চাকরির বাজারে সাধারণত প্রার্থীর কারিগরি দক্ষতা এবং পূর্ব অভিজ্ঞতাকেই নিয়োগের প্রধান মাপকাঠি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তবে সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়োগকর্তাদের একটি বড় অংশ প্রার্থীর ব্যক্তিত্ব এবং প্রথম সাক্ষাতের সময় তাঁর আচরণকে দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার চেয়েও বেশি গুরুত্ব প্রদান করেন।
যুক্তরাষ্ট্রের চাকরি ও নিয়োগ বিষয়ক প্রতিষ্ঠান এক্সপ্রেস এমপ্লয়মেন্ট প্রফেশনালস গত মে মাসে একটি জরিপ পরিচালনা করে। এই জরিপে অংশগ্রহণকারী ৯৪ শতাংশ নিয়োগকর্তা জানিয়েছেন, একজন প্রার্থীর ব্যক্তিত্বের প্রাথমিক বহিঃপ্রকাশ নিয়োগের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
জরিপে অংশ নেওয়া ৮৬ শতাংশ নিয়োগ ব্যবস্থাপকের মতে, প্রার্থীর ইতিবাচক ব্যক্তিত্ব তাঁর দক্ষতা বা অভিজ্ঞতার কিছু ঘাটতি অনেক সময় পুষিয়ে দিতে পারে।
এমনকি ৮৭ শতাংশ নিয়োগ ব্যবস্থাপক মনে করেন, একজন চাকরিপ্রার্থী প্রথমবার যোগাযোগ করার পরপরই তাঁরা অনেকটা বুঝতে পারেন, ওই ব্যক্তি প্রতিষ্ঠানে সফল হবেন কি না। অন্যদিকে, চাকরিপ্রার্থীদের মধ্যে ৬১ শতাংশও বিশ্বাস করেন যে, নিয়োগপ্রক্রিয়ার শুরুতেই নিয়োগকর্তার মনে এমন একটি ধারণা তৈরি হয়ে যায়।
এই কারণে প্রার্থীর সঙ্গে প্রথম যোগাযোগের সময় কেবল তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা বা কারিগরি দক্ষতাই যাচাই করা হয় না; বরং ছোটখাটো কথোপকথন, ই–মেইলের ভাষা ও ধরন, বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তরে ইতিবাচক বা নেতিবাচক মনোভাব এবং প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের সঙ্গে প্রার্থীর আচরণও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নেওয়া হয়।
এক্সপ্রেস এমপ্লয়মেন্ট ইন্টারন্যাশনালের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বব ফাঙ্ক বলেন, “একজন কর্মী শুধু তাঁর চাকরির দায়িত্বের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেন না। সঠিক ব্যক্তিত্বের একজন কর্মী সহকর্মীদের মধ্যে আস্থা তৈরি করতে এবং দলগত কাজের মান উন্নত করতে পারেন।”
ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের সাম্প্রতিক এক বিশ্লেষণেও চাকরির সাক্ষাৎকারে প্রথম ধারণার গুরুত্ব স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে। সেখানে বলা হয়েছে, চাকরিপ্রার্থী কীভাবে কথা বলেন এবং নিজেকে কীভাবে উপস্থাপন করেন, তা অনেক সময় তাঁর দক্ষতা ও কাজের অভিজ্ঞতার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কেও ছাপিয়ে যায়।
ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ব্রায়ান ডি সুইশার বলেন, “কারও সঙ্গে সাক্ষাতের প্রথম কয়েক মিনিটে যে ধারণা তৈরি হয়, এক মাস পরও ওই ব্যক্তিকে কীভাবে দেখা হবে, তার সঙ্গে সেই প্রথম ধারণার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকে।”
চাকরিপ্রার্থীদের সহায়তাকারী প্ল্যাটফর্ম কিকরিজুমের এক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, তাদের কিছু সফল ব্যবহারকারী প্রচলিত চাকরির আবেদনের পদ্ধতির বাইরে গিয়ে জীবনবৃত্তান্তে নিজেদের ব্যক্তিত্বের ছাপ রেখেছেন।
কিকরিজুমের এইচআর বিশেষজ্ঞ মার্তা রিহোভা বলেন, “ভালো জীবনবৃত্তান্তে এমন ভাষা থাকা দরকার, যা প্রার্থীকে একজন বাস্তব মানুষ হিসেবে তুলে ধরে।”
সার্বিকভাবে এটি স্পষ্ট যে, চাকরি পাওয়ার ক্ষেত্রে শুধু কী জানেন, সেটিই যথেষ্ট নয়; বরং কীভাবে নিজেকে উপস্থাপন করেন, কীভাবে কথা বলেন এবং অন্যদের সঙ্গে কীভাবে আচরণ করেন, সেটিও এখন সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।