রাজবাড়ীর পদ্মা নদীতে আয়োজিত ঐতিহাসিক নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতার শেষ দিনে চরম উত্তেজনা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। দুই প্রতিযোগি নৌকার মাঝিদের মধ্যে এই মারামারিতে অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষের এক পর্যায়ে ‘নিউ শাড়ির ভিটা’ নামের একটি নৌকা ডুবে যায়।

শনিবার (১০ অক্টোবর) সন্ধ্যায় রাজবাড়ী সদর উপজেলার পদ্মা নদীর বোলতার স্লুইসগেট এলাকায় এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি ঘটে।

আয়োজক কমিটির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তিন দিনব্যাপী এই নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতার শেষ দিনে ‘নিউ শাড়ির ভিটা’ এবং ‘নিউ জনতার সংগ্রাম’ নামের দুটি নৌকার মধ্যে লড়াই চলছিল। সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসায় নৌকা দুটি নির্ধারিত সীমানা থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার দূরে চলে যায়। সেই মুহূর্তে দুই নৌকার মাঝিদের মধ্যে তুমুল মারামারি শুরু হয় এবং একপর্যায়ে ‘নিউ শাড়ির ভিটা’ নৌকাটি ডুবে যায়।

‘নিউ শাড়ির ভিটা’ নৌকার মালিক তৈয়বুর রহমান তপন অভিযোগ করে বলেন, “প্রতিযোগিতায় তার নৌকাটি এগিয়ে ছিল। সীমানা পার হওয়ার পর প্রতিপক্ষের ‘নিউ জনতার সংগ্রাম’ নৌকাটি তাদের নৌকায় আঘাত করে। এরপর প্রতিপক্ষের মাঝিরা তার নৌকার মাঝিদের মারধর করেন। এতে নৌকাটি ডুবে যায়।” তিনি আরও দাবি করেন যে, তার নৌকার কয়েকজন মাঝির হাত-পা ভেঙে গেছে।

আয়োজক কমিটির পূর্বাঞ্চলের প্রধান মো. সিরাজ শিকদার জানান, সন্ধ্যা হয়ে যাওয়ার কারণে প্রতিযোগিতার নৌকা দুটি নির্ধারিত সীমানা থেকে দূরে চলে গিয়েছিল। সেখানে দুই নৌকার মাঝিদের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটে, যাতে অন্তত ১৪ জন আহত হন। পরবর্তীতে আয়োজক কমিটি এবং নৌ-পুলিশ যৌথভাবে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়।

তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, চাইলে প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্ব পরদিন দিনের আলোতেও আয়োজন করা যেত। তার মতে, সন্ধ্যা হয়ে যাওয়ায় এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

রাজবাড়ী ফায়ার সার্ভিসের দলনেতা মো. ফিরোজুল ইসলাম মুক্তকণ্ঠকে জানান, খবর পাওয়ার পরপরই ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহত ১৫ জনকে উদ্ধার করে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়।

রাজবাড়ী সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক সৈয়দ শফিক তমাল মুক্তকণ্ঠকে বলেন, “আহত ১৫ জন হাসপাতালে এসেছেন। তাদের কারও অবস্থা আশঙ্কাজনক নয়। তবে সবার শরীরেই আঘাত রয়েছে। কয়েকজনকে হাসপাতালে ভর্তি রাখা হয়েছে। অন্যদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হবে।”