ভিয়ারিয়ালের বিপক্ষে ম্যাচে গোল করে উদ্যাপনে মেতেছিলেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। সাইডলাইনে ছুটে গিয়ে সতীর্থদের সঙ্গে যোগ দিয়েছিলেন রিয়াল মাদ্রিদ কোচ হোসে মরিনিও। কিন্তু আনন্দটা বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারির (ভিএআর) পর্যালোচনায় বাতিল হয়ে যায় গোলটি। উল্টো আক্রমণে ওঠার সময় প্রতিপক্ষের এক খেলোয়াড়ের চুল টানার অপরাধে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয় ভিনিসিয়ুসকে। রেফারির সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ মরিনিও পরে ম্যাচ-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনেও হাজির হননি।
শনিবার রাতে সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে লা লিগার ম্যাচটি রিয়াল মাদ্রিদ জিতেছে ১-০ গোলে। তবে জয় ছাপিয়ে আলোচনায় ভিনিসিয়ুসের লাল কার্ড এবং মরিনিওর সংবাদ সম্মেলন বর্জনের ঘটনা। ম্যাচ শেষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে সতীর্থ ও সমর্থকদের কাছে ক্ষমাও চেয়েছেন ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড।
ম্যাচের ৫২ মিনিটে ট্রেন্ট আলেকজান্ডার-আর্নল্ডের বদলি হিসেবে মাঠে নামেন ভিনিসিয়ুস। তখন ম্যাচের স্কোরলাইন ছিল ০-০। ৬২ মিনিটে রিয়ালকে এগিয়ে দেন ১৯ বছর বয়সী ইয়ান দিওমান্দে। চলতি মৌসুমে যোগ দেওয়া আইভরিয়ানের এটি লিগে প্রথম গোল। অফসাইডের কারণে প্রথমে গোলটি বাতিল হলেও ভিএআরের পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত বদলান রেফারি।
এরপর ৭২ মিনিটে জুড বেলিংহামের পাস থেকে গোল করেন ভিনিসিয়ুস। গোল উদ্যাপনে খেলোয়াড়দের সঙ্গে যোগ দিতে সাইডলাইনে ছুটে যান মরিনিওও। কিন্তু গোলের আগমুহূর্তের ভিডিও পর্যালোচনায় দেখা যায়, বল নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার সময় ভিয়ারিয়ালের কানাডিয়ান ডিফেন্ডার নাথান সালিবার চুল টেনেছেন ভিনিসিয়ুস। গোলটি বাতিল করার পাশাপাশি তাঁকে সরাসরি লাল কার্ড দেখান রেফারি ইসিদ্রো দিয়াজ দে মেরা।
সিদ্ধান্তটি মেনে নিতে পারেননি ভিনিসিয়ুস। রেফারির দিকে তেড়ে যান তিনি। তাঁকে টেনে নিয়ে যান সতীর্থরা।
এ দিকে ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা যায় মরিনিওকেও। ম্যাচের পর আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকেরা বেশ কিছুক্ষণ অপেক্ষা করলেও মরিনিও যাননি। রিয়ালে দ্বিতীয় দফা কোচের দায়িত্ব নেওয়ার পর এই প্রথম আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলন এড়ালেন তিনি।
মার্কার প্রতিবেদনে বলা হয়, সংবাদ সম্মেলনে গেলে রেফারিং নিয়ে কিছু বলে নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকিতে পড়তে পারেন, এমন শঙ্কায় মরিনিও যাননি।
ভিনির লাল কার্ডে যে রিয়াল মাদ্রিদ বেশ ক্ষুব্ধ, সেটা ম্যাচের পর অরেলিয়েঁ চুয়ামেনির কথায় ফুটে উঠেছে। রিয়ালের এই ফরাসি মিডফিল্ডার মাদ্রিদ টিভিকে বলেন, ‘রেফারিং নিয়ে কী হচ্ছে, আমি বুঝতে পারছি না। এই লাল কার্ডের কারণও বুঝতে পারছি না।’
অন্যদিকে ভিয়ারিয়ালের ডিফেন্ডার হুয়ান ফয়েথ মনে করেন, ভিনিসিয়ুস কাউকে আঘাত করতে চাননি, কিন্তু লাল কার্ডের সিদ্ধান্তটি যথার্থ। আর্জেন্টাইন এই ফুটবলার বলেন, ‘আমার মনে হয় না কাউকে আঘাত করার উদ্দেশ্য ছিল তার। তবে এটা লাল কার্ড।’
ভিনিসিয়ুস অবশ্য বিষয়টি নিয়ে দুঃখপ্রকাশই করেছেন। ম্যাচের পর ইনস্টাগ্রামে তিনি লিখেছেন, ‘আনন্দটা অবশ্য রয়ে গেছে। আমার দল ও সমর্থকদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করছি।’
অবশ্য রেফারির ম্যাচ প্রতিবেদনে ভিনির মন খারাপই হতে পারে। সেখানে বলা হয়েছে, লাল কার্ড দেখানোর সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ভিনিসিয়ুস চিৎকার করে আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে রেফারির দিকে এগিয়ে যান, পরে সতীর্থরা তাঁকে থামান। এ ঘটনার জন্য ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ডের শাস্তি কী হবে, তা স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশনের শৃঙ্খলা কমিটির সিদ্ধান্তের পর জানা যাবে।
আন্তর্জাতিক ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন বোর্ডের (আইএফএবি) খেলার নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিপক্ষের চুল টানাকে সহিংস আচরণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তবে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে চলতি মৌসুম থেকে চুল টানার প্রতিটি ঘটনায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে লাল কার্ড না দেখিয়ে ঘটনার তীব্রতা ও খেলোয়াড়ের উদ্দেশ্য বিবেচনার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
১০ জনের রিয়াল শেষ পর্যন্ত ১-০ গোলে জিতলেও এখনো পয়েন্ট তালিকায় শীর্ষে থাকা বার্সেলোনার সঙ্গে ব্যবধানটা বড়ই। বার্সার পয়েন্ট ৮ ম্যাচে ২৪, রিয়ালের ১৮। ৮ ম্যাচে ১৯ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে আতলেতিকো মাদ্রিদ।
২৫ অক্টোবর বার্সেলোনার মাঠে এল ক্লাসিকোয় মুখোমুখি হবে দুই দল। তার আগে ১৮ অক্টোবর সেভিয়ার বিপক্ষে খেলবে রিয়াল।