যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউসের পরবর্তী প্রেস সেক্রেটারি হিসেবে কেটি জাকারাইয়াকে মনোনীত করেছেন। বর্তমানে তিনি ট্রাম্প মিডিয়া অ্যান্ড টেকনোলজি গ্রুপে কর্মরত আছেন। এই পদে আনুষ্ঠানিকভাবে নিয়োগ পেলে ডোনাল্ড ট্রাম্পের দুই মেয়াদে তিনি হবেন ষষ্ঠ প্রধান মুখপাত্র।

এর আগে কেটি জাকারাইয়া ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটির (ডিএইচএস) মুখপাত্র হিসেবে স্বল্প সময়ের জন্য দায়িত্ব পালন করেছেন। গতকাল শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প কেটিকে ‘অনুগত’ এবং ‘ম্যাগা বা মেক আমেরিকা গ্রেট অ্যাগেইন প্রচারণার একজন নিবেদিতপ্রাণ সমর্থক ও সদস্য’ হিসেবে অভিহিত করেন।

গত আগস্ট মাসে হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি পদ থেকে অব্যাহতি নিয়েছেন ক্যারোলাইন লেভিট। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, তিনি মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজে যোগ দিয়েছেন।

নতুন প্রেস সেক্রেটারি হিসেবে কেটির নাম ঘোষণা করে ট্রুথ সোশ্যালে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প লিখেছেন, ‘তিনি এর আগে আমার প্রচার কাজে যুক্ত ছিলেন। নির্বাচনে প্রধান প্রধান দোদুল্যমান অঙ্গরাজ্যগুলোয় ভূমিকা রেখেছেন। সাতটি অঙ্গরাজ্যের সাতটিতেই আমরা জিতেছি।’

ট্রাম্প আরও লিখেছেন, ‘আমি নিশ্চিত, হোয়াইট হাউসের পরবর্তী প্রেস সেক্রেটারি হিসেবে কেটি দেশের জন্য চমৎকার ফলাফল বয়ে আনবেন। কারণ, সংবাদমাধ্যম, মার্কিন জনগণ ও আমার প্রশাসনের কাছে যেমন তিনি শ্রদ্ধার পাত্র, তেমনি তাদের সবার সঙ্গেই তিনি অত্যন্ত চমৎকারভাবে কাজ করবেন’।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই মনোনয়নের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তাঁকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন কেটি। তিনি লিখেছেন, ‘দেশের ২৫০ বছরের ইতিহাসের এ গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও মার্কিন জনগণের সেবা করাটা আমার জীবনের এক পরম সম্মান।’

কেটি আরও উল্লেখ করেন, ‘ট্রাম্প আমেরিকাকে দেখিয়েছেন, আমরা আবারও মহান হয়ে উঠতে পারি। সেটাকে বাস্তবে রূপ দিতে তিনি প্রতিদিন কাজ করে যাচ্ছেন’। এছাড়া তিনি লিখেছেন, ‘হোয়াইট হাউসের প্রেস কোর এবং সারা দেশের সাংবাদিকদের সঙ্গে কাজ করার জন্য আমি মুখিয়ে আছি।’

৪২ বছর বয়সী কেটি জাকারাইয়া একজন অভিজ্ঞ রাজনৈতিক কৌশলবিদ এবং রক্ষণশীল ভাষ্যকার। তিনি নিউজম্যাক্স ও ফক্স নিউজে কাজ করার অভিজ্ঞতা সম্পন্ন। দীর্ঘকাল ধরে তিনি রিপাবলিকান পার্টির রাজনীতির সাথে যুক্ত রয়েছেন।

রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের শুরুতে কেটি রিপাবলিকান দলের জাতীয় কমিটিতে ইন্টার্ন হিসেবে কাজ করেন। এছাড়া ২০০৬ সালে প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশের শাসনামলে হোয়াইট হাউসের রাজনীতিবিষয়ক দপ্তরে তাঁর কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে।

গত জুনে তিনি ট্রাম্পের মিডিয়া কোম্পানি এবং ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে জ্যেষ্ঠ যোগাযোগ উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তাঁর লিংকডইন প্রোফাইলে এখনো এই পরিচয়টি দেওয়া আছে। এর আগে গত ফেব্রুয়ারি থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত তিনি ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটিতে (ডিএইচএস) কর্মরত ছিলেন।