চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলায় দুর্গাপূজার ঠিক আগেই একটি মন্দিরে চুরির ঘটনা ঘটেছে। এতে তিনটি ঘট এবং এর সাথে সংলগ্ন স্বর্ণালংকারসহ পূজার প্রয়োজনীয় সকল সামগ্রী লুট করা হয়েছে। একই সপ্তাহে এ অঞ্চলে আরও কয়েকটি চুরি-ডাকাতির ঘটনা ঘটায় স্থানীয়দের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে উপজেলার লেলাং ইউনিয়নের শাহনগর বণিকপাড়ার শ্রী শ্রী মঙ্গলচণ্ডী মন্দিরে এই চুরির ঘটনা ঘটে। মন্দির কমিটির তথ্য অনুযায়ী, রাতে দুর্বৃত্তরা মন্দিরের তালা ভেঙে বা অন্যভাবে ঢুকে পূজার বিভিন্ন সামগ্রী, তিনটি ঘট এবং ঘটের সাথে থাকা তিনটি স্বর্ণের চেইন ও তিনটি স্বর্ণের লকেট নিয়ে যায়। এছাড়া পরদিনের পূজার জন্য রাখা প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রও তারা লুট করে নিয়ে যায়।
মন্দির কমিটির সভাপতি ও পরিচালক বিশ্বনাথ ধর বলেন, "মন্দিরের পূজার সামগ্রী, তিনটি ঘট এবং ঘটের সঙ্গে থাকা তিনটি স্বর্ণের চেইন ও তিনটি স্বর্ণের লকেট চুরি হয়েছে। এসব স্বর্ণালংকারের ওজন আনুমানিক দুই থেকে আড়াই ভরি। এমনকি পরদিনের পূজার জন্য প্রয়োজনীয় সামগ্রীও চোরেরা রেখে যায়নি।"
উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের নেতা অমর কান্তি দে জানান, দুর্গাপূজার আগের দিন মন্দিরে চুরির ঘটনায় তাদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে বিচারের দাবি জানান।
ফটিকছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল আলম খান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ঘটনার তদন্ত চলছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলচণ্ডী মন্দিরে চুরির মাত্র এক সপ্তাহ আগে গত ২২ সেপ্টেম্বর একই এলাকার দারগ আলী তালুকদার বাড়ির ব্যবসায়ী আলমগীর হোসেন বাহাদুরের আলমারির তালা ভেঙে প্রায় সাড় ৮ ভরি স্বর্ণালংকার ও মালামাল লুট করা হয়।
এর আগের দিন, ২১ সেপ্টেম্বর সুন্দরপুর ইউনিয়নের পাঁচপুকুরিয়া ব্রাহ্মণ সড়কের শ্রী শ্রী মগধেশ্বরী মায়ের বিগ্রহ মন্দিরে একই স্টাইলে চুরি হয়। সে সময় তালা ভেঙে দেবদেবীর গহনা, পূজার সামগ্রী ও দানবাক্সের টাকা নিয়ে যায় চোরেরা।
এছাড়া ১৯ সেপ্টেম্বর রাতে পাইন্দং ইউনিয়নের যুগিনীঘাটা এলাকায় খোরশেদুল আলমের বাড়িতে দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটে। ডাকাতেরা পরিবারের সদস্যদের হাত-মুখ বেঁধে জিম্মি করে সাড়ে ১১ ভরি স্বর্ণালংকার, নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন লুট করে নিয়ে যায়।