প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়ের চুল টেনে লাল কার্ড দেখার পর সতীর্থ ও সমর্থকদের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন রিয়াল মাদ্রিদের ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। তবে এই ক্ষমা প্রার্থনা সত্ত্বেও শাস্তির শঙ্কা কাটছে না এই ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ডের। রেফারির ম্যাচ রিপোর্ট অনুযায়ী, তাকে দুই থেকে তিন ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হতে পারে। এর ফলে বার্সেলোনার বিপক্ষে মৌসুমের প্রথম এল ক্লাসিকোতে তার অংশগ্রহণ নিয়ে তৈরি হয়েছে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা।
শনিবার (১০ অক্টোবর) সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে ভিয়ারিয়ালের মুখোমুখি হয়েছিল রিয়াল মাদ্রিদ। ম্যাচে ১-০ গোলের জয় পায় রিয়াল। ইয়ান দিয়োমান্দের গোলে জয় পেলেও ম্যাচ শেষে আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দু হয়ে দাঁড়িয়েছেন ভিনিসিয়ুস। ম্যাচের ৫২ মিনিটে বদলি খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে নামা এই ব্রাজিলিয়ান তারকা মাত্র ২০ মিনিট পরেই সরাসরি লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন।
ম্যাচের ৭২ মিনিটে রিয়ালের দ্বিতীয় গোলটি করেছিলেন ভিনিসিয়ুস। তবে ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারির (ভিএআর) পর্যালোচনায় দেখা যায়, গোলের আক্রমণটি শুরুর মুহূর্তে ভিয়ারিয়ালের নাথান সালিবার চুল টেনেছিলেন তিনি। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে গোল বাতিলের পাশাপাশি রেফারি ইসিদ্রো দিয়াজ দে মেরা তাকে সরাসরি লাল কার্ড দেখান।
রেফারির এই সিদ্ধান্তটি মেনে নিতে পারেননি ভিনিসিয়ুস। মাঠেই তিনি রেফারির কাছে তীব্র প্রতিবাদ জানান। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে তাকে শান্ত করতে এগিয়ে আসতে হয় সতীর্থদেরও।
ম্যাচ শেষ হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে ক্ষমা চেয়েছেন এই ব্রাজিলিয়ান তারকা। সেখানে তিনি লিখেছেন, ‘আনন্দের ধারা অব্যাহত আছে... আমার দল ও সমর্থকদের কাছে ক্ষমা চাইছি।’
তবে ভিনিসিয়ুসের জন্য এখন সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তার কারণ সম্ভাব্য নিষেধাজ্ঞা। স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম কাদেনা সের জানিয়েছে, ম্যাচ শেষে রেফারির দেওয়া প্রতিবেদনে তার আচরণের বিস্তারিত বিবরণ দেওয়া হয়েছে।
প্রতিবেদনে রেফারি উল্লেখ করেছেন যে, বল খেলার মধ্যে থাকলেও সেটি দখলের লড়াইয়ে ছিলেন না ভিনিসিয়ুস ও সালিবা। এমন অবস্থায় প্রতিপক্ষের চুল টানার কারণে ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ডকে মাঠ থেকে বের করে দেওয়া হয়।
লাল কার্ড দেখার পরও ভিনিসিয়ুস উচ্চস্বরে সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ চালিয়ে যান বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। রেফারির ভাষ্য অনুযায়ী, ভিনিসিয়ুস আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে প্রতিবাদ করায় সতীর্থদের তাকে ধরে রাখতে হয়। তবে ব্রাজিলিয়ান তারকার মুখে নির্দিষ্ট কোনো আপত্তিকর মন্তব্য শুনতে পাননি তিনি।
স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশনের শৃঙ্খলাবিধির ১৩০ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, খেলার সঙ্গে সম্পর্কিত সহিংস আচরণের জন্য এক থেকে তিন ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা হতে পারে। তবে একই অনুচ্ছেদের দ্বিতীয় ধারায় বলা হয়েছে, বল দখলের লড়াইয়ের বাইরে কিংবা খেলা বন্ধ থাকা অবস্থায় এমন আচরণ করলে শাস্তির মেয়াদ হবে দুই থেকে তিন ম্যাচ।
রেফারির প্রতিবেদনে ভিনিসিয়ুসের অপরাধটি বল দখলের লড়াইয়ের বাইরে ঘটেছে বলে উল্লেখ থাকায় দ্বিতীয় ধারায় শাস্তি হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। কাদেনা সেরের রেফারি বিশ্লেষক ইতুরালদে গঞ্জালেসও জানিয়েছেন, দুই থেকে তিন ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা পেতে পারেন এই ব্রাজিলিয়ান তারকা।
যদি এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়, তবে রিয়ালের জন্য তা বড় ধাক্কা হবে। আগামী ১৮ অক্টোবর সেভিয়ার বিপক্ষে লিগ ম্যাচ খেলবে জোসে মরিনিয়োর দল। এরপর ২৫ অক্টোবর ক্যাম্প ন্যুতে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী বার্সেলোনার মুখোমুখি হবে তারা।
ভিনিসিয়ুসের নিষেধাজ্ঞা যদি দুই ম্যাচের হয়, তবে সেভিয়ার পাশাপাশি এল ক্লাসিকোতেও তাকে পাবে না রিয়াল। আর যদি তিন ম্যাচের শাস্তি হয়, তবে রেসিং সান্তান্দারের বিপক্ষে পরবর্তী লিগ ম্যাচটিও মিস করবেন তিনি।
তবে এখন পর্যন্ত ভিনিসিয়ুসের শাস্তি চূড়ান্ত করা হয়নি। স্প্যানিশ ফুটবলের শৃঙ্খলা কমিটির চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ।