, কৃষি অফিস ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা তৈরি করছে এবং তাদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা ও প্রণোদনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের প্রণোদনার আওতায় আনার আশ্বাস দিয়ে তিনি প্রয়োজনীয় কৃষি পরামর্শও দিয়েছেন।
অন্যদিকে, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাঈদ মুহাম্মদ ইব্রাহীম বলেন, "ফটিকছড়ির কৃষকেরা একের পর এক প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুখোমুখি হয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। গত দুই দিনের পাহাড়ি ঢলে কাঞ্চননগর এলাকার কয়েক শ কৃষকের আগাম সবজি চাষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পাশে দাঁড়াতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বিকভাবে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।"