চট্টগ্রাম নগরের সিটি গেট এলাকায় ব্যবসায়ী মো. আলমগীর মিয়ার বাসায় চুরির ঘটনায় পুলিশ সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে। তাদের কাছ থেকে চোরাই সোনা বিক্রির ১৫ লাখ ১১ হাজার ৮০০ টাকা, সাত ভরি স্বর্ণালংকারসহ বিভিন্ন মালামাল উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত টাকার বড় অংশ চালের ড্রামের ভেতর পলিথিনে মুড়ে বিশেষ কায়দায় লুকিয়ে রাখা ছিল।
শুক্রবার বিকেলে চট্টগ্রাম নগরের দামপাড়া পুলিশ লাইনসের সিএমপি কমিশনারের কার্যালয়ের নিচতলার মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান নগর পুলিশের উপকমিশনার (পশ্চিম) মো. আলমগীর হোসেন।
পুলিশ সূত্র জানায়, গত ২৮ জুলাই আকবর শাহ থানার আওতাধীন সিটি গেট এলাকায় আলমগীর মিয়ার বাসায় চুরি হয়। ওই দিন তিনি স্ত্রীকে নিয়ে একটি বেসরকারি হাসপাতালে যান। ঘরে চুরির খবর পেয়ে ফিরে দেখেন ঘরের জিনিসপত্র এলোমেলো এবং স্টিলের আলমারি খোলা। সেখান থেকে স্বর্ণালংকার, নগদ টাকা, সৌদি রিয়াল ও একটি আইফোন অপহৃত হয়। একই দিন তাঁর প্রতিবেশী নুরুল ইসলামের বাসা থেকেও টাকা, স্বর্ণালংকার ও একটি মুঠোফোন চুরি যায়। এই দুই ঘটনায় আলমগীর মিয়ার লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে ৩১ জুলাই আকবর শাহ থানায় মামলা দায়ের করা হয়।
মামলার তদন্ত শুরু করে পুলিশ গত ৬ আগস্ট থেকে ১৯ আগস্ট পর্যন্ত একাধিক অভিযান চালায়। এতে চোর চক্রের সাত সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন সেতু দাস (৪৩), জসিম উদ্দিন (৪৫), মোস্তাকিন হোসেন (৪৭), মোহাম্মদ আলী (৪৩), দেবব্রত বণিক (৩৭), মো. ইসমাইল (৩৩) ও ফারজানা বেগম (৩৮)। তাদের বাড়ি চট্টগ্রাম, ফেনী, নওগাঁ ও কুমিল্লার বিভিন্ন এলাকায় হলেও তারা চট্টগ্রাম নগরের বিভিন্ন স্থানে ভাসমানভাবে বসবাস করছিলেন।
তদন্তের একপর্যায়ে গ্রেপ্তার মোহাম্মদ আলীকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তাঁর দেওয়া তথ্য ও শনাক্তকৃত ঠিকানার ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাঁর বাসায় চালের ড্রামের ভেতর পলিথিনে মুড়ে লুকানো অবস্থায় চোরাই সোনা বিক্রির ১৫ লাখ ১১ হাজার ৮০০ টাকা উদ্ধার করা হয়। একই স্থান থেকে সোনা মাপার নিক্তি ও একটি স্যামসাং মুঠোফোনও জব্দ করা হয়।
পুলিশ জানায়, আলমগীর মিয়ার বাসা থেকে ১০ ভরি ৪ আনা স্বর্ণালংকার (প্রায় ২০ লাখ টাকা মূল্যের), নগদ ২ লাখ টাকা, ১২ হাজার ৫০০ সৌদি রিয়াল ও একটি আইফোন চুরি হয়। অন্যদিকে নুরুল ইসলামের বাসা থেকে ৬০ হাজার টাকা, ১ ভরি ৮ আনা স্বর্ণালংকার ও একটি মুঠোফোন অপহৃত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে নগর পুলিশের উপকমিশনার (পশ্চিম) মো. আলমগীর হোসেন বলেন, "মোহাম্মদ আলী ও ফারজানা বেগম আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। চক্রটির সঙ্গে জড়িত অন্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার এবং বাকি মালামাল উদ্ধারে অভিযান চলছে।"
বর্তমানে চক্রটির বাকি সদস্যদের শনাক্তকরণ ও অবশিষ্ট চোরাই মালামাল উদ্ধারে পুলিশের বিশেষ দল অভিযান পরিচালনা করছে।